Wednesday, September 19, 2012

"পাহাড়ী নারীর তিমিরাচ্ছন্ন জীবন এবং অনিশ্চিত পদচলা" - বনাম - "সেটেলার বাঙালীর আনন্দ উল্লাস এবং বিনোদন"




আমি এক পুরুষ । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বড় হয়েছি । পুরুষের পেশীর জোড় সম্পর্কে ভালো জানা আছে । নারী নির্যাতনের চিত্র মস্তিষ্কের স্মৃতিতে অনেক জমে আছে । পুরুষ হিসেবে এসবের দ্বায় এড়াচ্ছি না বরং, এক পুরুষ হিসেবে এসবের দ্বায় মাথা পেতে নিচ্ছি । আমাদের পাহাড়ের সমাজেও গুটিকয়েকভাবে নারী নির্যাতন চলতো তবে কখনো জঘন্য ছিল না । সবকিছুর পর এটা অস্বীকার করা যায় না অন্যসব পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মতো পাহাড়ী সমাজেও নারীদেরকে দূর্বল হিসেবে গণ্য করা হতো । তারপর ও, আদিবাসী পাহাড়ী জাতির ভাষাসমূহে 'ধর্ষণের' কোন প্রতিশব্দই ছিল না । তাই আগে যুবতী মেয়েরা ফ্রীলি দিন-রাত হেঁটে চলাফেলা করতো । নদী-পুকুর-খালে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে বিনা বাঁধায়, বিনা সমালোচনা অথবা কটুক্তিবিহীনভাবে স্নান করতো । কেউ কিছু বলতো না । আধুনিক বিশ্বায়ন যুগে সমাজ যেখানে সামনের দিকে এগুবে সেখানে পাহাড়ী সমাজকে ফিরে যেতে হচ্ছে অন্ধকার যুগে । হতে হচ্ছে কট্টোর রক্ষণশীল । পাহাড়ে যেসব বাঙালীদের সেটেলার বলা হয় তারা মূলত জিয়ার শাসনামল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ বসতি গড়ে তোলে । সেসব সেটেলাররা এখন পার্বত্য চট্রগ্রামে পাহাড়ী মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে । পাহাড়ীদের জায়গাজমি জোড়পূর্বকভাবে যেমন কেড়ে নিচ্ছে, চালাচ্ছে কাটো-পুড়াও তান্ডব অন্যদিকে পাহাড়ী নারীদের উপর চালাচ্ছে 'ধর্ষণের' মতো হীন প্রচেষ্টা । গত কয়েক বছরে সেটেলার বাঙালী কর্তৃক পাহাড়ী নারীর 'ধর্ষণের' হার যেহারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না; সুস্থ মস্তিষ্কের যে কেউ শিউরে উঠবে । আর এর সু-বিচার ও হচ্ছে না । এখানে শুধু ২০১২ সালে ঘটা ধর্ষণের ঘটনাসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার প্রয়াস বোধ করলাম । রিপোর্টগুলো "সিএইচটি নিউজ বাংলা" থেকে সংগৃহীত । 

_________________________________________________________________________

17. খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেটলার কতৃক এক পাহাড়ি তরুণী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। আজ ১ ফেব্রুয়ারী বুধবার সকাল আনুমানিক দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মঘাইছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তরুণীটি দুল্যাতলী ইউনিয়নের ডানে লক্ষ্মীছড়ি গ্রামের নরম্যা চাকমার মেয়ে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে তরুণীটি তার এক আত্মীয়ের সাথে নান্যাচর যাবার উদ্দেশ্যে লক্ষ্ণীছড়ি থেকে মোটর সাইকেল যোগে মানিকছড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে মঘাইছড়িতে তাদের মোটর সাইকেল থামিয়ে কয়েক জন সেটলার যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাস্তা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার ভিতরে নিয়ে গিয়ে চার সেটলার যুবক তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা তরুণীটিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পরে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে ১টি ক্লিপ, ১টি কালো রুমাল, ১টি কালো হেলমেট ও সাদা-নীল-হলুদ রঙের ১টি বয়লার(তোয়ালে) আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন। তারা তরুণীটিকে লক্ষ্ণীছড়িতে নিয়ে আসেন। এ সময় তরুণীটি চারজন সেটলার যুবক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে।

16. খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুইমারার অক্ষয়মনি কার্বারী পাড়া রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর এক পাহাড়ি (ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) স্কুল ছাত্রীকে (১১) সেটলার মো: হারুণ কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ জানুয়ারি সকালে এ ঘটনা ঘটে।

