Thursday, October 25, 2012

অচেতন গড়াপত্তিত সমাজের মানুষগুলো, যাত্রাপালা যাদের প্রিয়


 নবযুগ এসে গিলে ফেলেছে চারদিক তবুও অচেতন ঘুম ভাঙলো না নন্দলালের । ঝড়া পাতা শুকিয়েছে বৃষ্টি ভেজা আষাড়ের রৌদ্রে তবুও আলসিমনা ভাঙলো না কেদারামের । চারিদিকে রতি, আরতি, প্রীতির নুপুরঝুমুর নৃত্য, জগতখ্যাত সুনাম কুড়ানো যাত্রাপালাদের দল ছুঁটেছে অবিরামের দিকে । তবলা, হারমণিকা, বেহালা, বীণার বাদ্যের সুরে আশি বছরের বুড়ো দাদু - দাদীদের ভাঙ্গা দাঁতের মুচকি হাসি ঝিলিক মারে, চোখের ইঙ্গিতে বলে দেয় আরে বয়স হয়েছে তো এবার একটা খুঁজে নাও লালটুকটুকের রাঙ্গা বউ । অবলা ছেলে লজ্জায় নাচের মঞ্চ ছেড়ে চলে যায় । পুরুষের বীরত্ব গাঁথাকে কলঙ্কিত করে দেয় মিনিটে । গড়াপত্তন সাত - পাঁচ সমাজের বাইরে চলে যায় নন্দলাল, কেদারাম আর অবলারা । যুগ বদলিয়েছে বলে তারা নিজের ওপর ও আত্মবিশ্বাস রাখতে পারে না কোনসময়ে । মানুষরুপী রক্ত শোষক জোঁক - মশারা রক্ত শুষে চলে যায়, সাথে জটিল শরীরে ভয়ংকর মরণঘাতক ভাইরাসকে ও ঢুকিয়ে দিয়ে যায় । তবু ও অচেতন ঘুম ভাঙ্গে না নন্দলালের, মৃত্যুর ভয়ে থরথরে কাঁপে সারা শরীর । নন্দলালের মৃত্যুতে শোক হয়, নীরব কৃর্তিগাঁথা পাঠ হয়, সমবেদনা আসে তবুও নন্দলালকে জীবিতকালে কখনো বিশ্বাস করানো যায়নি সেও যে মারা যাবে কোন একদিন ।

আসে রতি, আরতি, প্রীতিরা নাচে গানে ভরে দিতে বেদনার্ত সব শোক । বাদ্য বাজে, সাথে সানাই । শোক হয়ে উঠে আনন্দের । সবাই আবার ভুলে যায় মরণের কথা জাদুকরী নৃত্য - গানের সুরে । গড়াপত্তন সমাজে আরো নতুন এক নন্দলালের জন্ম নেয় । নতুন জীবাণুবাহী মশা আবার রক্ত শোষতে আসে । এভাবে ম্যালেরিয়াসহ হরেক রকম অসুখ বংশ পরষ্পরাই বেঁচে থাকে । শোষক - শাসক সব মিশে একাকার । অপরিষ্কার জলাভূমিগুলো লক্ষ - কোটি শোষক মশার জন্ম দিলেও গড়াপত্তিত সমাজের কর্মজীবি মানুষেরা আমলে আনে না । পারতপক্ষে আরো বেশি আবর্জনায় ভরিয়ে রাখে সেসব অপরিষ্কার জলাভূমিতে । প্রতিবছর নতুন নতুন ভাইরাসবাহী রোগে অনেকের মরণ ঘটে তবুও সাতপাঁচ সমাজের মানুষগুলো অচেতনই থেকে যায় । কারোর মৃত্যতে প্রতিবারের মতো আবার শোক হয়, সমবেদনা হয় । শেষে আবার অচেতন জগতে চলে যায় ।

অচেতন সেই গড়াপত্তিত মানুষদের যাত্রাপালা দেখাতে চলে আসে জগতখ্যাত যাত্রাপালার দলগুলো । যাত্রার পালাগান আর বাজনার মধ্যে দিয়ে রঙিন কল্পনা ঢুকিয়ে দেয় সেই অচেতন মানুষদের । যুগ যুগব্যাপি ডুবিয়ে রাখে আকাশকুসুম স্বপ্নের জগতে । সুনিদির্ষ্ট নেই দর্শন, নেই চাওয়া, নেই আবেদন; যা আছে সবই যাত্রাপালা নায়ক নায়িকাদের জন্ম দেয়া আকাশকুসুম কল্পনা; তারা এবং পরী দেশের গল্প ।

(এসব গড়াপত্তিত অচেতন মানুষদের নিয়ে গল্পের সূচনাঃ )

Wednesday, September 19, 2012

"পাহাড়ী নারীর তিমিরাচ্ছন্ন জীবন এবং অনিশ্চিত পদচলা" - বনাম - "সেটেলার বাঙালীর আনন্দ উল্লাস এবং বিনোদন"




আমি এক পুরুষ । পুরুষতান্ত্রিক সমাজে বড় হয়েছি । পুরুষের পেশীর জোড় সম্পর্কে ভালো জানা আছে । নারী নির্যাতনের চিত্র মস্তিষ্কের স্মৃতিতে অনেক জমে আছে । পুরুষ হিসেবে এসবের দ্বায় এড়াচ্ছি না বরং, এক পুরুষ হিসেবে এসবের দ্বায় মাথা পেতে নিচ্ছি । আমাদের পাহাড়ের সমাজেও গুটিকয়েকভাবে নারী নির্যাতন চলতো তবে কখনো জঘন্য ছিল না । সবকিছুর পর এটা অস্বীকার করা যায় না অন্যসব পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মতো পাহাড়ী সমাজেও নারীদেরকে দূর্বল হিসেবে গণ্য করা হতো । তারপর ও, আদিবাসী পাহাড়ী জাতির ভাষাসমূহে 'ধর্ষণের' কোন প্রতিশব্দই ছিল না । তাই আগে যুবতী মেয়েরা ফ্রীলি দিন-রাত হেঁটে চলাফেলা করতো । নদী-পুকুর-খালে অর্ধ-উলঙ্গ হয়ে বিনা বাঁধায়, বিনা সমালোচনা অথবা কটুক্তিবিহীনভাবে স্নান করতো । কেউ কিছু বলতো না । আধুনিক বিশ্বায়ন যুগে সমাজ যেখানে সামনের দিকে এগুবে সেখানে পাহাড়ী সমাজকে ফিরে যেতে হচ্ছে অন্ধকার যুগে । হতে হচ্ছে কট্টোর রক্ষণশীল । পাহাড়ে যেসব বাঙালীদের সেটেলার বলা হয় তারা মূলত জিয়ার শাসনামল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্রগ্রামে অবৈধ বসতি গড়ে তোলে । সেসব সেটেলাররা এখন পার্বত্য চট্রগ্রামে পাহাড়ী মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে । পাহাড়ীদের জায়গাজমি জোড়পূর্বকভাবে যেমন কেড়ে নিচ্ছে, চালাচ্ছে কাটো-পুড়াও তান্ডব অন্যদিকে পাহাড়ী নারীদের উপর চালাচ্ছে 'ধর্ষণের' মতো হীন প্রচেষ্টা । গত কয়েক বছরে সেটেলার বাঙালী কর্তৃক পাহাড়ী নারীর 'ধর্ষণের' হার যেহারে বৃদ্ধি পেয়েছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না; সুস্থ মস্তিষ্কের যে কেউ শিউরে উঠবে । আর এর সু-বিচার ও হচ্ছে না । এখানে শুধু ২০১২ সালে ঘটা ধর্ষণের ঘটনাসমূহ সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরার প্রয়াস বোধ করলাম । রিপোর্টগুলো "সিএইচটি নিউজ বাংলা" থেকে সংগৃহীত । 

