Monday, March 11, 2013

ব্যবসায়িক সফলতার পিছনে ছুটন্ত এক কিশোরের জীবন কাহিনী

"তুমি যদি ব্যবসা করতে চাও তাহলে তোমাকে শুধু আজ অথবা আগামী কালকের চিন্তা করার চাইতে আরো বেশি অগ্রমুখী চিন্তা করতে হবে ।"


আইত্থিপাট কুলাপনভানিচ, ডাক-নাম 'টব' স্কুলজীবনে যাকে তার শিক্ষকরা 'গুড ফর নাটিং' ছাত্র বলে চিনতো । ক্লাশে অমনোযোগী, যাকে আমাদের শিক্ষকরা সহজে 'গাধা' বলে ডাকে এমনই একজন । বর্তমানে থাইল্যান্ডের অন্যতম একজন ক্ষুদে ধনকুবের । ব্যবসায় তার জীবনের সার্থকতা । সঞ্চল, জেদী কিন্তু অভঙ্গুর স্বভাব তাকে সফলতার পিছনে ছুঁটিয়েছে ।

১৫- ১৬ বছরের বয়সে আমরা তখনো দৌঁড়াদৌঁড়ি ছাড়িনি । বাবা-মার পরনির্ভরশীল সন্তান হয়ে কলেজে পড়ছি, যা বেশিরভাগ সন্তানই এই ১৬ বয়সে এমন পরনির্ভরশীল হয়ে স্বনির্ভরশীল হওয়ার কথা ভাবতেই পারে না । এই বয়সে টবের জীবন ছিলো অন্যরকম । পাঠ্যবইয়ে অমনোযোগী হলে ও অর্থ আয়ের বাসনা তাকে প্রতিনিয়ত তাড়া করে । সে অনলাইন ভিডিও গেইম এ আসক্ত হয়ে পড়ে । টুর্নামেন্ট জিতে সে প্রতিমাসে ৪ লক্ষ বাত (আনুমানিক ১০ লক্ষ টাকার সমমান) অনলাইন গেইম থেকে আয় করতো ।

একদিন হাইস্কুলে হঠাৎ একটা আকাশী রংয়ের মোটর গাড়ী নিয়ে হাজির হলে ক্লাশমেটরা চমকে যায় । কিন্তু রহস্য আদৌ গোপন থেকে যায় । অনেকেই মনে করেছে বাবার টাকা দিয়ে সে গাড়ীটি কিনেছে । তারপরের বছর কোনমতে হাইস্কুল শেষ করলে ও হাইস্কুলের মার্ক নিম্নমানের ছিলো বিধায় কোন পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয় । ছেলের অধপতন দেখে বাবা ভীষন রেগে যায় । টব তার বাবাকে বলে দেয় নিজের অর্জিত আয় দিয়ে সে কোন এক প্রাইভেত ইউনিভার্সিটিতে পড়বে । তাই হলো । তখন তার বয়স সতেরো (১৭) । ভার্সিটিতে রীতিমতো ক্লাশ না করে সারাদিন ভিডিও গেইম নিয়ে পড়ে থাকতো । এমনই সময় বাবার কোম্পানি অর্থনৈতিকভাবে দেউলিয়া হয়ে পড়ে । কাকতালিয়ভাবে টবের ভিডিও গেইমের একাউন্ট ও জব্দ হয়ে যায় । তখন টবের বয়স ১৮ বছর । শুরু করে বাজারের দোকানে দোকানে ঘুরা এবং বিভিন্ন জিনিসের দাম, ব্যবহার, বেচাবিক্রি নিয়ে প্রশ্ন করা ।

একবার ৫০ টি ভিসিডি প্লেয়ার কিনে এনে লোকসান দেয় । বাবা হতাশ হয়ে গালাগালি করে । তারপর এক মেলা থেকে কিনে আনে এক বাদাম ভাজি করার মেশিন । তার মামাকে নিয়ে লোকেশনের জন্য বিভিন্ন শপিং মলের সামনে ঘুরাফেরা, দর কষাকষি করে । এভাবে তার বাদাম ব্যবসা (যা বর্তমানে অন্যতম জনপ্রিয় এক ব্যবসা) সফল পেতে থাকে । বাবা ব্যাংক থেকে ৪০ মিলিয়ন বাত ঋণের বদলে পরিবারের সুন্দর বাড়িটি নিলামে দেয় এবং পরে স্থায়ী বসবাসের জন্য চীনে চলে যায় । সেখানে টবের এক বড়বোন এবং ভাই চাকুরী করতো । টব থেকে যায় এক বয়ষ্ক মামার সঙ্গে । বাবার রেখে যাওয়া ৪০ মিলিয়ন ঋণের কথা থাকে অস্থির করে তোলে । বাদাম ব্যবসা ভালো চললে ও এতো বড় মাপিক ৪০ মিলিয়ন ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয় । তাই সে অন্য এক ব্যবসার কথা চিন্তা করে । একদিন তার প্রেমিকাকে সীভীড (সমুদ্র - শৈবাল) খেতে দেখে মনে সীভীডের ব্যবসা চলে আসে । বাজার থেকে কয়েক শত ব্যাগ সীভীড এনে মামাকে নিয়ে ভাজি করতে করতে দুজনই ক্লান্ত হয়ে পড়ে কিন্তু ভালো ভাজতে পারলো না; লোকসান গেলো । এভাবে লোকসান যেতে শুরু । অন্যদিকে তার ভালোবাসার মানুষটি সবকিছু ছেড়ে ভালো পড়াশোনা করার জন্য চাপ দিতে থাকে । কঠিন ভালোবাসার মান, অভিমান শুরু হয় । প্রতিদিন ক্লাশের নোটগুলো ফটোকপি করে টবকে দিয়ে আসতো সে । টবের বর্তমান এবং ভবিষ্যত নিয়ে জানতে চায় প্রেমিকা । টব উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতো । তাতে প্রেমিকা ভুল বুঝে টবকে ছেড়ে চলে যায় ।



টব আরো বেশি একাকী এবং নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ে । স্কাইট্রেনে একদিন তার প্রেমিকাকে অন্য এক ছেলের হাত ধরে চলে যেতে দেখলে সে প্রতিজ্ঞা করে ব্যবসায় তাকে সফল হতে হবে । সুন্দর গাড়ীটি শেষ সম্বল হিসেবে বিক্রি করে দেয় । ব্যাংকে দারস্ত হয় লোনের জন্য । ব্যাংক এমন ছোট বয়সী তাছাড়া বাবার রেখে যাওয়া ঋণের জন্য নতুন লোন দিতে অপারগতা দেখায় । পরে এমন সময় ভার্সিটির এক শিক্ষকের রেকর্ড করা ব্যবসায়িক লেকচার মনোযোগ দিয়ে শুনতে শুনতে উদ্ভাবনমূলক নতুন এক ব্যবসায়ী আইডিয়া উদয় হয় । সামনে ৭-ইলেভেন মিনি স্টোর । ভাবে কোন এক প্রডাক্ট যদি এই ৭-ইলেভেনে সাপ্লাই দেয়া যায় তাহলে সারাদেশে ৩,০০০ ব্রাঞ্চে সে সাপ্লাই দিতে পারবে । ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করে ৭-ইলেভেনের হেড অফিসে এক এপয়েন্টমেন্ট নিয়ে ডাইরেক্টরের সাথে দেখা করে । তার প্রডাক্ট সেদিন ডিসকোয়ালিফাইড হলে সে আরো বেশি ভেঙ্গে পড়ে । একবিকেলে চাইনাতে মাকে ফোন করে সব জানায় । মা কান্না করতে করতে বলে সবকিছু ছেড়ে চলে এসো এখানে । টব তার মাকে বলে, মা চিন্তা করো না দেখো একদিন আমি সব ঋণ পরিশোধ করে তোমাদের দেশে ফেরিয়ে নিয়ে আনবো ।