বিলম্বে পাওয়া খবরে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ওই স্কুল ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট শেষে ফেরার পথে একা পেয়ে মোটর সাইকেল চালক মো: হারুণ তাকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এতদিন প্রকাশ না হলেও গতকাল ৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনাটি প্রকাশ হলে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে হারুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন সংশোধনী আইন ২০০৩, ৯/১ ধারায় গুইমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-০১/২০১২, ৬/২/১২।

15. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ভোলাছোলা গ্রামের ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর এক পাহাড়ি স্কুল ছাত্রী বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে ভোলাছোলা গ্রামের থৈঅংগ্য মারমার মেয়ে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল ২৩ মার্চ শুক্রবার সকালে ওই স্কুল ছাত্রীটি কয়লা বিক্রি করতে ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চনপুরের চৌমুহনী বাজারে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে গর্জনখোলা নামক স্থানে এসে পৌঁছলে কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা মো: সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো: সাদ্দাম ও তার সঙ্গী মো: আনিস ওই স্কুল ছাত্রীকে একা পেয়ে ঝাপটে ধরে রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে।

14. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপছড়ি গ্রামে থোয়াইচাউ মারমার মেয়ে মাসিউ মারমা (২৫) স্বামী চিংহ্লাগ্য মারমা সেনাবাহিনী কর্তৃক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সেনা সদস্যরা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

জানা যায়, আজ ২৮ মার্চ বুধবার বেলা ২:৩০টার দিকে সিন্দুকছড়ি জোনের মেজর সাথাত এর নেতৃত্বে ২ পিকআপ আর্মি মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপছড়ি গ্রামে অপারেশনে যায়। সেখানে গিয়ে তারা থোয়াইচাউ মারমা (৫৬) পিতা মৃত চাইপ্রু মারমার বাড়ি ঘেরাও করে এবং বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। এ সময় থোয়াইচাউ মারমার মেয়ে মাসিউ মারমা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেনারা মাসিউ মারমার কাছ থেকে সন্ত্রাসীদের চিনো কিনা, তারা কোথায় থাকে ইত্যাদি হয়রানিমুলক জিজ্ঞাসা করে এবং সন্ত্রাসীদের দেখিয়ে দাও দেখিয়ে দিতে না পারলে তোমাকে বাঁশ ধোলাই দেবো বলে হুমকি দেয়। মাসিউ মারমা আমি কিছুই জানি না বলে উত্তর দিলে সেনারা তাকে বাঁশ দিয়ে কপালে আঘাত করে। এতে সে কপালে আঘাত পায়। এ সময় সেনারা মাসিউ মারমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও তাঁর এক আত্মীয় জানিয়েছেন।

13. খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের কিরণ মাষ্টার পাড়ায় ৩৫ বছরের এক প্রতিবন্ধী পাহাড়ি(ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) নারী সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ২৫ এপ্রিল ২০১২, বুধবার রাত সাড়ে সাতটায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিত হওয়া ওই নারী একজন বাক প্রতিবন্ধী।

জানা যায়, ঘটনার দিন ধর্ষিত হওয়া ওই নারী ১৯৫ নং বামা গোমতি মৌজার অপূর্ণ মহাজন পাড়া রেজি: প্রা: বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কিরণ ত্রিপুরার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এদিন কিরণ ত্রিপুরার শ্বশুর মারা যাওয়ায় ওই নারীকে বাড়িতে রেখে পরিবার-পরিজনসহ কিরণ ত্রিপুরা শ্বশুর বাড়িতে যান। এ সময় পাশ্ববর্তী পশ্চিম গরগরিয়া চৌদ্দগ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে অলি আহম্মদ ওরফে অলিয়া(৩৮) ও আব্দুল আজিজের ছেলে জিনাত আলী(৩৫) কিরণ মাষ্টারের বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। স্থানীয় এলাকাবাসী ধর্ষণকারীদের আটক করেছে বলে জানা গেছে।

12. রাঙামাটির লগদুতে সেটলার কর্তৃক এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ২৮ এপ্রিল শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, লংগদু উপজেলার ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জারুলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা কালা ধন চাকমার স্ত্রী আলপনা চাকমা(ডাক নাম চিবাচোগী) (৪৫) সকালে মিইনী দোর বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পথে দুপুর ১টার সময় চাকমা পাড়া ও বাঙালি পাড়ার মধ্যবর্তী নির্জন স্থান এরশাদ মাষ্টারের আম বাগানে এসে পৌঁছলে একা পেয়ে একদল সেটলার তাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে সেটলাররা মৃত ভেবে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিকালে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে। তার মাথায় এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে চারটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে লংগদু রাবেতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

11. রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার আটরকছড়া উল্টোছড়ি গ্রামের মৃত জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমার ১১ বছর বয়সী শিশু কন্যা সুজাতা চাকমাকে সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ পাত্তয়া গেছে। সুজাতা উল্টোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। আজ ৯ মে বুধবার বিকেল আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 সুজাতা চাকমা ছয় বছর বয়সী অপর এক শিশুকে নিয়ে গ্রাম থেকে আধ কিলোমিটার দূরে গরু চড়াতে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন দাড়িওলা বাঙালি হত্যাকারী ইব্রাহীমের এসে সুজাতাকে ধরে জোর করে সাদাছড়ার উপরের দিকে ধরে নিয়ে যায়। সে সময় সে দৌঁড়ে এসে গ্রামে খবর দেয়। তারপর গ্রামের লোকজন উদ্ধারে গেলেও ঘনটনাস্থলে পৌঁছার আগে ধর্ষণের পর হত্যাকারী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজাতার লাশ উদ্ধার করেছে।

10. দীঘিনালায় পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম (২৩) ওরফে জহির ড্রাইভার নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার কুমিল্লাটিলার মৃত উলা মিয়ার ছেলে। গতকাল বুধবার কুমিল্লাটিলা এলাকা থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।(খবর সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ১০ মে ২০১২)।

পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় উপজেলার পোমাংপাড়া (ত্রিপুরাপাড়া) গ্রামে অভিভাবকদের বাড়িতে না থাকার সুযোগে বাড়িতে ঢুকে জহিরুল ওই পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ছাত্রীটি চিৎকার দিলে জহিরুল পালিয়ে যায়।

9. রাঙামাটিতে সেটলার বাঙালি কর্তৃক এক পাহাড়ি নারী (২২) ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কল্পনা অপহরণের ১৬তম বার্ষিকীর দিন গতকাল ১২ জুন মঙ্গলবার  এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাঙাপানি গ্রামের বাসিন্দা ঐ নারী সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে  নিজ বাড়ি থেকে পাঁয়ে হেঁটে বনরূপায় যাচ্ছিলেন। যাবার পথে জেলা পরিষদের চিড়িয়াখানার পার্শ্ববর্তী স্থানে পৌঁছলে রেডিও সেন্টার এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান (২৫) তাকে একা পেয়ে ঝাপটিয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ঐ নারী চিৎকার দিলে আশে-পাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং নুরুজ্জামানকে ধরে ফেলে। পরে গণধোলাই দিয়ে নুরুজ্জামানকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী। ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার ঐ নারী নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

8. রাঙামাটির ভেদভেদী এলাকার উলু ছড়ায় বলি মিলা চাকমা (৩৫) নামে একজন পাহাড়ি নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে খবর পাওয়া গেছে। সে বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণ ছড়া ইউনিয়নের সুগরি পাদা ছড়া গ্রামের বাসিন্দা দুর্গ চাকমার স্ত্রী। আজ ৭ জুলাই শনিবার বিকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

সূত্র জানায়, বলি মিলা চাকমার মেয়ে ভেদভেদী এলাকার উলু ছড়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে রাঙামাটি শহরে পড়াশুনা করছে। তার মেয়েকে খবর নিতে এবং ডাক্তার দেখানোর জন্য বলি মিলা চাকমা রাঙামাটি শহরের ভিতর উলুছড়ির আত্মীয়ের বাড়িতে আসেন। আজ শনিবার বিকালের দিকে পানি আনতে সে পাশ্ববর্তী ছড়াতে যায়। দীর্ঘক্ষণ পরও বাড়িতে ফিরে না আসায়ে আত্মীয় বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজির পর ছড়ার  পাশের জঙ্গলে তার লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে গলাকাটা অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। কে বা কারা এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে, তাকে বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন।

7. খাগড়াছড়িতে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক পাহাড়ি ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে এপিবিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপিএড (ক্রীড়া) শিক্ষক কামাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এপিবিএন হাই স্কুলের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা যায়, গত ১১ মে, শুক্রবার সকালে শিক্ষক কামাল উদ্দিন তার নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর নাম করে মোবাইলে ফোন করে  হরিণাথ পাড়া থেকে ওই ছাত্রীকে ডেকে আনে। বাসায় তার স্ত্রী থাকায় কৌশলে তাকে স্থানীয় এমপি’র বাড়ি সংলগ্ন মিলনপুর (ওয়াপদা) এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকানে নিয়ে যায়। এ সময় সে ওই ছত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ছেলেরা ওই শিক্ষককে হতেনাতে ধরে ফেলে। ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগ পাওয়ার পর খাগড়াছড়ির পৌর মেয়র রফিকুল আলম খাগড়াছড়ি পৌর সভা সম্মেলন কক্ষে সালিশি বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, “আমার মেয়েকে ওই শিক্ষক মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানী করেছে।”

6. খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চতূর্থ শ্রেণীতে পড়ূয়া মারমা সম্প্রদায়ের এক মেয়ে শিশুকে(১২) জনৈক সেটলার কর্তৃক ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ১ আগষ্ট বুধবার দুপুর ২টার দিকে মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চেম্প্রুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া ঐ শিশুটি ২য় সাময়িক পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে ভাত খাওয়ার পর তুষ বিক্রি করতে তার থেকে কম বয়সী আরো দুই শিশু সহ পাঁয়ে হেঁটে বাটনাতলী বাজারে যাচ্ছিল। যাবার পথে এক সেটলার যুবক(১৮) তাদের পথরোধ করে এবং ঐ শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে সেটলার যুবকটি পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা থাকার পরও সে আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

5. খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলাধীন ৯ মাইলের তপন কার্বারী পাড়ার রণ বিকাশ ত্রিপুরার ১১ বছরের কিশোরী মেয়ে পুলিশ সদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ২১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ২:৩০টার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, দিঘীনালা উপজেলার ৯ মাইল এলাকার অটল টিলা পুলিশ ক্যাম্পের পূর্ব পাশে ঐ কিশোরীটি গরু চরাতে যায়। এ সময় একা পেয়ে ঐ ক্যাম্পের কনস্টেবল রাসেল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের আগে পুলিশ কনস্টেবলটি কিশোরীর ডান পায়ে ও ডান হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে কিশোরীটি এ ঘটনা তার মাকে খুলে বললে তার মা নিত্যবালা ত্রিপুরা ধর্ষণের শিকার ঐ কিশোরীকে সাথে নিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাম্পের দায়িত্বরত মো: শাহ আলমকে ঘটনাটি জানিয়ে বিচারের দাবি করে। শাহ আলম তাদেরকে ১,০০০(এক হাজার) টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এরপর নিত্যাবালা ত্রিপুরা তপন কার্বারী ও ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের কর্মীদের ঘটনাটি জানায়। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে পুলিশ ধর্ষণকারী কনস্টেবল রাসেলকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

4. খাগড়াছড়ি জেলার মাটরাঙ্গা উপজেলাধীন ১৯১ নং তাইন্দং মৌজার  হেডম্যান পাড়ায় আজ ২২ আগস্ট ২০১২, বুধবার দুপুর ২ টায় এক পাহাড়ি বৃদ্ধা নারীর লাশ পাওয়া গেছে। নিহত ওই নারীর নাম ফুল কুমারী ত্রিপুরা(৮২) স্বামী: কমলা কুমার ত্রিপুরা।  

জানা যায়, গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি ছড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে ওই নারী ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির পর তার লাশ খুঁজে পায়।  নিহতের শরীরের হাতে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। সেটলাররা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে গ্রামবাসীরা ধারণা করছেন।

3. খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতা ছড়া ইউনিয়নের কালাপানি গ্রামের ১২ বছরের এক পাহাড়ি কিশোরী বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঐ কিশোরী তার মায়ের সাথে ফটিকছড়ির দাঁতমারা বাজারে যায়। বাজার থেকে দুপুর ১টার দিকে সে তার মাকে বাজারে রেখে এসে একাই একটি ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল যোগে বাড়িতে ফিরছিল। ফেরার পথে বালুখালী নাসিয়া চা বাগানের নির্জন স্থানে এসে পৌঁছলে দাঁতমারা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে মোটর সাইকেল চালক মো: আলমগীর(২৫) তাকে মুখ চেপে ধরে জঙ্গলে টেনে নেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় খালেক নামে দাঁতমারা থেকে এক বাঁশ ব্যবসায়ী ও শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদেরকে দেখে ঐ কিশোরী চিৎকার দিলে মো: আলমগীর পালিয়ে যায়। পরে তারা ঐ কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

2. গত ৮ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজে পড়ুয়া এক পাহাড়ি কলেজ ছাত্রীকে সেনা সদস্য মো: আবু ইউসুফ ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ওই এলাকার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে বাড়ির বেড়া কেটে ছাত্রীদের ভাড়া বাসায় ঢোকেন। এ সময় তিনি এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরে সেখান থেকে তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। এই অবস্থায় ছাত্রীটির চিৎকারে তাঁর সহপাঠী ও আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আবু ইউসুফ পালিয়ে যান।

1. খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের নালকাটা গ্রামে এক পাহাড়ি নারী (২৫) সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

জানা যায়, আজ ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশ্ববর্তী টিলায় গরু আনতে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একই ইউনিয়নের উত্তর মিলনপুর গ্রামের মো: গফুর আলী পিসির ছেলে মো: আজাহার(২৫) পিছন দিক থেকে গিয়ে ঐ নারীকে হঠাৎ ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তার স্বামী অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে দিঘীনালা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

No comments:

Post a Comment