_________________________________________________________________________

17. খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়িতে সেটলার কতৃক এক পাহাড়ি তরুণী (১৭) গণধর্ষণের শিকার হয়েছে। আজ ১ ফেব্রুয়ারী বুধবার সকাল আনুমানিক দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মঘাইছড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তরুণীটি দুল্যাতলী ইউনিয়নের ডানে লক্ষ্মীছড়ি গ্রামের নরম্যা চাকমার মেয়ে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সকালে তরুণীটি তার এক আত্মীয়ের সাথে নান্যাচর যাবার উদ্দেশ্যে লক্ষ্ণীছড়ি থেকে মোটর সাইকেল যোগে মানিকছড়ির দিকে যাচ্ছিলেন। যাবার পথে মঘাইছড়িতে তাদের মোটর সাইকেল থামিয়ে কয়েক জন সেটলার যুবক তাকে তুলে নিয়ে যায়। রাস্তা থেকে প্রায় ১ কিলোমিটার ভিতরে নিয়ে গিয়ে চার সেটলার যুবক তাকে জোরপূর্বক পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা তরুণীটিকে অজ্ঞান অবস্থায় উদ্ধার করে থানায় খবর দেয়। পরে লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা চেয়ারম্যান ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও লক্ষ্মীছড়ি সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাস্থল থেকে ১টি ক্লিপ, ১টি কালো রুমাল, ১টি কালো হেলমেট ও সাদা-নীল-হলুদ রঙের ১টি বয়লার(তোয়ালে) আলামত হিসেবে উদ্ধার করেন। তারা তরুণীটিকে লক্ষ্ণীছড়িতে নিয়ে আসেন। এ সময় তরুণীটি চারজন সেটলার যুবক তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছে বলে জানিয়েছে।

16. খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার গুইমারার অক্ষয়মনি কার্বারী পাড়া রেজি: প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ম শ্রেণীর এক পাহাড়ি (ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) স্কুল ছাত্রীকে (১১) সেটলার মো: হারুণ কর্তৃক ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত ৩০ জানুয়ারি সকালে এ ঘটনা ঘটে।

বিলম্বে পাওয়া খবরে জানা যায়, ঘটনার দিন সকালে ওই স্কুল ছাত্রী প্রাইভেট পড়তে যায়। প্রাইভেট শেষে ফেরার পথে একা পেয়ে মোটর সাইকেল চালক মো: হারুণ তাকে মুখ চেপে ধরে পার্শ্ববর্তী জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। এতদিন প্রকাশ না হলেও গতকাল ৫ ফেব্রুয়ারি এ ঘটনাটি প্রকাশ হলে স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে চরম অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। স্কুলের প্রধান শিক্ষক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্কুল ছাত্রীর ভাই বাদী হয়ে হারুনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন সংশোধনী আইন ২০০৩, ৯/১ ধারায় গুইমারা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নং-০১/২০১২, ৬/২/১২।

15. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার ভোলাছোলা গ্রামের ব্র্যাক পরিচালিত স্কুলের পঞ্চম শ্রেণীর এক পাহাড়ি স্কুল ছাত্রী বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে। সে ভোলাছোলা গ্রামের থৈঅংগ্য মারমার মেয়ে বলে জানা গেছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গতকাল ২৩ মার্চ শুক্রবার সকালে ওই স্কুল ছাত্রীটি কয়লা বিক্রি করতে ফটিকছড়ির উপজেলার কাঞ্চনপুরের চৌমুহনী বাজারে যায়। সেখান থেকে ফেরার পথে গর্জনখোলা নামক স্থানে এসে পৌঁছলে কাঞ্চনপুরের বাসিন্দা মো: সিরাজুল ইসলামের ছেলে মো: সাদ্দাম ও তার সঙ্গী মো: আনিস ওই স্কুল ছাত্রীকে একা পেয়ে ঝাপটে ধরে রাস্তার পাশে জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে জোরপুর্বক ধর্ষণ করে।

14. খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপছড়ি গ্রামে থোয়াইচাউ মারমার মেয়ে মাসিউ মারমা (২৫) স্বামী চিংহ্লাগ্য মারমা সেনাবাহিনী কর্তৃক মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময় সেনা সদস্যরা তার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগে জানা গেছে।

জানা যায়, আজ ২৮ মার্চ বুধবার বেলা ২:৩০টার দিকে সিন্দুকছড়ি জোনের মেজর সাথাত এর নেতৃত্বে ২ পিকআপ আর্মি মানিকছড়ি উপজেলার দক্ষিণ সাপছড়ি গ্রামে অপারেশনে যায়। সেখানে গিয়ে তারা থোয়াইচাউ মারমা (৫৬) পিতা মৃত চাইপ্রু মারমার বাড়ি ঘেরাও করে এবং বাড়িতে ব্যাপক তল্লাশি চালিয়ে জিনিসপত্র তছনছ করে দেয়। এ সময় থোয়াইচাউ মারমার মেয়ে মাসিউ মারমা বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। সেনারা মাসিউ মারমার কাছ থেকে সন্ত্রাসীদের চিনো কিনা, তারা কোথায় থাকে ইত্যাদি হয়রানিমুলক জিজ্ঞাসা করে এবং সন্ত্রাসীদের দেখিয়ে দাও দেখিয়ে দিতে না পারলে তোমাকে বাঁশ ধোলাই দেবো বলে হুমকি দেয়। মাসিউ মারমা আমি কিছুই জানি না বলে উত্তর দিলে সেনারা তাকে বাঁশ দিয়ে কপালে আঘাত করে। এতে সে কপালে আঘাত পায়। এ সময় সেনারা মাসিউ মারমার সাথে খারাপ ব্যবহার করেছে বলেও তাঁর এক আত্মীয় জানিয়েছেন।