নিজের সীভীডকে উন্নতমানের প্রডাক্ট বানানোর লক্ষ্য ফুড প্রোসেসিং ডিপার্টমেন্টে এক প্রফেসরের সাথে দেখা করে । তারপর প্যাকেজিং নিয়ে ভালো জ্ঞান হলে তার বাবার অন্য এক পুরান ঘরে ফ্যাক্টরি বানিয়ে ৭-ইলেভেনের টিমকে ইনভেস্টিগেট করতে আহ্বান জানায় । সেদিন তার সীভীড কোম্পানিকে এপ্রোভড করে ৭৩,০০০ প্যাকেট সীভীড অর্ডার দেয়া হয় । ব্যাংক থেকে ১০ মিলিয়নের লোন এপ্রোভড হয় । সে লোন দিয়ে কোম্পানিকে আরো বৃদ্ধি করে । টবের বয়স তখন ১৯ (উনিশ) । এভাবে ব্যবসায়ের জীবনে সার্থকতা চলে আসে । সেবারের মতো প্রথম বছরে তার ইনকাম হয় ৮০০ মিলিয়ন বাত, তার সীভীড প্রোডাক্ট চলে ৭-ইলেভেনের ৩,০০০ টি ব্রাঞ্চ । এবং বাবার ব্যাংকে কাছে রেখে যাওয়া ৪০ মিলিয়ন ঋণ পরিশোধ করে মাকে দেশে আসার জন্য ডেকে পাঠায় ।   ২,০০০ কর্মচারী কাজ করে তার ‘Tao Kae Noi’ কোম্পানিতে । এশিয়া বাদে ও বিভিন্ন দেশ কোরিয়া, জাপান, তাইওয়ান, আমেরিকাতে তার প্রডাক্ট সীভীড এক্সপোর্ড করে ২০১২ সালে ২ বিলিয়ন বাত আয় হয় ।

বর্তমানে তার বয়স ২৭ বছর । মাকে নিয়ে সেই পুরাতন বাড়িতে বসবাস করছে ।

“We must not be shy to ask questions about things that we don’t know. Don’t be shy about knowledge. My strategies for success are very simple. First strategy is ‘to ask’, the second is also ‘to ask’ and then ‘to ask’. It’s as simple as that.”

তার বাস্তব জীবনের কাহিনী নিয়ে এক মুভি ও বানানো হয়েছে ।

http://www.youtube.com/watch?v=oGLSpomC5C4

নৈতিকতার বিপর্যয় অস্তিত্বের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি

একটি সমাজকে ধ্বংস করতে হলে 'নৈতিকভাবে অবক্ষয়' ঘটাতে হয় । নৈতিকতাহীন সমাজে অরাজকতা বিরাজমান, মানবিক গুনাগুন জীর্ণ । এভাবে বুদ্ধিদীপ্ত জ্ঞানের ক্ষয় ঘটে । সমাজের মানুষগুলো ভালোমন্দ যাচাই করার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে । ফলে বিপদগামীতার দিকে হতাশাকে জড়িয়ে ধরে ছুঁটে ।

একসময় এমনই ঘটেছিল পুরাতন বৈশালি নগরে । বৈশালি ছিল বজ্জীদের রাজধানী । বজ্জীরা মূলত তিন গোষ্ঠিতে বিভক্ত ছিল - লিচ্ছবি, মল্ল এবং শাক্য । তাবৎ বিশ্বে বৈশালি ছিল পুরাতন সমৃদ্ধ প্রজাতন্ত্র নগরগুলোর অন্যতম একটি । অজাতশত্রু বারবার আক্রমণ করা স্বত্তে ও জয়ী হতে না পারায় একদিন তার একমন্ত্রীকে গৌতম বুদ্ধের কাছে পাঠিয়ে ছিলেন । গৌতম বুদ্ধ রাজা অজাতশত্রুর মন্ত্রী ভস্সাকরকে বলেছিলেন যতদিন পর্যন্ত বর্জ্জীরা সাতটি অপরিহার্য নিয়মনীতি পালন করবে ততদিন তারা অপরাজেয় হয়ে থাকবে । সেগুলো;

     ১. মতামত ও পরামর্শের জন্য ঘন ঘন মিটিং,
     ২. কাজের মধ্যে ঐক্য,
     ৩. বিচারের হুকুম ও ঐতিহ্যের প্রতি আনুগত্য,
     ৪. গুরুজনের প্রতি সম্মান,
     ৫. নারীদের প্রতি সম্মান ও নারীত্ব রক্ষা,
     ৬. ঐতিহাসিক স্থান গুলোর পবিত্রতা রক্ষা, এবং
     ৭. জ্ঞানী গুণী ব্যক্তিদের সুরক্ষা

তবুও একদিন অজাতশত্রু চক্রান্তে অবতীর্ণ হয়ে বজ্জীবাসীদের মধ্যে ঐক্যতাকে ধ্বংস করে দেয় । একে অপরের প্রতি বিশ্বাসকে অবিশ্বাসে রুপ দেয় । গুরুজন, নারীদের প্রতি সম্মান ধসে পড়ে, ঐতিহ্যে হারিয়ে যায়, জ্ঞানীগুনিদের সুরক্ষা করতে ব্যর্থ হয় আর এভাবে অজাতশত্রু বৈশালী নগরিকে দখল করে ।

উপরোক্ত পুরাকালে সংগঠিত ঘটনাটি পার্বত্য চট্রগ্রামের জন্য খুবই সমসাময়িক এবং বাস্তবসম্মত । জুম্মজাতিসমূহের মধ্যে অনৈক্যের ফাঁটল ঘটাতে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতাশীলরা বারবার প্রচেষ্টা চালিয়েছে এবং এখনো চালিয়ে যাচ্ছে । জাতিসমূহের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করিয়ে দেয়ার লক্ষ্য জাতিদের মধ্যে পৃথক পৃথক সংসদ বানিয়ে দেয়া হয়েছে । যুবকদের মধ্যে নেশা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে, অস্ত্র তুলে দেয়া হয়েছে । চক্রান্তে অনেক জ্ঞানীগুনি ব্যক্তিকে অকালে হত্যা করা হয়েছে । এভাবে জুম্মজাতিসমূহ নিজেরা নিজেদের মধ্যে দিনেদিনে অবিশ্বাসকে পুঞ্জিভূত করে চলেছে যার করুণ পরিণতি আজকের ভ্রাতৃসংঘাত । শোনা যাচ্ছে জুম্ম ছেলেরা ও আজকাল ধর্ষণে জড়িত হয়ে যাচ্ছে । ঐতিহ্যের প্রতি নেই আনুগত্য । সচেতন হতে না পারলে এভাবে দিনেদিনে নৈতিকতা ভূলন্ঠিত হয়ে অচিরে জাতি, সমাজের অস্তিত্ব চিরতরের জন্য হারিয়ে যাবে ।

Thursday, October 25, 2012

অচেতন গড়াপত্তিত সমাজের মানুষগুলো, যাত্রাপালা যাদের প্রিয়


 নবযুগ এসে গিলে ফেলেছে চারদিক তবুও অচেতন ঘুম ভাঙলো না নন্দলালের । ঝড়া পাতা শুকিয়েছে বৃষ্টি ভেজা আষাড়ের রৌদ্রে তবুও আলসিমনা ভাঙলো না কেদারামের । চারিদিকে রতি, আরতি, প্রীতির নুপুরঝুমুর নৃত্য, জগতখ্যাত সুনাম কুড়ানো যাত্রাপালাদের দল ছুঁটেছে অবিরামের দিকে । তবলা, হারমণিকা, বেহালা, বীণার বাদ্যের সুরে আশি বছরের বুড়ো দাদু - দাদীদের ভাঙ্গা দাঁতের মুচকি হাসি ঝিলিক মারে, চোখের ইঙ্গিতে বলে দেয় আরে বয়স হয়েছে তো এবার একটা খুঁজে নাও লালটুকটুকের রাঙ্গা বউ । অবলা ছেলে লজ্জায় নাচের মঞ্চ ছেড়ে চলে যায় । পুরুষের বীরত্ব গাঁথাকে কলঙ্কিত করে দেয় মিনিটে । গড়াপত্তন সাত - পাঁচ সমাজের বাইরে চলে যায় নন্দলাল, কেদারাম আর অবলারা । যুগ বদলিয়েছে বলে তারা নিজের ওপর ও আত্মবিশ্বাস রাখতে পারে না কোনসময়ে । মানুষরুপী রক্ত শোষক জোঁক - মশারা রক্ত শুষে চলে যায়, সাথে জটিল শরীরে ভয়ংকর মরণঘাতক ভাইরাসকে ও ঢুকিয়ে দিয়ে যায় । তবু ও অচেতন ঘুম ভাঙ্গে না নন্দলালের, মৃত্যুর ভয়ে থরথরে কাঁপে সারা শরীর । নন্দলালের মৃত্যুতে শোক হয়, নীরব কৃর্তিগাঁথা পাঠ হয়, সমবেদনা আসে তবুও নন্দলালকে জীবিতকালে কখনো বিশ্বাস করানো যায়নি সেও যে মারা যাবে কোন একদিন ।

আসে রতি, আরতি, প্রীতিরা নাচে গানে ভরে দিতে বেদনার্ত সব শোক । বাদ্য বাজে, সাথে সানাই । শোক হয়ে উঠে আনন্দের । সবাই আবার ভুলে যায় মরণের কথা জাদুকরী নৃত্য - গানের সুরে । গড়াপত্তন সমাজে আরো নতুন এক নন্দলালের জন্ম নেয় । নতুন জীবাণুবাহী মশা আবার রক্ত শোষতে আসে । এভাবে ম্যালেরিয়াসহ হরেক রকম অসুখ বংশ পরষ্পরাই বেঁচে থাকে । শোষক - শাসক সব মিশে একাকার । অপরিষ্কার জলাভূমিগুলো লক্ষ - কোটি শোষক মশার জন্ম দিলেও গড়াপত্তিত সমাজের কর্মজীবি মানুষেরা আমলে আনে না । পারতপক্ষে আরো বেশি আবর্জনায় ভরিয়ে রাখে সেসব অপরিষ্কার জলাভূমিতে । প্রতিবছর নতুন নতুন ভাইরাসবাহী রোগে অনেকের মরণ ঘটে তবুও সাতপাঁচ সমাজের মানুষগুলো অচেতনই থেকে যায় । কারোর মৃত্যতে প্রতিবারের মতো আবার শোক হয়, সমবেদনা হয় । শেষে আবার অচেতন জগতে চলে যায় ।

অচেতন সেই গড়াপত্তিত মানুষদের যাত্রাপালা দেখাতে চলে আসে জগতখ্যাত যাত্রাপালার দলগুলো । যাত্রার পালাগান আর বাজনার মধ্যে দিয়ে রঙিন কল্পনা ঢুকিয়ে দেয় সেই অচেতন মানুষদের । যুগ যুগব্যাপি ডুবিয়ে রাখে আকাশকুসুম স্বপ্নের জগতে । সুনিদির্ষ্ট নেই দর্শন, নেই চাওয়া, নেই আবেদন; যা আছে সবই যাত্রাপালা নায়ক নায়িকাদের জন্ম দেয়া আকাশকুসুম কল্পনা; তারা এবং পরী দেশের গল্প ।

(এসব গড়াপত্তিত অচেতন মানুষদের নিয়ে গল্পের সূচনাঃ )

Wednesday, September 19, 2012

"পাহাড়ী নারীর তিমিরাচ্ছন্ন জীবন এবং অনিশ্চিত পদচলা" - বনাম - "সেটেলার বাঙালীর আনন্দ উল্লাস এবং বিনোদন"




আমি এক পুরুষ । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বড় হয়েছি । পুরুষের পেশীর জোড় সম্পর্কে ভালো জানা আছে । নারী নির্যাতনের চিত্র মস্তিষ্কের স্মৃতিতে অনেক জমে আছে । পুরুষ হিসেবে এসবের দ্বায় এড়াচ্ছি না বরং, এক পুরুষ হিসেবে এসবের দ্বায় মাথা পেতে নিচ্ছি । আমাদের পাহাড়ের সমাজেও গুটিকয়েকভাবে নারী নির্যাতন চলতো তবে কখনো জঘন্য ছিল না । সবকিছুর পর এটা অস্বীকার করা যায় না অন্যসব পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মতো পাহাড়ী সমাজেও নারীদেরকে দূর্বল হিসেবে গণ্য করা হতো । তারপর ও, আদিবাসী পাহাড়ী জাতির ভাষাসমূহে 'ধর্ষণের' কোন প্রতিশব্দই ছিল না । তাই আগে যুবতী মেয়েরা ফ্রীলি দিন-রাত হেঁটে চলাফেলা করতো । নদী-পুকুর-খালে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে বিনা বাঁধায়, বিনা সমালোচনা অথবা কটুক্তিবিহীনভাবে স্নান করতো । কেউ কিছু বলতো না । আধুনিক বিশ্বায়ন যুগে সমাজ যেখানে সামনের দিকে এগুবে সেখানে পাহাড়ী সমাজকে ফিরে যেতে হচ্ছে অন্ধকার যুগে । হতে হচ্ছে কট্টোর রক্ষণশীল । পাহাড়ে যেসব বাঙালীদের সেটেলার বলা হয় তারা মূলত জিয়ার শাসনামল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ বসতি গড়ে তোলে । সেসব সেটেলাররা এখন পার্বত্য চট্রগ্রামে পাহাড়ী মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে । পাহাড়ীদের জায়গাজমি জোড়পূর্বকভাবে যেমন কেড়ে নিচ্ছে, চালাচ্ছে কাটো-পুড়াও তান্ডব অন্যদিকে পাহাড়ী নারীদের উপর চালাচ্ছে 'ধর্ষণের' মতো হীন প্রচেষ্টা । গত কয়েক বছরে সেটেলার বাঙালী কর্তৃক পাহাড়ী নারীর 'ধর্ষণের' হার যেহারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না; সুস্থ মস্তিষ্কের যে কেউ শিউরে উঠবে । আর এর সু-বিচার ও হচ্ছে না । এখানে শুধু ২০১২ সালে ঘটা ধর্ষণের ঘটনাসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার প্রয়াস বোধ করলাম । রিপোর্টগুলো "সিএইচটি নিউজ বাংলা" থেকে সংগৃহীত । 

_________________________________________________________________________

17. খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেটলার কতৃক এক পাহাড়ি তরুণী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। আজ ১ ফেব্রুয়ারী বুধবার সকাল আনুমানিক দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মঘাইছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তরুণীটি দুল্যাতলী ইউনিয়নের ডানে লক্ষ্মীছড়ি গ্রামের নরম্যা চাকমার মেয়ে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে তরুণীটি তার এক আত্মীয়ের সাথে নান্যাচর যাবার উদ্দেশ্যে লক্ষ্ণীছড়ি থেকে মোটর সাইকেল যোগে মানিকছড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে মঘাইছড়িতে তাদের মোটর সাইকেল থামিয়ে কয়েক জন সেটলার যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাস্তা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার ভিতরে নিয়ে গিয়ে চার সেটলার যুবক তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা তরুণীটিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পরে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে ১টি ক্লিপ, ১টি কালো রুমাল, ১টি কালো হেলমেট ও সাদা-নীল-হলুদ রঙের ১টি বয়লার(তোয়ালে) আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন। তারা তরুণীটিকে লক্ষ্ণীছড়িতে নিয়ে আসেন। এ সময় তরুণীটি চারজন সেটলার যুবক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে।

16. খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুইমারার অক্ষয়মনি কার্বারী পাড়া রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর এক পাহাড়ি (ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) স্কুল ছাত্রীকে (১১) সেটলার মো: হারুণ কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ জানুয়ারি সকালে এ ঘটনা ঘটে।

বিলম্বে পাওয়া খবরে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ওই স্কুল ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট শেষে ফেরার পথে একা পেয়ে মোটর সাইকেল চালক মো: হারুণ তাকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এতদিন প্রকাশ না হলেও গতকাল ৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনাটি প্রকাশ হলে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে হারুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন সংশোধনী আইন ২০০৩, ৯/১ ধারায় গুইমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-০১/২০১২, ৬/২/১২।

15. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ভোলাছোলা গ্রামের ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর এক পাহাড়ি স্কুল ছাত্রী বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে ভোলাছোলা গ্রামের থৈঅংগ্য মারমার মেয়ে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল ২৩ মার্চ শুক্রবার সকালে ওই স্কুল ছাত্রীটি কয়লা বিক্রি করতে ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চনপুরের চৌমুহনী বাজারে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে গর্জনখোলা নামক স্থানে এসে পৌঁছলে কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা মো: সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো: সাদ্দাম ও তার সঙ্গী মো: আনিস ওই স্কুল ছাত্রীকে একা পেয়ে ঝাপটে ধরে রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে।

14. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপছড়ি গ্রামে থোয়াইচাউ মারমার মেয়ে মাসিউ মারমা (২৫) স্বামী চিংহ্লাগ্য মারমা সেনাবাহিনী কর্তৃক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সেনা সদস্যরা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

জানা যায়, আজ ২৮ মার্চ বুধবার বেলা ২:৩০টার দিকে সিন্দুকছড়ি জোনের মেজর সাথাত এর নেতৃত্বে ২ পিকআপ আর্মি মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপছড়ি গ্রামে অপারেশনে যায়। সেখানে গিয়ে তারা থোয়াইচাউ মারমা (৫৬) পিতা মৃত চাইপ্রু মারমার বাড়ি ঘেরাও করে এবং বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। এ সময় থোয়াইচাউ মারমার মেয়ে মাসিউ মারমা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেনারা মাসিউ মারমার কাছ থেকে সন্ত্রাসীদের চিনো কিনা, তারা কোথায় থাকে ইত্যাদি হয়রানিমুলক জিজ্ঞাসা করে এবং সন্ত্রাসীদের দেখিয়ে দাও দেখিয়ে দিতে না পারলে তোমাকে বাঁশ ধোলাই দেবো বলে হুমকি দেয়। মাসিউ মারমা আমি কিছুই জানি না বলে উত্তর দিলে সেনারা তাকে বাঁশ দিয়ে কপালে আঘাত করে। এতে সে কপালে আঘাত পায়। এ সময় সেনারা মাসিউ মারমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও তাঁর এক আত্মীয় জানিয়েছেন।

13. খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের কিরণ মাষ্টার পাড়ায় ৩৫ বছরের এক প্রতিবন্ধী পাহাড়ি(ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) নারী সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ২৫ এপ্রিল ২০১২, বুধবার রাত সাড়ে সাতটায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিত হওয়া ওই নারী একজন বাক প্রতিবন্ধী।

জানা যায়, ঘটনার দিন ধর্ষিত হওয়া ওই নারী ১৯৫ নং বামা গোমতি মৌজার অপূর্ণ মহাজন পাড়া রেজি: প্রা: বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কিরণ ত্রিপুরার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এদিন কিরণ ত্রিপুরার শ্বশুর মারা যাওয়ায় ওই নারীকে বাড়িতে রেখে পরিবার-পরিজনসহ কিরণ ত্রিপুরা শ্বশুর বাড়িতে যান। এ সময় পাশ্ববর্তী পশ্চিম গরগরিয়া চৌদ্দগ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে অলি আহম্মদ ওরফে অলিয়া(৩৮) ও আব্দুল আজিজের ছেলে জিনাত আলী(৩৫) কিরণ মাষ্টারের বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। স্থানীয় এলাকাবাসী ধর্ষণকারীদের আটক করেছে বলে জানা গেছে।

12. রাঙামাটির লগদুতে সেটলার কর্তৃক এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ২৮ এপ্রিল শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, লংগদু উপজেলার ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জারুলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা কালা ধন চাকমার স্ত্রী আলপনা চাকমা(ডাক নাম চিবাচোগী) (৪৫) সকালে মিইনী দোর বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পথে দুপুর ১টার সময় চাকমা পাড়া ও বাঙালি পাড়ার মধ্যবর্তী নির্জন স্থান এরশাদ মাষ্টারের আম বাগানে এসে পৌঁছলে একা পেয়ে একদল সেটলার তাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে সেটলাররা মৃত ভেবে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিকালে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে। তার মাথায় এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে চারটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে লংগদু রাবেতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

11. রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার আটরকছড়া উল্টোছড়ি গ্রামের মৃত জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমার ১১ বছর বয়সী শিশু কন্যা সুজাতা চাকমাকে সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ পাত্তয়া গেছে। সুজাতা উল্টোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। আজ ৯ মে বুধবার বিকেল আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 সুজাতা চাকমা ছয় বছর বয়সী অপর এক শিশুকে নিয়ে গ্রাম থেকে আধ কিলোমিটার দূরে গরু চড়াতে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন দাড়িওলা বাঙালি হত্যাকারী ইব্রাহীমের এসে সুজাতাকে ধরে জোর করে সাদাছড়ার উপরের দিকে ধরে নিয়ে যায়। সে সময় সে দৌঁড়ে এসে গ্রামে খবর দেয়। তারপর গ্রামের লোকজন উদ্ধারে গেলেও ঘনটনাস্থলে পৌঁছার আগে ধর্ষণের পর হত্যাকারী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজাতার লাশ উদ্ধার করেছে।

10. দীঘিনালায় পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম (২৩) ওরফে জহির ড্রাইভার নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার কুমিল্লাটিলার মৃত উলা মিয়ার ছেলে। গতকাল বুধবার কুমিল্লাটিলা এলাকা থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।(খবর সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ১০ মে ২০১২)।

পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় উপজেলার পোমাংপাড়া (ত্রিপুরাপাড়া) গ্রামে অভিভাবকদের বাড়িতে না থাকার সুযোগে বাড়িতে ঢুকে জহিরুল ওই পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ছাত্রীটি চিৎকার দিলে জহিরুল পালিয়ে যায়।

9. রাঙামাটিতে সেটলার বাঙালি কর্তৃক এক পাহাড়ি নারী (২২) ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কল্পনা অপহরণের ১৬তম বার্ষিকীর দিন গতকাল ১২ জুন মঙ্গলবার  এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাঙাপানি গ্রামের বাসিন্দা ঐ নারী সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে  নিজ বাড়ি থেকে পাঁয়ে হেঁটে বনরূপায় যাচ্ছিলেন। যাবার পথে জেলা পরিষদের চিড়িয়াখানার পার্শ্ববর্তী স্থানে পৌঁছলে রেডিও সেন্টার এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান (২৫) তাকে একা পেয়ে ঝাপটিয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ঐ নারী চিৎকার দিলে আশে-পাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং নুরুজ্জামানকে ধরে ফেলে। পরে গণধোলাই দিয়ে নুরুজ্জামানকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী। ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার ঐ নারী নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

8. রাঙামাটির ভেদভেদী এলাকার উলু ছড়ায় বলি মিলা চাকমা (৩৫) নামে একজন পাহাড়ি নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে খবর পাওয়া গেছে। সে বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণ ছড়া ইউনিয়নের সুগরি পাদা ছড়া গ্রামের বাসিন্দা দুর্গ চাকমার স্ত্রী। আজ ৭ জুলাই শনিবার বিকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