13. খাগড়াছড়ির মাটিরাঙা উপজেলার গোমতি ইউনিয়নের কিরণ মাষ্টার পাড়ায় ৩৫ বছরের এক প্রতিবন্ধী পাহাড়ি(ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের) নারী সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষিত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ২৫ এপ্রিল ২০১২, বুধবার রাত সাড়ে সাতটায় এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষিত হওয়া ওই নারী একজন বাক প্রতিবন্ধী।

জানা যায়, ঘটনার দিন ধর্ষিত হওয়া ওই নারী ১৯৫ নং বামা গোমতি মৌজার অপূর্ণ মহাজন পাড়া রেজি: প্রা: বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক কিরণ ত্রিপুরার বাড়িতে বেড়াতে যায়। এদিন কিরণ ত্রিপুরার শ্বশুর মারা যাওয়ায় ওই নারীকে বাড়িতে রেখে পরিবার-পরিজনসহ কিরণ ত্রিপুরা শ্বশুর বাড়িতে যান। এ সময় পাশ্ববর্তী পশ্চিম গরগরিয়া চৌদ্দগ্রামের আব্দুল মতিনের ছেলে অলি আহম্মদ ওরফে অলিয়া(৩৮) ও আব্দুল আজিজের ছেলে জিনাত আলী(৩৫) কিরণ মাষ্টারের বাড়িতে গিয়ে ওই নারীকে একা পেয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। স্থানীয় এলাকাবাসী ধর্ষণকারীদের আটক করেছে বলে জানা গেছে।

12. রাঙামাটির লগদুতে সেটলার কর্তৃক এক পাহাড়ি নারীকে ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ২৮ এপ্রিল শনিবার এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, লংগদু উপজেলার ৩নং গুলশাখালী ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জারুলছড়ি গ্রামের বাসিন্দা কালা ধন চাকমার স্ত্রী আলপনা চাকমা(ডাক নাম চিবাচোগী) (৪৫) সকালে মিইনী দোর বাজারে গিয়েছিলেন। বাজার থেকে ফেরার পথে দুপুর ১টার সময় চাকমা পাড়া ও বাঙালি পাড়ার মধ্যবর্তী নির্জন স্থান এরশাদ মাষ্টারের আম বাগানে এসে পৌঁছলে একা পেয়ে একদল সেটলার তাকে ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে এবং ধর্ষণের পর কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। এক পর্যায়ে সেটলাররা মৃত ভেবে তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে বিকালে স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে। তার মাথায় এবং শরীরে বিভিন্ন স্থানে চারটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। বর্তমানে তাকে লংগদু রাবেতা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

11. রাঙামাটি জেলার লংগদু উপজেলার আটরকছড়া উল্টোছড়ি গ্রামের মৃত জ্যোতিষ চন্দ্র চাকমার ১১ বছর বয়সী শিশু কন্যা সুজাতা চাকমাকে সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের পর হত্যা করার অভিযোগ পাত্তয়া গেছে। সুজাতা উল্টোছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর ছাত্রী বলে জানা গেছে। আজ ৯ মে বুধবার বিকেল আড়াইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

 সুজাতা চাকমা ছয় বছর বয়সী অপর এক শিশুকে নিয়ে গ্রাম থেকে আধ কিলোমিটার দূরে গরু চড়াতে যায়। প্রত্যক্ষদর্শী শিশুটির ভাষ্য অনুযায়ী, একজন দাড়িওলা বাঙালি হত্যাকারী ইব্রাহীমের এসে সুজাতাকে ধরে জোর করে সাদাছড়ার উপরের দিকে ধরে নিয়ে যায়। সে সময় সে দৌঁড়ে এসে গ্রামে খবর দেয়। তারপর গ্রামের লোকজন উদ্ধারে গেলেও ঘনটনাস্থলে পৌঁছার আগে ধর্ষণের পর হত্যাকারী পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুজাতার লাশ উদ্ধার করেছে।

10. দীঘিনালায় পঞ্চম শ্রেণীতে পড়ুয়া এক পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে জহিরুল ইসলাম (২৩) ওরফে জহির ড্রাইভার নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি উপজেলার কুমিল্লাটিলার মৃত উলা মিয়ার ছেলে। গতকাল বুধবার কুমিল্লাটিলা এলাকা থেকে তাকে পুলিশ গ্রেফতার করে।(খবর সুপ্রভাত বাংলাদেশ, ১০ মে ২০১২)।

পুলিশ ও স্কুলছাত্রীর পারিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ মে মঙ্গলবার বিকাল তিনটায় উপজেলার পোমাংপাড়া (ত্রিপুরাপাড়া) গ্রামে অভিভাবকদের বাড়িতে না থাকার সুযোগে বাড়িতে ঢুকে জহিরুল ওই পাহাড়ি স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। পরে ছাত্রীটি চিৎকার দিলে জহিরুল পালিয়ে যায়।

9. রাঙামাটিতে সেটলার বাঙালি কর্তৃক এক পাহাড়ি নারী (২২) ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। কল্পনা অপহরণের ১৬তম বার্ষিকীর দিন গতকাল ১২ জুন মঙ্গলবার  এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাঙাপানি গ্রামের বাসিন্দা ঐ নারী সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে  নিজ বাড়ি থেকে পাঁয়ে হেঁটে বনরূপায় যাচ্ছিলেন। যাবার পথে জেলা পরিষদের চিড়িয়াখানার পার্শ্ববর্তী স্থানে পৌঁছলে রেডিও সেন্টার এলাকার বাসিন্দা নুরুজ্জামান (২৫) তাকে একা পেয়ে ঝাপটিয়ে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ঐ নারী চিৎকার দিলে আশে-পাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে এবং নুরুজ্জামানকে ধরে ফেলে। পরে গণধোলাই দিয়ে নুরুজ্জামানকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে এলাকাবাসী। ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার ঐ নারী নুরুজ্জামানের বিরুদ্ধে রাঙামাটি কোতোয়ালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেছেন।

8. রাঙামাটির ভেদভেদী এলাকার উলু ছড়ায় বলি মিলা চাকমা (৩৫) নামে একজন পাহাড়ি নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে খবর পাওয়া গেছে। সে বরকল উপজেলার ৪নং ভূষণ ছড়া ইউনিয়নের সুগরি পাদা ছড়া গ্রামের বাসিন্দা দুর্গ চাকমার স্ত্রী। আজ ৭ জুলাই শনিবার বিকালের দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে।