সূত্র জানায়, বলি মিলা চাকমার মেয়ে ভেদভেদী এলাকার উলু ছড়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে রাঙামাটি শহরে পড়াশুনা করছে। তার মেয়েকে খবর নিতে এবং ডাক্তার দেখানোর জন্য বলি মিলা চাকমা রাঙামাটি শহরের ভিতর উলুছড়ির আত্মীয়ের বাড়িতে আসেন। আজ শনিবার বিকালের দিকে পানি আনতে সে পাশ্ববর্তী ছড়াতে যায়। দীর্ঘক্ষণ পরও বাড়িতে ফিরে না আসায়ে আত্মীয় বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজির পর ছড়ার  পাশের জঙ্গলে তার লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে গলাকাটা অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। কে বা কারা এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে, তাকে বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন।

7. খাগড়াছড়িতে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক পাহাড়ি ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে এপিবিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপিএড (ক্রীড়া) শিক্ষক কামাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এপিবিএন হাই স্কুলের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা যায়, গত ১১ মে, শুক্রবার সকালে শিক্ষক কামাল উদ্দিন তার নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর নাম করে মোবাইলে ফোন করে  হরিণাথ পাড়া থেকে ওই ছাত্রীকে ডেকে আনে। বাসায় তার স্ত্রী থাকায় কৌশলে তাকে স্থানীয় এমপি’র বাড়ি সংলগ্ন মিলনপুর (ওয়াপদা) এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকানে নিয়ে যায়। এ সময় সে ওই ছত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ছেলেরা ওই শিক্ষককে হতেনাতে ধরে ফেলে। ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগ পাওয়ার পর খাগড়াছড়ির পৌর মেয়র রফিকুল আলম খাগড়াছড়ি পৌর সভা সম্মেলন কক্ষে সালিশি বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, “আমার মেয়েকে ওই শিক্ষক মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানী করেছে।”

6. খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চতূর্থ শ্রেণীতে পড়ূয়া মারমা সম্প্রদায়ের এক মেয়ে শিশুকে(১২) জনৈক সেটলার কর্তৃক ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ১ আগষ্ট বুধবার দুপুর ২টার দিকে মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চেম্প্রুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া ঐ শিশুটি ২য় সাময়িক পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে ভাত খাওয়ার পর তুষ বিক্রি করতে তার থেকে কম বয়সী আরো দুই শিশু সহ পাঁয়ে হেঁটে বাটনাতলী বাজারে যাচ্ছিল। যাবার পথে এক সেটলার যুবক(১৮) তাদের পথরোধ করে এবং ঐ শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে সেটলার যুবকটি পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা থাকার পরও সে আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

5. খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলাধীন ৯ মাইলের তপন কার্বারী পাড়ার রণ বিকাশ ত্রিপুরার ১১ বছরের কিশোরী মেয়ে পুলিশ সদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ২১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ২:৩০টার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, দিঘীনালা উপজেলার ৯ মাইল এলাকার অটল টিলা পুলিশ ক্যাম্পের পূর্ব পাশে ঐ কিশোরীটি গরু চরাতে যায়। এ সময় একা পেয়ে ঐ ক্যাম্পের কনস্টেবল রাসেল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের আগে পুলিশ কনস্টেবলটি কিশোরীর ডান পায়ে ও ডান হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে কিশোরীটি এ ঘটনা তার মাকে খুলে বললে তার মা নিত্যবালা ত্রিপুরা ধর্ষণের শিকার ঐ কিশোরীকে সাথে নিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাম্পের দায়িত্বরত মো: শাহ আলমকে ঘটনাটি জানিয়ে বিচারের দাবি করে। শাহ আলম তাদেরকে ১,০০০(এক হাজার) টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এরপর নিত্যাবালা ত্রিপুরা তপন কার্বারী ও ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের কর্মীদের ঘটনাটি জানায়। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে পুলিশ ধর্ষণকারী কনস্টেবল রাসেলকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

4. খাগড়াছড়ি জেলার মাটরাঙ্গা উপজেলাধীন ১৯১ নং তাইন্দং মৌজার  হেডম্যান পাড়ায় আজ ২২ আগস্ট ২০১২, বুধবার দুপুর ২ টায় এক পাহাড়ি বৃদ্ধা নারীর লাশ পাওয়া গেছে। নিহত ওই নারীর নাম ফুল কুমারী ত্রিপুরা(৮২) স্বামী: কমলা কুমার ত্রিপুরা।  

জানা যায়, গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি ছড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে ওই নারী ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির পর তার লাশ খুঁজে পায়।  নিহতের শরীরের হাতে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। সেটলাররা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে গ্রামবাসীরা ধারণা করছেন।

3. খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতা ছড়া ইউনিয়নের কালাপানি গ্রামের ১২ বছরের এক পাহাড়ি কিশোরী বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঐ কিশোরী তার মায়ের সাথে ফটিকছড়ির দাঁতমারা বাজারে যায়। বাজার থেকে দুপুর ১টার দিকে সে তার মাকে বাজারে রেখে এসে একাই একটি ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল যোগে বাড়িতে ফিরছিল। ফেরার পথে বালুখালী নাসিয়া চা বাগানের নির্জন স্থানে এসে পৌঁছলে দাঁতমারা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে মোটর সাইকেল চালক মো: আলমগীর(২৫) তাকে মুখ চেপে ধরে জঙ্গলে টেনে নেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় খালেক নামে দাঁতমারা থেকে এক বাঁশ ব্যবসায়ী ও শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদেরকে দেখে ঐ কিশোরী চিৎকার দিলে মো: আলমগীর পালিয়ে যায়। পরে তারা ঐ কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

2. গত ৮ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজে পড়ুয়া এক পাহাড়ি কলেজ ছাত্রীকে সেনা সদস্য মো: আবু ইউসুফ ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ওই এলাকার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে বাড়ির বেড়া কেটে ছাত্রীদের ভাড়া বাসায় ঢোকেন। এ সময় তিনি এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরে সেখান থেকে তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। এই অবস্থায় ছাত্রীটির চিৎকারে তাঁর সহপাঠী ও আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আবু ইউসুফ পালিয়ে যান।

1. খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের নালকাটা গ্রামে এক পাহাড়ি নারী (২৫) সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

জানা যায়, আজ ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশ্ববর্তী টিলায় গরু আনতে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একই ইউনিয়নের উত্তর মিলনপুর গ্রামের মো: গফুর আলী পিসির ছেলে মো: আজাহার(২৫) পিছন দিক থেকে গিয়ে ঐ নারীকে হঠাৎ ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তার স্বামী অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে দিঘীনালা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Tuesday, September 18, 2012

বন্যা এবং এক সাধারণ মানুষ !!



বন্যা হওয়া প্রকৃতিগত এক চরিত্র । কিন্তু বর্তমান বিশ্বে বন্যা হওয়ার পিছনে মনুষ্যকর্তৃক সৃষ্ট রাসায়নিক বর্জ্যগুলোর অপব্যবহারকে ও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বসহকারে দোষারোপ করা হয় । অগোছালো এই হৃদয়মন্দিরে কতো যে প্রবল স্রোতময়ী বন্যা হয়ে যাচ্ছে আমরা কেউ তা জানার জন্য আগ্রহী নই । যখন নদীর পানি উপসে গিয়ে খাল-বিল পরিপূর্ণ করে, তখন আমরা উতাল মনে বাউল গানের সুর তুলি। সময় নেই হা হুতাশের । চারদিকে শুধু আনন্দের ঘনঘটা । উদাসীন মনে ছুঁটে চলি এলোপাতাড়িভাবে যেদিকে দুচোখ এবং কল্পনার জাল বুনে যায় । প্রকৃতিকে কে না ভালবাসে বলো (?) রাখালিয়ার সুর উত্তপ্তরৌদ্রে ও যেভাবে অশান্ত মনকে শান্ত করে স্বপ্ন দেখাতে জানে, ঠিক সেভাবে বর্ষার ঝড়ো হাওয়া শীতল হওয়াতে ও হৃদয়স্বত্ত্বাকে ভাবিয়ে তুলে রোমান্তিকতার ছোঁয়া জাগিয়ে দিয়ে যায় । টেলিভিশনে কতো যে বন্যা দেখেছি, যদিও বাস্তবে উপলব্দি করিনি কখনো । 