সূত্র জানায়, বলি মিলা চাকমার মেয়ে ভেদভেদী এলাকার উলু ছড়ায় এক আত্মীয়ের বাসায় থেকে রাঙামাটি শহরে পড়াশুনা করছে। তার মেয়েকে খবর নিতে এবং ডাক্তার দেখানোর জন্য বলি মিলা চাকমা রাঙামাটি শহরের ভিতর উলুছড়ির আত্মীয়ের বাড়িতে আসেন। আজ শনিবার বিকালের দিকে পানি আনতে সে পাশ্ববর্তী ছড়াতে যায়। দীর্ঘক্ষণ পরও বাড়িতে ফিরে না আসায়ে আত্মীয় বাড়ির লোকজন খোঁজাখুজির পর ছড়ার  পাশের জঙ্গলে তার লাশ দেখতে পান। পরে তারা পুলিশকে খবর দিলে বিকাল আনুমানিক ৪টার দিকে গলাকাটা অবস্থায় পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ ফেলে রেখে দুষ্কৃতিকারীরা পালিয়ে যায়। কে বা কারা এ হত্যার ঘটনা ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। তবে, তাকে বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের পর তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে স্থানীয় লোকজন ধারণা করছেন।

7. খাগড়াছড়িতে এসএসসি পরীক্ষার্থী এক পাহাড়ি ছাত্রীকে যৌন হয়রানীর অভিযোগে এপিবিএন উচ্চ বিদ্যালয়ের বিপিএড (ক্রীড়া) শিক্ষক কামাল উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় অনুষ্ঠিত এপিবিএন হাই স্কুলের বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

জানা যায়, গত ১১ মে, শুক্রবার সকালে শিক্ষক কামাল উদ্দিন তার নিজ বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর নাম করে মোবাইলে ফোন করে  হরিণাথ পাড়া থেকে ওই ছাত্রীকে ডেকে আনে। বাসায় তার স্ত্রী থাকায় কৌশলে তাকে স্থানীয় এমপি’র বাড়ি সংলগ্ন মিলনপুর (ওয়াপদা) এলাকার একটি পরিত্যক্ত দোকানে নিয়ে যায়। এ সময় সে ওই ছত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে স্থানীয় ছেলেরা ওই শিক্ষককে হতেনাতে ধরে ফেলে। ছাত্রীর অভিভাবকের অভিযোগ পাওয়ার পর খাগড়াছড়ির পৌর মেয়র রফিকুল আলম খাগড়াছড়ি পৌর সভা সম্মেলন কক্ষে সালিশি বৈঠক করেন। বৈঠকে ছাত্রীর অভিভাবক অভিযোগ উত্থাপন করে বলেন, “আমার মেয়েকে ওই শিক্ষক মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানী করেছে।”

6. খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে চতূর্থ শ্রেণীতে পড়ূয়া মারমা সম্প্রদায়ের এক মেয়ে শিশুকে(১২) জনৈক সেটলার কর্তৃক ধর্ষণের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। গতকাল ১ আগষ্ট বুধবার দুপুর ২টার দিকে মানিকছড়ি উপজেলার বাটনাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, চেম্প্রুপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া ঐ শিশুটি ২য় সাময়িক পরীক্ষা শেষে বাড়িতে ফিরে ভাত খাওয়ার পর তুষ বিক্রি করতে তার থেকে কম বয়সী আরো দুই শিশু সহ পাঁয়ে হেঁটে বাটনাতলী বাজারে যাচ্ছিল। যাবার পথে এক সেটলার যুবক(১৮) তাদের পথরোধ করে এবং ঐ শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় শিশুটি চিৎকার দিলে সেটলার যুবকটি পালিয়ে যায়। এ ঘটনার পর শিশুটি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। ফলে আজ বৃহস্পতিবার পরীক্ষা থাকার পরও সে আর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি।

5. খাগড়াছড়ি জেলার দিঘীনালা উপজেলাধীন ৯ মাইলের তপন কার্বারী পাড়ার রণ বিকাশ ত্রিপুরার ১১ বছরের কিশোরী মেয়ে পুলিশ সদস্য কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। আজ ২১ আগস্ট মঙ্গলবার বিকাল ২:৩০টার সময় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, দিঘীনালা উপজেলার ৯ মাইল এলাকার অটল টিলা পুলিশ ক্যাম্পের পূর্ব পাশে ঐ কিশোরীটি গরু চরাতে যায়। এ সময় একা পেয়ে ঐ ক্যাম্পের কনস্টেবল রাসেল তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ধর্ষণের আগে পুলিশ কনস্টেবলটি কিশোরীর ডান পায়ে ও ডান হাতে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। পরে কিশোরীটি এ ঘটনা তার মাকে খুলে বললে তার মা নিত্যবালা ত্রিপুরা ধর্ষণের শিকার ঐ কিশোরীকে সাথে নিয়ে পুলিশ ক্যাম্পে গিয়ে ক্যাম্পের দায়িত্বরত মো: শাহ আলমকে ঘটনাটি জানিয়ে বিচারের দাবি করে। শাহ আলম তাদেরকে ১,০০০(এক হাজার) টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এরপর নিত্যাবালা ত্রিপুরা তপন কার্বারী ও ত্রিপুরা স্টুডেন্ট ফোরামের কর্মীদের ঘটনাটি জানায়। পরে এলাকাবাসীর চাপের মুখে পুলিশ ধর্ষণকারী কনস্টেবল রাসেলকে গ্রেফতার করতে বাধ্য হয়েছে বলে জানা গেছে।

4. খাগড়াছড়ি জেলার মাটরাঙ্গা উপজেলাধীন ১৯১ নং তাইন্দং মৌজার  হেডম্যান পাড়ায় আজ ২২ আগস্ট ২০১২, বুধবার দুপুর ২ টায় এক পাহাড়ি বৃদ্ধা নারীর লাশ পাওয়া গেছে। নিহত ওই নারীর নাম ফুল কুমারী ত্রিপুরা(৮২) স্বামী: কমলা কুমার ত্রিপুরা।  

জানা যায়, গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি ছড়ায় মাছ ধরতে গিয়ে ওই নারী ফিরে না আসায় পরিবারের লোকজন খোঁজাখুজির পর তার লাশ খুঁজে পায়।  নিহতের শরীরের হাতে ও গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলে জানা গেছে। সেটলাররা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে বলে গ্রামবাসীরা ধারণা করছেন।

3. খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার ২নং পাতা ছড়া ইউনিয়নের কালাপানি গ্রামের ১২ বছরের এক পাহাড়ি কিশোরী বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণ প্রচেষ্টার শিকার হয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল ৪ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

সূত্র জানায়, গতকাল মঙ্গলবার সকালে ঐ কিশোরী তার মায়ের সাথে ফটিকছড়ির দাঁতমারা বাজারে যায়। বাজার থেকে দুপুর ১টার দিকে সে তার মাকে বাজারে রেখে এসে একাই একটি ভাড়ায় চালিত মোটর সাইকেল যোগে বাড়িতে ফিরছিল। ফেরার পথে বালুখালী নাসিয়া চা বাগানের নির্জন স্থানে এসে পৌঁছলে দাঁতমারা এলাকার চাঁদ মিয়ার ছেলে মোটর সাইকেল চালক মো: আলমগীর(২৫) তাকে মুখ চেপে ধরে জঙ্গলে টেনে নেয় এবং ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এ সময় খালেক নামে দাঁতমারা থেকে এক বাঁশ ব্যবসায়ী ও শাহজাহান নামে এক ব্যক্তি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদেরকে দেখে ঐ কিশোরী চিৎকার দিলে মো: আলমগীর পালিয়ে যায়। পরে তারা ঐ কিশোরীকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেয়।

2. গত ৮ সেপ্টেম্বর কর্ণফুলী ডিগ্রী কলেজে পড়ুয়া এক পাহাড়ি কলেজ ছাত্রীকে সেনা সদস্য মো: আবু ইউসুফ ধর্ষণের চেষ্টা করে। নিরাপত্তা বাহিনীতে কর্মরত ওই এলাকার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ গত শনিবার রাত দেড়টার দিকে বাড়ির বেড়া কেটে ছাত্রীদের ভাড়া বাসায় ঢোকেন। এ সময় তিনি এক ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। পরে সেখান থেকে তুলে নেওয়ারও চেষ্টা করেন। এই অবস্থায় ছাত্রীটির চিৎকারে তাঁর সহপাঠী ও আশপাশের লোকজন সেখানে গেলে আবু ইউসুফ পালিয়ে যান।

1. খাগড়াছড়ির দিঘীনালা উপজেলার কবাখালী ইউনিয়নের নালকাটা গ্রামে এক পাহাড়ি নারী (২৫) সেটলার বাঙালি কর্তৃক ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

জানা যায়, আজ ১৮ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির পাশ্ববর্তী টিলায় গরু আনতে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা একই ইউনিয়নের উত্তর মিলনপুর গ্রামের মো: গফুর আলী পিসির ছেলে মো: আজাহার(২৫) পিছন দিক থেকে গিয়ে ঐ নারীকে হঠাৎ ঝাপটে ধরে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে ও শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করে অজ্ঞান অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। পরে তার স্বামী অজ্ঞান অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে। তাকে প্রথমে দিঘীনালা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

Tuesday, September 18, 2012

বন্যা এবং এক সাধারণ মানুষ !!



বন্যা হওয়া প্রকৃতিগত এক চরিত্র । কিন্তু বর্তমান বিশ্বে বন্যা হওয়ার পিছনে মনুষ্যকর্তৃক সৃষ্ট রাসায়নিক বর্জ্যগুলোর অপব্যবহারকে ও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বসহকারে দোষারোপ করা হয় । অগোছালো এই হৃদয়মন্দিরে কতো যে প্রবল স্রোতময়ী বন্যা হয়ে যাচ্ছে আমরা কেউ তা জানার জন্য আগ্রহী নই । যখন নদীর পানি উপসে গিয়ে খাল-বিল পরিপূর্ণ করে, তখন আমরা উতাল মনে বাউল গানের সুর তুলি। সময় নেই হা হুতাশের । চারদিকে শুধু আনন্দের ঘনঘটা । উদাসীন মনে ছুঁটে চলি এলোপাতাড়িভাবে যেদিকে দুচোখ এবং কল্পনার জাল বুনে যায় । প্রকৃতিকে কে না ভালবাসে বলো (?) রাখালিয়ার সুর উত্তপ্তরৌদ্রে ও যেভাবে অশান্ত মনকে শান্ত করে স্বপ্ন দেখাতে জানে, ঠিক সেভাবে বর্ষার ঝড়ো হাওয়া শীতল হওয়াতে ও হৃদয়স্বত্ত্বাকে ভাবিয়ে তুলে রোমান্তিকতার ছোঁয়া জাগিয়ে দিয়ে যায় । টেলিভিশনে কতো যে বন্যা দেখেছি, যদিও বাস্তবে উপলব্দি করিনি কখনো । 

খুশি হলে ও দূঃখ রয়ে গেলো বন্যার কবলে পড়তে গিয়ে । এ যেনো এক দূঃখময়ী সুখমিশ্রিত বাস্তব অভিজ্ঞতা । ঘুম হারাম করে রাতভর লাইব্রেরি এবং অফিসিয়াল নতিপত্রগুলো সরাতে হয়েছিল । খাওয়া-দাওয়া-গোসল কাজকারবার রীতিমতো হয়ে উঠেনি । তারপর ও রীতিমতো ক্যম্পাসের বাইরে বসবাসরত ছাত্র/ছাত্রীদের খোঁজখবর নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠাতে হয়েছিল । আমাদের খবর কে আর রাখে । মা-বাবারা এতো কষ্ট করে সন্তানের দেখাভাল করেন, কিন্তু সন্তানেরাতো উদাস মনে গানের সুরে নাচতে নাচতে দূরে বহুদূরে গিয়ে লাফালাফি করে । এই যেনো হয়ে গেলো জগৎ সংসারের নীতি । কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়াই করেছি, লাইব্রেরীর একটি বইকে ও ভিজটে দিইনি । তাই লাইব্রেরীর কোন বইয়ের স্বর্দি ধরেনি, যদিও আমরা ধরা খেয়েছি । ধরা খেলে ও মরে যাইনি, বরং অভিজ্ঞতা পেয়েছি । হা হা হা হা ! ধোর্য্য হারা হতে নেই -দৃঢ় মনোবল থাকা চাই । তুমি একদিন জীবন সংগ্রামে জয়ী হবে বাবা । মনের বন্যাকে চিনতে ভুল করিস না বাবা । হিংসা - লোভ - লালসার মতো ভয়ংকর বন্যা আর থাকতে পারে না । তাই সাবধান !