খুশি হলে ও দূঃখ রয়ে গেলো বন্যার কবলে পড়তে গিয়ে । এ যেনো এক দূঃখময়ী সুখমিশ্রিত বাস্তব অভিজ্ঞতা । ঘুম হারাম করে রাতভর লাইব্রেরি এবং অফিসিয়াল নতিপত্রগুলো সরাতে হয়েছিল । খাওয়া-দাওয়া-গোসল কাজকারবার রীতিমতো হয়ে উঠেনি । তারপর ও রীতিমতো ক্যম্পাসের বাইরে বসবাসরত ছাত্র/ছাত্রীদের খোঁজখবর নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠাতে হয়েছিল । আমাদের খবর কে আর রাখে । মা-বাবারা এতো কষ্ট করে সন্তানের দেখাভাল করেন, কিন্তু সন্তানেরাতো উদাস মনে গানের সুরে নাচতে নাচতে দূরে বহুদূরে গিয়ে লাফালাফি করে । এই যেনো হয়ে গেলো জগৎ সংসারের নীতি । কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়াই করেছি, লাইব্রেরীর একটি বইকে ও ভিজটে দিইনি । তাই লাইব্রেরীর কোন বইয়ের স্বর্দি ধরেনি, যদিও আমরা ধরা খেয়েছি । ধরা খেলে ও মরে যাইনি, বরং অভিজ্ঞতা পেয়েছি । হা হা হা হা ! ধোর্য্য হারা হতে নেই -দৃঢ় মনোবল থাকা চাই । তুমি একদিন জীবন সংগ্রামে জয়ী হবে বাবা । মনের বন্যাকে চিনতে ভুল করিস না বাবা । হিংসা - লোভ - লালসার মতো ভয়ংকর বন্যা আর থাকতে পারে না । তাই সাবধান !

Wednesday, April 25, 2012

মানবতাবাদ বনাম মনুষ্যত্ববোধ



মানবতাবাদ জিনিসটি কি (?) এটিও কি এক ধরনের মতবাদ -নাকি বিপ্লবী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ (?) অথবা মনুষ্যত্বের দায়বদ্ধতা (?) খুবিই জটিল এবং চিন্তার বিযয় ও বটে। কাকতালিয়ভাবে শব্দটি আমাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং নতুনভাবে ভাবিয়ে তুলতে শুরু করেছে -যদি ও ১৯৯০-এর নভেম্বরের দিকে ভারতের ত্রিপুরায় শরনার্থী শিবিরে থাকাকালীন জেনেছিলাম আমাদের খোজঁ খবর নিতে নাকি ডেনমার্ক থেকে এক মানবাধিকার কর্মীর দল এসেছে। বয়স তখন ৫ এবং ৬ বছরের মধ্যে। অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ছুঁটে গিয়েছিলাম সাদামানুষের সেই দলকে এক পলকের জন্য দেখবো বলে। অনেকের মুখে-মুখে শুনেছিলাম -এদের অনেকেরই নাকি এলএলবি পাশ করেছে। অধ্যায়নের সর্বোচ্চ স্তর। মনেমনে তখন ভাবনার ঢোল ঝুলতেছিলো আমারও, আমাকে ও একদিন এমন অধ্যায়ন করতে হবে -যেনো এরকম হাজারো মানুষের ভীরে হাততালির গুন্ঝন শুনতে পায় -মানুষের মনে আমি যেমন আনন্দ পাচ্ছি সেভাবে আনন্দ কিংবা উদ্দীপনা যোগাতে পারি। স্বপ্নের বিভোরে ভেসে চলে সেই অবুঝ বালকের মন। স্বপ্ন দেখতে থাকে অনাবিল আনন্দে -সে বুঝতে চাইতো না যে সে কতটা অহেলিত এবং নির্যাযিত। মা-বাবার অবাধ্য হয়ে জীবনের মর্ম কি খুজেঁ চলে -বনে-জঙ্গলে-নদীনালা-খালবিলে। হিন্দী সিনেমা দেখতে বাবার কাছে টাকা চেয়ে নেয় -আর ছুটেঁ যায় সুতাবিহীন ঘুড়ির মতো। উড়তে থাকে আকাশের শূণ্যদ্বীপে -মুক্তমনে -স্বাধীনভাবে। নেই কোথাও বিধিনিষেধ -রিলিজিওন-এর দায়বদ্ধতা। শুধু ঘুরে বেড়ানো আর সময়ে পাঠশিক্ষা এবং ক্ষুধা নিবারণ করা। তবুও সে স্বপ্ন দেখে একদিন এলএলবি পাশ করে -মানুষের প্রশংসা কুড়াবে। কি কঠিন স্বপ্ন সেই অবুঝ বালকের (?) এখন সে অবুঝ বালকটি একাকী বসে চলে যায় সেই সোনালি স্বপ্নের যুগে আর হাসে। কি জটিল মানুষের এই জীবন (?)।

যাহোক, প্রসঙ্গে আসি যা নিয়ে কিছু লিখবো বলে জটিল সৃষ্টির সাহায্য নিয়েছি। প্রসঙ্গটা হচ্ছে “মানবতাবাদ” কিংবা “হিউমিনিজম”কে নিয়ে। আমি এর সচ্ছতা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সন্দেহ প্রকাশ করি, যখন ব্যাঙের ছাতারমতো গজানো “মানবাধিকার সংস্থার” ফলকগুলোকে বিভিন্ন গণমাধ্যমসমূহে দেখি। “মানবতাবাদ এবং মানবাধিকার” -এর দুয়ের পার্থক্যটা জানতে আমার মনের কৌতুহল বাড়ে। এর জন্য যে তারপর বেশি বই পড়েছি তা ও নয় -বরং সকাল-বিকেলে নিজের মনুষ্যত্ববোধের কাছে প্রশ্ন ছুড়েঁছিলাম আর উত্তর খুজেঁছিলাম। তাই আমার এই লেখাটি কেবলমাত্র এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারই ফসল। এক মানুষের সত্যিকার মনুষ্যত্ববোধ কোথায় তা অনুসন্ধান করতে আমাকে এই ২৬ বছর বয়সে আসতে হয়েছে। এখন নির্ধিদায় বলতে পারি “মানুষের গুণাবলীর স্থান বাইরের কোথাও নয় -বরং একজন ব্যক্তিতেই সেসব নিহিত থাকে আর সেসব গুণাবলীকে আত্ম-প্রচেষ্টার মাধ্যমে আবিষ্কার করা হচ্ছে জীবনের আসল উদ্দেশ্য -তাই স্বপ্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজস্ব মনুষ্যত্ববোধকে খুজেঁ পেতে হয় -যা সবকিছুর উর্ধ্বে”। এর আগ পর্যন্ট কেউ সত্যিকার মানবতাবাদী হতে পারবে না -সে যতবড় প্রসিদ্ধ কিংবা নামজাদা মানবতাবাদী কর্মী হোক -যে পর্যন্ট না সে নিজেকে শুধু এক মানুষ হিসেবে চিনতে পারে। পৃথিবীতে বর্তমানে হরেকরকমের ব্যবসা হয় -এরই মধ্যে “মানবাধিকার” ও একটি -যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কোনো এক ঘটনার পরবর্তীতে -উক্ত ঘটনারই পরিপ্রেক্ষিতে পত্রিকায় লেখা, কিংবা টিভিতে প্রচার করা, অথবা ওয়েবসাইট-এ নিজস্ব মতামতের উপর ভিত্তি করে অভিব্যক্তি প্রকাশ করা -এই হলো বর্তমান মানবাধিকার কর্মিদের কাজ। খুবিই সীমিত এবং হীন এক ব্যবসা। একদিন এক নামকরা মানবাধিকার কর্মীর সাথে দেখা হলে নিজেই নিজের গোপনতা প্রকাশ করলেন -বললেন যে কোনো এক সময় মালদ্বীপ সরকারের লঙ্ঘনকৃত অপরাধের বিরুদ্ধে লিখতে যাবে শুনে -সরকার নাকি উনাকে ২ কোটি রুপি দিতে রাজী হয় -তার বিনিময়ে তবু ও সংবাদ প্রচার না করা। আমিতো জানি সবগোপনী্য়তা। খেলেও কেউ কি কিছু বলবে -হ্যাঁ, আমি খেয়েছি। দিলে ও কেউ কি বলবে -হ্যাঁ আমি এতো লক্ষ টাকা উনাকে দিয়েছি সে যেনো সংবাদ না ছাপাই। খুবই নিরাপদ পেশা -এককথায় ঠান্ডামাথায় দূর্নীতি। তবুও উনাদের কমবেশি যে মানবিক মূল্যবোধ নেই তা অস্বীকার করছি না।