Wednesday, April 25, 2012

মানবতাবাদ বনাম মনুষ্যত্ববোধ



মানবতাবাদ জিনিসটি কি (?) এটিও কি এক ধরনের মতবাদ -নাকি বিপ্লবী চেতনারই বহিঃপ্রকাশ (?) অথবা মনুষ্যত্বের দায়বদ্ধতা (?) খুবিই জটিল এবং চিন্তার বিযয় ও বটে। কাকতালিয়ভাবে শব্দটি আমাকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং নতুনভাবে ভাবিয়ে তুলতে শুরু করেছে -যদি ও ১৯৯০-এর নভেম্বরের দিকে ভারতের ত্রিপুরায় শরনার্থী শিবিরে থাকাকালীন জেনেছিলাম আমাদের খোজঁ খবর নিতে নাকি ডেনমার্ক থেকে এক মানবাধিকার কর্মীর দল এসেছে। বয়স তখন ৫ এবং ৬ বছরের মধ্যে। অত্যন্ত আগ্রহী হয়ে ছুঁটে গিয়েছিলাম সাদামানুষের সেই দলকে এক পলকের জন্য দেখবো বলে। অনেকের মুখে-মুখে শুনেছিলাম -এদের অনেকেরই নাকি এলএলবি পাশ করেছে। অধ্যায়নের সর্বোচ্চ স্তর। মনেমনে তখন ভাবনার ঢোল ঝুলতেছিলো আমারও, আমাকে ও একদিন এমন অধ্যায়ন করতে হবে -যেনো এরকম হাজারো মানুষের ভীরে হাততালির গুন্ঝন শুনতে পায় -মানুষের মনে আমি যেমন আনন্দ পাচ্ছি সেভাবে আনন্দ কিংবা উদ্দীপনা যোগাতে পারি। স্বপ্নের বিভোরে ভেসে চলে সেই অবুঝ বালকের মন। স্বপ্ন দেখতে থাকে অনাবিল আনন্দে -সে বুঝতে চাইতো না যে সে কতটা অহেলিত এবং নির্যাযিত। মা-বাবার অবাধ্য হয়ে জীবনের মর্ম কি খুজেঁ চলে -বনে-জঙ্গলে-নদীনালা-খালবিলে। হিন্দী সিনেমা দেখতে বাবার কাছে টাকা চেয়ে নেয় -আর ছুটেঁ যায় সুতাবিহীন ঘুড়ির মতো। উড়তে থাকে আকাশের শূণ্যদ্বীপে -মুক্তমনে -স্বাধীনভাবে। নেই কোথাও বিধিনিষেধ -রিলিজিওন-এর দায়বদ্ধতা। শুধু ঘুরে বেড়ানো আর সময়ে পাঠশিক্ষা এবং ক্ষুধা নিবারণ করা। তবুও সে স্বপ্ন দেখে একদিন এলএলবি পাশ করে -মানুষের প্রশংসা কুড়াবে। কি কঠিন স্বপ্ন সেই অবুঝ বালকের (?) এখন সে অবুঝ বালকটি একাকী বসে চলে যায় সেই সোনালি স্বপ্নের যুগে আর হাসে। কি জটিল মানুষের এই জীবন (?)।

যাহোক, প্রসঙ্গে আসি যা নিয়ে কিছু লিখবো বলে জটিল সৃষ্টির সাহায্য নিয়েছি। প্রসঙ্গটা হচ্ছে “মানবতাবাদ” কিংবা “হিউমিনিজম”কে নিয়ে। আমি এর সচ্ছতা নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং সন্দেহ প্রকাশ করি, যখন ব্যাঙের ছাতারমতো গজানো “মানবাধিকার সংস্থার” ফলকগুলোকে বিভিন্ন গণমাধ্যমসমূহে দেখি। “মানবতাবাদ এবং মানবাধিকার” -এর দুয়ের পার্থক্যটা জানতে আমার মনের কৌতুহল বাড়ে। এর জন্য যে তারপর বেশি বই পড়েছি তা ও নয় -বরং সকাল-বিকেলে নিজের মনুষ্যত্ববোধের কাছে প্রশ্ন ছুড়েঁছিলাম আর উত্তর খুজেঁছিলাম। তাই আমার এই লেখাটি কেবলমাত্র এক ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতারই ফসল। এক মানুষের সত্যিকার মনুষ্যত্ববোধ কোথায় তা অনুসন্ধান করতে আমাকে এই ২৬ বছর বয়সে আসতে হয়েছে। এখন নির্ধিদায় বলতে পারি “মানুষের গুণাবলীর স্থান বাইরের কোথাও নয় -বরং একজন ব্যক্তিতেই সেসব নিহিত থাকে আর সেসব গুণাবলীকে আত্ম-প্রচেষ্টার মাধ্যমে আবিষ্কার করা হচ্ছে জীবনের আসল উদ্দেশ্য -তাই স্বপ্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজস্ব মনুষ্যত্ববোধকে খুজেঁ পেতে হয় -যা সবকিছুর উর্ধ্বে”। এর আগ পর্যন্ট কেউ সত্যিকার মানবতাবাদী হতে পারবে না -সে যতবড় প্রসিদ্ধ কিংবা নামজাদা মানবতাবাদী কর্মী হোক -যে পর্যন্ট না সে নিজেকে শুধু এক মানুষ হিসেবে চিনতে পারে। পৃথিবীতে বর্তমানে হরেকরকমের ব্যবসা হয় -এরই মধ্যে “মানবাধিকার” ও একটি -যাতে কোনো সন্দেহ নেই। কোনো এক ঘটনার পরবর্তীতে -উক্ত ঘটনারই পরিপ্রেক্ষিতে পত্রিকায় লেখা, কিংবা টিভিতে প্রচার করা, অথবা ওয়েবসাইট-এ নিজস্ব মতামতের উপর ভিত্তি করে অভিব্যক্তি প্রকাশ করা -এই হলো বর্তমান মানবাধিকার কর্মিদের কাজ। খুবিই সীমিত এবং হীন এক ব্যবসা। একদিন এক নামকরা মানবাধিকার কর্মীর সাথে দেখা হলে নিজেই নিজের গোপনতা প্রকাশ করলেন -বললেন যে কোনো এক সময় মালদ্বীপ সরকারের লঙ্ঘনকৃত অপরাধের বিরুদ্ধে লিখতে যাবে শুনে -সরকার নাকি উনাকে ২ কোটি রুপি দিতে রাজী হয় -তার বিনিময়ে তবু ও সংবাদ প্রচার না করা। আমিতো জানি সবগোপনী্য়তা। খেলেও কেউ কি কিছু বলবে -হ্যাঁ, আমি খেয়েছি। দিলে ও কেউ কি বলবে -হ্যাঁ আমি এতো লক্ষ টাকা উনাকে দিয়েছি সে যেনো সংবাদ না ছাপাই। খুবই নিরাপদ পেশা -এককথায় ঠান্ডামাথায় দূর্নীতি। তবুও উনাদের কমবেশি যে মানবিক মূল্যবোধ নেই তা অস্বীকার করছি না।

পার্বত্য চট্রগ্রামে যখন সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয় -মূলত দুধরনের সংবাদ গনমাধ্যমের কাছে পৌঁছাতে সংবাদমাধ্যমে ছাপানো হয়। এক: পাহাড়ি সন্ত্রাসীরা নিরীহ বাঙ্গালীদের পল্লীতে তান্ডবলীলা চালিয়েছে, এর বর্ণনা দিতে রামায়নের কাব্য বানানো হয়, নতুবা- দুই: মাঝেমাঝে আসতে পারে নিরপেক্ষ নমুনায়, যেমন পাহাড়িদের গ্রামে আগুন -যা ঘটেছে মূলত এক অঙ্ঘাত দলের কারণে। এই অঙ্ঘাত দলটি কে বা কারা -ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা আর মিলে না। আর দেশহিতৌষী-বরেণ্য-সম্রাঙ্ঘী সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে কে একবিন্দু কথা বলার সাহস রাখে। এখানে এসে সব সত্য ভূ-গর্ভের নিচে চলে যায়। সরকারকর্তৃক লোকদেখানো মানবাধিকার সংঘ ঘটন করা হয় -ঘটনার সত্যটা কতিয়ে দেখবে বলে। আদৌ কি কোনো সত্য উৎঘাটন হয়েছে (?) যা হয়েছে সবটা হয়েছে এর উল্টো -বিকৃতভাবে বাঙ্গালী জাতীয়তাবাদের উপর ভর করে পাহাড়িদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদী মহল হিসেবে। যাদেরকে নিয়ে মানবাধিকারের সংঘ ঘটন করা হয়েছে -উনারাতো আবার অল্পশিক্ষিত কিংবা নির্বোধ ব্যক্তি ও নন -উনারা ওতো কোনো না কোনোভাবে মানবাধিকারের পেশা নিয়ে জড়িত। তাহলে -সত্য কেনো তবুও গোপন থাকে (?)। কারণ একটাই, উনারা যদিও মানবাধিকারের কথা বলতে চান -কিন্তু সত্যিকার অর্থে মানবতাবাদী হতে পারেন নি -অর্থাত্হ মনুষ্যত্ববোধ সম্পর্কে জ্ঞান পরিধি সীমিত -সোজা কথায়, মানবতা কি জিনিস তা ভালোভাবে হৃদয়ালব্ধী হয়নি অথবা জানেন না। হয়ত বা হতে পারে বাঙ্গালী জাতিয়তাবোধ আদৌ উনাদের পিছু টানে -নতুনা মাইনে কমবে বলে চিন্তা করে। এই হচ্ছে বর্তমান বিশ্বের মানবাধিকার কর্মীদের কার্যকলাপ। হবে না ও কেনই বা -যে আমেরিকা জাতিসংঘকে সিংহভাগ অর্থ যোগান দেয় বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্টার জন্য -আর সে আমেরিকাই আবার আফগানিষ্টান এবং ইরাকে বোমা ফাটে সন্ত্রাসী নির্মূল করবে চলনায়। আবার মানবতার দরদ দেখিয়ে উত্তর কোরিয়া, মিয়ানমারের মতো অনগ্রসর দেশগুলোর প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। কি নিষ্ঠুর মানবজাতি (?)। সবদিক দিয়ে অবর্ণিত ক্ষতি নিরীহ জনসাধারণের উপরই সাধিত হচ্ছে।

মানুষের একটাই স্বভাব সহজে অন্য আরেকজনকে প্রভুত্ব আসনে বসিয়ে রাখা -যারপরিপ্রেক্ষিতে রচনা করতে পারে নতুন অন্য এক কেতাব -আমার প্রভু জনমানুষের কথা ভেবেছিলেন বলে নিজের জীবনের কথা চিন্তা করেন নি। আমার প্রভু জনদরদী-হৃদয়বান ব্যক্তিদের একজন -এক কথায় অবিনশ্বর এবং ইত্যাদি…..ইত্যাদি। এইসব হচ্ছে একধরণের সুবিধাবাদী মহলের প্রচারণা। মানবতাবাদের টুপিটি কিন্তু এনারা আগে পড়েন। এনারা চেঁচিয়ে গলাফাতান -যেকোনোভাবে হোক মানুষদের সামনে মানবতাবাদী সাজতে হবে। আবার নিরীহ কিন্তু অল্পশিক্ষিত মানুষেরা এনাদের কথা সহজেই বিশ্বাস করেন -কারণ অধিকাংশ সমাজের জনগোষ্ঠি আদৌ স্বশিক্ষিত হতে পারেননি যদিও উচ্চশিক্ষিত হয়েছেন বটে।

এখন প্রশ্ন হতে পারে “মানবতাবাদ” জিনিসটা কি -বস্তু নাকি ব্যক্তি (?) মানবতাবাদের সত্যিকার তাৎপর্য অন্য আরেকজনকে হৃদয়ক্ষম করানো এক ধরনের দুরদিগম্য ও বটে -কেননা মনুষ্যত্বকেতো নিজের মাঝে আগে খুজেঁ পেতে হয়। মনুষ্যত্ববোধ হচ্ছে নিজেকে আগে শুধুমাত্র মানুষ হিসেবে চেনা -যেখানে আটাঁ থাকবে না রিলিজিওন-জাতি-বর্ণের ভেদাবেদ। নিজেকে আগে অনুধাবণ করা শুধুমাত্র এক মানুষ হিসেবে -তারপর চিন্তার গভীরে নিয়ে যাওয়া সত্যিকার মানবিক গুণাবলীগুলোকে অন্বেষনের প্রয়াসে। নিজেকে বারবার প্রশ্ন করা -এক মানুষ হিসেবে আমার কি কি গুণাবলী থাকার প্রয়োজন (?)। ধরুণ, আমি চিন্তা করছি আমার মানুষ হিসেবে দরকার -অন্ন, বস্ত্র এবং বাসস্থান। তারপর ধারাবাহিকভাবে চলে আসে ভাষাগত-সংষ্কৃতিগত মৌলিক অধিকারগুলোর কথা। যা আমার আছে -অন্যদের ও থাকা আবশ্যক, যা আমি পারি না -অন্যদের ও পারতে বাধ্য করবো না। আমার যা স্বাধীনভাবে চিন্তাবিকাশের অধিকার -আমার মতো অন্য আরেকজনওটো চিন্তা করতে পারে -যা উনার ও মৌলিক অধিকার। আমি যেমন রক্তে-মাংসে গড়া এক মানুষ, সে ও টো এক মানুষ। আমার থাকতে পারে উনার কেনো থাকতে পারে না (?)। অর্থাৎ-প্রথমে নিজের মূল্যবোধকে আবিষ্কার করা -আর অন্যদের ও সেভাবে দেখা। তাকেই বলে মানবতাবাদ। আর এই মানবতাবাদের সত্যিকার তাৎপর্যকে প্রচারের মাধ্যমে জনমানুষকে সচেতন করার উদ্দেশ্যতাই হচ্ছে মানবাধিকারের সংস্থাগুলোর মূলমন্ত্র হওয়া উচিত বলে আমি নির্ধিদায় মনে করি।

পরনিন্দা নাকি আত্ম-সমালোচনা ??