পার্বত্য চট্রগ্রামে যখন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয় -মূলত দুধরনের সংবাদ গনমাধ্যমের কাছে পৌঁছাতে সংবাদমাধ্যমে ছাপানো হয়। এক: পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নিরীহ বাঙ্গালীদের পল্লীতে তান্ডবলীলা চালিয়েছে, এর বর্ণনা দিতে রামায়নের কাব্য বানানো হয়, নতুবা- দুই: মাঝেমাঝে আসতে পারে নিরপেক্ষ নমুনায়, যেমন পাহাড়িদের গ্রামে আগুন -যা ঘটেছে মূলত এক অঙ্ঘাত দলের কারণে। এই অঙ্ঘাত দলটি কে বা কারা -ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা আর মিলে না। আর দেশহিতৌষী-বরেণ্য-সম্রাঙ্ঘী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কে একবিন্দু কথা বলার সাহস রাখে। এখানে এসে সব সত্য ভূ-গর্ভের নিচে চলে যায়। সরকারকর্তৃক লোকদেখানো মানবাধিকার সংঘ ঘটন করা হয় -ঘটনার সত্যটা কতিয়ে দেখবে বলে। আদৌ কি কোনো সত্য উৎঘাটন হয়েছে (?) যা হয়েছে সবটা হয়েছে এর উল্টো -বিকৃতভাবে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উপর ভর করে পাহাড়িদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী মহল হিসেবে। যাদেরকে নিয়ে মানবাধিকারের সংঘ ঘটন করা হয়েছে -উনারাতো আবার অল্পশিক্ষিত কিংবা নির্বোধ ব্যক্তি ও নন -উনারা ওতো কোনো না কোনোভাবে মানবাধিকারের পেশা নিয়ে জড়িত। তাহলে -সত্য কেনো তবুও গোপন থাকে (?)। কারণ একটাই, উনারা যদিও মানবাধিকারের কথা বলতে চান -কিন্তু সত্যিকার অর্থে মানবতাবাদী হতে পারেন নি -অর্থাত্হ মনুষ্যত্ববোধ সম্পর্কে জ্ঞান পরিধি সীমিত -সোজা কথায়, মানবতা কি জিনিস তা ভালোভাবে হৃদয়ালব্ধী হয়নি অথবা জানেন না। হয়ত বা হতে পারে বাঙ্গালী জাতিয়তাবোধ আদৌ উনাদের পিছু টানে -নতুনা মাইনে কমবে বলে চিন্তা করে। এই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের মানবাধিকার কর্মীদের কার্যকলাপ। হবে না ও কেনই বা -যে আমেরিকা জাতিসংঘকে সিংহভাগ অর্থ যোগান দেয় বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্টার জন্য -আর সে আমেরিকাই আবার আফগানিষ্টান এবং ইরাকে বোমা ফাটে সন্ত্রাসী নির্মূল করবে চলনায়। আবার মানবতার দরদ দেখিয়ে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারের মতো অনগ্রসর দেশগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কি নিষ্ঠুর মানবজাতি (?)। সবদিক দিয়ে অবর্ণিত ক্ষতি নিরীহ জনসাধারণের উপরই সাধিত হচ্ছে।

মানুষের একটাই স্বভাব সহজে অন্য আরেকজনকে প্রভুত্ব আসনে বসিয়ে রাখা -যারপরিপ্রেক্ষিতে রচনা করতে পারে নতুন অন্য এক কেতাব -আমার প্রভু জনমানুষের কথা ভেবেছিলেন বলে নিজের জীবনের কথা চিন্তা করেন নি। আমার প্রভু জনদরদী-হৃদয়বান ব্যক্তিদের একজন -এক কথায় অবিনশ্বর এবং ইত্যাদি…..ইত্যাদি। এইসব হচ্ছে একধরণের সুবিধাবাদী মহলের প্রচারণা। মানবতাবাদের টুপিটি কিন্তু এনারা আগে পড়েন। এনারা চেঁচিয়ে গলাফাতান -যেকোনোভাবে হোক মানুষদের সামনে মানবতাবাদী সাজতে হবে। আবার নিরীহ কিন্তু অল্পশিক্ষিত মানুষেরা এনাদের কথা সহজেই বিশ্বাস করেন -কারণ অধিকাংশ সমাজের জনগোষ্ঠি আদৌ স্বশিক্ষিত হতে পারেননি যদিও উচ্চশিক্ষিত হয়েছেন বটে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে “মানবতাবাদ” জিনিসটা কি -বস্তু নাকি ব্যক্তি (?) মানবতাবাদের সত্যিকার তাৎপর্য অন্য আরেকজনকে হৃদয়ক্ষম করানো এক ধরনের দুরদিগম্য ও বটে -কেননা মনুষ্যত্বকেতো নিজের মাঝে আগে খুজেঁ পেতে হয়। মনুষ্যত্ববোধ হচ্ছে নিজেকে আগে শুধুমাত্র মানুষ হিসেবে চেনা -যেখানে আটাঁ থাকবে না রিলিজিওন-জাতি-বর্ণের ভেদাবেদ। নিজেকে আগে অনুধাবণ করা শুধুমাত্র এক মানুষ হিসেবে -তারপর চিন্তার গভীরে নিয়ে যাওয়া সত্যিকার মানবিক গুণাবলীগুলোকে অন্বেষনের প্রয়াসে। নিজেকে বারবার প্রশ্ন করা -এক মানুষ হিসেবে আমার কি কি গুণাবলী থাকার প্রয়োজন (?)। ধরুণ, আমি চিন্তা করছি আমার মানুষ হিসেবে দরকার -অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থান। তারপর ধারাবাহিকভাবে চলে আসে ভাষাগত-সংষ্কৃতিগত মৌলিক অধিকারগুলোর কথা। যা আমার আছে -অন্যদের ও থাকা আবশ্যক, যা আমি পারি না -অন্যদের ও পারতে বাধ্য করবো না। আমার যা স্বাধীনভাবে চিন্তাবিকাশের অধিকার -আমার মতো অন্য আরেকজনওটো চিন্তা করতে পারে -যা উনার ও মৌলিক অধিকার। আমি যেমন রক্তে-মাংসে গড়া এক মানুষ, সে ও টো এক মানুষ। আমার থাকতে পারে উনার কেনো থাকতে পারে না (?)। অর্থাৎ-প্রথমে নিজের মূল্যবোধকে আবিষ্কার করা -আর অন্যদের ও সেভাবে দেখা। তাকেই বলে মানবতাবাদ। আর এই মানবতাবাদের সত্যিকার তাৎপর্যকে প্রচারের মাধ্যমে জনমানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যতাই হচ্ছে মানবাধিকারের সংস্থাগুলোর মূলমন্ত্র হওয়া উচিত বলে আমি নির্ধিদায় মনে করি।

পরনিন্দা নাকি আত্ম-সমালোচনা ??

মানুষের স্বভাবগত সংষ্কার পরিবর্তন করা খুবই কঠিন এবং এক ধরনের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা; যার পরিপ্রক্ষিতে জীবনে অনেক জাগতিক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা স্বত্ত্বে ও চেনা হয়ে উঠে না । অচেনা বাস্তবতাগুলো বারবার আঘাত দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়া স্বত্ত্বে ও আমাদের খুব কম জনেরই বাস্তব চেতনার উদ্ভব ঘটে; তাই হিংসা-বিদ্বেষগুলো প্রকর থেকে প্রবলতর হয়ে বেড়ে উঠে । হারানো ব্যথা-বেদনায় যখন স্পর্শকাতরে পরিপূর্ণ হৃদয় ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়, পরাজয়ের হতাশা যখন গ্রাস করে রাহুরুপী ধারণ করে তখনিই শুরু হয় তীব্র হা-হুতাশ । বাকী থাকে শুধু আক্ষেপ এবং সমবেদনা; নির্দয়ের সর্বশেষ স্তর ।

সবকিছুর সাথে আমরা অচেনা এবং অজানা হয়ে বসবাস করতে চাই - একসাথে বসবাস করেছি বহু বছর যাবৎ তবু ও চিনতে পারিনি "হতাশা" কি ? একসময় হতাশাই ছিল আমার একমাত্র বন্ধু, নিদ্রার পরম শত্রু, ক্ষুদার্ত পাকষ্থলির জ্বালানিবারক কিংবা পিপাসু শরীরের দূর্বলতা । তবু ও ভুলে গিয়েছিলাম পিছনে ফেলে আসা সেই বন্ধুসুলভ 'হতাশা'র কথা - কিন্তু সে যে কখনো আমাকে ভুলে থাকার নই -সুযোগ ফেলেই ঝাঁপড়ে ধরবে; খেয়ে ফেলবে জটিল শরীরটাকে - বাকি রাখবেটা কি বলা কঠিন । কিন্তু এটো বছর যার সাথে কাটিয়েছিলাম সেই 'হতাশা'কে আমার কি একবার ও চেনার দরকার ছিল না (?) যে আমাকে ভুগিয়েছে -আমাকে মরণের পথে ধাবিত করেছে -সবকিছু লুটে নিতে চেয়েছিল সেই হতাশাকে আমি এতো সহজে কেনো ভুলতে বসলাম (?) আমাকে একজনই ব্যর্থ করতে চেয়েছিল -জীবনকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল - চোষকের ন্যায় আমার শরীরে যা রক্ত ছিল সব চুষে নিতে চেয়েছিল -কাঁদিয়েছিল - আঘাতে জর্জরিত করে শরীরের ক্ষুদ্রানু কোষগুলোকে দূর্বল করে রেখে দিয়েছিল দু-দুটো বছর -সেই "হতাশা"কে আমি ভুলতে বসেছিলাম । আমি স্বার্থপরের ন্যায় আচরণ করতে চেয়েছি - পারিবারিক দ্বায়িত্ববোধকে বিসর্জন দিয়েছিলাম - কেননা সাংসারিক বন্ধন ছিন্ন করে আমি শুধু এক সত্যিকার মানুষ হতে চেয়েছিলাম । আমি হতাশা'কে আর উপলব্ধি করতে চাই না -বরং আমি এখন চিনতে চাই -বুঝতে চাই । এই হতাশাকে আমি যা খুশি তা বলতে পারি, গালমন্দ করতে পারি; কারণ সে ছিল আমার - ভবিষ্যতে থাকবে আমারই । ইহা পরনিন্দা নই বরং আত্ম-সমালোচনা । আমরা ভুল করে পরনিন্দা এবং আত্ম-সমালোচনাকে এক করে গেঁথে ফেলি -যার চুড়ান্ত পরিণতি জটিলতা - এবং মনুষ্যত্বজ্ঞানহীনতা ।

যৌক্তিক সমালোচনা কখনো পরনিন্দা নয়; যৌক্তিক সমালোচনাগুলো সবসময় ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অনুকুলে হয়ে কাজ করে; আর অন্যদিকে পরনিন্দা এক মানুষকে ব্যর্থতার সম্মুখে ধাবিত করে । পরনিন্দার কোন যৌক্তিকবোধ থাকে না -যা তাকে হচ্ছে হীন মনমানসিকতার জঞ্জাল -হিংসা, দ্বেষ, বিদ্বেষে পরিপূর্ণ । সেজন্য পরনিন্দুকরা কখনো যৌক্তিক সমালোচনা করতে জানে না; কিন্তু খারাপ উদ্দেশ্যমূলক চক্রান্তে তাদের স্থান সুউচ্চে । আমাকে সমালোচনা করা হয় কারণ আমার রস-কসের উপলব্ধিতা ভিন্ন ধরনের; কারণ আমি কখনো টাকাকে মুখ্য মনে করিনি । আমাকে ও পরনিন্দার কবলে বহুবার পড়তে হয়েছিল, অনেক সময় আঘাত ও পেয়েছিলাম মানুষদের মনমানসিকতাগুলো সেরকম হীন দেখে । তবে এর সমালোচনা আমি প্রকাশ্য করেছহিলাম এটে লুকিয়ে রাখার ছিল না ।

আমাদের বাংলাদেশে একটা জিনিস খুব প্রবলভাবে চর্চা হয় সেটি হচ্ছে "পরনিন্দা" - অনেকক্ষেত্রে আড্ডাকে হাসিমুখর এবং প্রাণোজ্জ্বল করে তোলার জন্য ও পরনিন্দাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়ে থাকে । দুই-তিনজনের মহিলা মিললে হয়ে যায় ভালো এক আড্ডা -আর চলে রীতিমতো পরনিন্দা চর্চা । আজকাল পুরুষরা ও পিছিয়ে নেই । আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনীতিবিদরা এগিয়ে । এরা আত্ম-সমালোচনাতো দূরের কথা যৌক্তিক সমালোচনা পর্যন্ত কিভাবে করতে হয় ভুলে গেছে -বরং চলছে সমালোচনা নামে "পরনিন্দা" । এভাবে দেশের কথাতো বাদই দিতে হয় -এক ক্ষুদ্র গ্রামকে ও উন্নয়ন করা সম্ভব কিনা সন্দেহ । যেদিকে রাত কাটিয়েছি শুনেছি একে অন্যকে যা খুশি মাটির ভরাট দিচ্ছে -অনেক সমস্যা আর রীতিমতো ঢাল ছুঁড়াছুড়ি । আমাদের বাংলাদেশের মানুষের অবনতির অন্যদের মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে এটি । আমরা দিনদিন উগ্র হয়ে উঠছি; কারণ বেড়ে উঠার পরিবেশ আমাদেরকে তা হতে বাধ্য করছে । প্রতিবাদ করা খারাপের কিছু না কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করছি যেখানে সেখানে -লাগামহীন এবং যুক্তিবিহীনভাবে । কারণ ছাড়া একে অন্যর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছি আর ছোটদের সাথে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা ও ভুলে গিয়েছি -এর প্রতিফল হিসেবে আমাদের ও ছোটদের কর্তৃক লাঞ্জনার স্বীকার হতে হচ্ছে । আমরা ভুল করার পর ও ভুলকে মানতে নারাজ -চিনতে চেষ্টা করি না । এক-দুবার করার পর কিছু একটা যেখানে শিখবো কিন্তু অভ্যসগতভাবে শিখে ফেলি ভুল কিভাবে বারবার করা যায় ।

আমাদের অভ্যসটা হচ্ছে নিজের ভাত খেয়ে পরের হয়ে বাঁচা যা পরিবর্তন করা অতীব জরুরী


অবশেষে - পরনিন্দা করলাম নাকি আত্ম-সমালোচনা ?