মানুষের স্বভাবগত সংষ্কার পরিবর্তন করা খুবই কঠিন এবং এক ধরনের উন্নয়নের প্রতিবন্ধকতা; যার পরিপ্রক্ষিতে জীবনে অনেক জাগতিক বাস্তবতাকে উপলব্ধি করা স্বত্ত্বে ও চেনা হয়ে উঠে না । অচেনা বাস্তবতাগুলো বারবার আঘাত দিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করে দেয়া স্বত্ত্বে ও আমাদের খুব কম জনেরই বাস্তব চেতনার উদ্ভব ঘটে; তাই হিংসা-বিদ্বেষগুলো প্রকর থেকে প্রবলতর হয়ে বেড়ে উঠে । হারানো ব্যথা-বেদনায় যখন স্পর্শকাতরে পরিপূর্ণ হৃদয় ছিন্ন-ভিন্ন হয়ে যায়, পরাজয়ের হতাশা যখন গ্রাস করে রাহুরুপী ধারণ করে তখনিই শুরু হয় তীব্র হা-হুতাশ । বাকী থাকে শুধু আক্ষেপ এবং সমবেদনা; নির্দয়ের সর্বশেষ স্তর ।

সবকিছুর সাথে আমরা অচেনা এবং অজানা হয়ে বসবাস করতে চাই - একসাথে বসবাস করেছি বহু বছর যাবৎ তবু ও চিনতে পারিনি "হতাশা" কি ? একসময় হতাশাই ছিল আমার একমাত্র বন্ধু, নিদ্রার পরম শত্রু, ক্ষুদার্ত পাকষ্থলির জ্বালানিবারক কিংবা পিপাসু শরীরের দূর্বলতা । তবু ও ভুলে গিয়েছিলাম পিছনে ফেলে আসা সেই বন্ধুসুলভ 'হতাশা'র কথা - কিন্তু সে যে কখনো আমাকে ভুলে থাকার নই -সুযোগ ফেলেই ঝাঁপড়ে ধরবে; খেয়ে ফেলবে জটিল শরীরটাকে - বাকি রাখবেটা কি বলা কঠিন । কিন্তু এটো বছর যার সাথে কাটিয়েছিলাম সেই 'হতাশা'কে আমার কি একবার ও চেনার দরকার ছিল না (?) যে আমাকে ভুগিয়েছে -আমাকে মরণের পথে ধাবিত করেছে -সবকিছু লুটে নিতে চেয়েছিল সেই হতাশাকে আমি এতো সহজে কেনো ভুলতে বসলাম (?) আমাকে একজনই ব্যর্থ করতে চেয়েছিল -জীবনকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল - চোষকের ন্যায় আমার শরীরে যা রক্ত ছিল সব চুষে নিতে চেয়েছিল -কাঁদিয়েছিল - আঘাতে জর্জরিত করে শরীরের ক্ষুদ্রানু কোষগুলোকে দূর্বল করে রেখে দিয়েছিল দু-দুটো বছর -সেই "হতাশা"কে আমি ভুলতে বসেছিলাম । আমি স্বার্থপরের ন্যায় আচরণ করতে চেয়েছি - পারিবারিক দ্বায়িত্ববোধকে বিসর্জন দিয়েছিলাম - কেননা সাংসারিক বন্ধন ছিন্ন করে আমি শুধু এক সত্যিকার মানুষ হতে চেয়েছিলাম । আমি হতাশা'কে আর উপলব্ধি করতে চাই না -বরং আমি এখন চিনতে চাই -বুঝতে চাই । এই হতাশাকে আমি যা খুশি তা বলতে পারি, গালমন্দ করতে পারি; কারণ সে ছিল আমার - ভবিষ্যতে থাকবে আমারই । ইহা পরনিন্দা নই বরং আত্ম-সমালোচনা । আমরা ভুল করে পরনিন্দা এবং আত্ম-সমালোচনাকে এক করে গেঁথে ফেলি -যার চুড়ান্ত পরিণতি জটিলতা - এবং মনুষ্যত্বজ্ঞানহীনতা ।

যৌক্তিক সমালোচনা কখনো পরনিন্দা নয়; যৌক্তিক সমালোচনাগুলো সবসময় ভবিষ্যৎ উন্নয়নের অনুকুলে হয়ে কাজ করে; আর অন্যদিকে পরনিন্দা এক মানুষকে ব্যর্থতার সম্মুখে ধাবিত করে । পরনিন্দার কোন যৌক্তিকবোধ থাকে না -যা তাকে হচ্ছে হীন মনমানসিকতার জঞ্জাল -হিংসা, দ্বেষ, বিদ্বেষে পরিপূর্ণ । সেজন্য পরনিন্দুকরা কখনো যৌক্তিক সমালোচনা করতে জানে না; কিন্তু খারাপ উদ্দেশ্যমূলক চক্রান্তে তাদের স্থান সুউচ্চে । আমাকে সমালোচনা করা হয় কারণ আমার রস-কসের উপলব্ধিতা ভিন্ন ধরনের; কারণ আমি কখনো টাকাকে মুখ্য মনে করিনি । আমাকে ও পরনিন্দার কবলে বহুবার পড়তে হয়েছিল, অনেক সময় আঘাত ও পেয়েছিলাম মানুষদের মনমানসিকতাগুলো সেরকম হীন দেখে । তবে এর সমালোচনা আমি প্রকাশ্য করেছহিলাম এটে লুকিয়ে রাখার ছিল না ।

আমাদের বাংলাদেশে একটা জিনিস খুব প্রবলভাবে চর্চা হয় সেটি হচ্ছে "পরনিন্দা" - অনেকক্ষেত্রে আড্ডাকে হাসিমুখর এবং প্রাণোজ্জ্বল করে তোলার জন্য ও পরনিন্দাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে ধরা হয়ে থাকে । দুই-তিনজনের মহিলা মিললে হয়ে যায় ভালো এক আড্ডা -আর চলে রীতিমতো পরনিন্দা চর্চা । আজকাল পুরুষরা ও পিছিয়ে নেই । আর এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বেশিরভাগ রাজনীতিবিদরা এগিয়ে । এরা আত্ম-সমালোচনাতো দূরের কথা যৌক্তিক সমালোচনা পর্যন্ত কিভাবে করতে হয় ভুলে গেছে -বরং চলছে সমালোচনা নামে "পরনিন্দা" । এভাবে দেশের কথাতো বাদই দিতে হয় -এক ক্ষুদ্র গ্রামকে ও উন্নয়ন করা সম্ভব কিনা সন্দেহ । যেদিকে রাত কাটিয়েছি শুনেছি একে অন্যকে যা খুশি মাটির ভরাট দিচ্ছে -অনেক সমস্যা আর রীতিমতো ঢাল ছুঁড়াছুড়ি । আমাদের বাংলাদেশের মানুষের অবনতির অন্যদের মধ্যে অন্যতম একটি সমস্যা হচ্ছে এটি । আমরা দিনদিন উগ্র হয়ে উঠছি; কারণ বেড়ে উঠার পরিবেশ আমাদেরকে তা হতে বাধ্য করছে । প্রতিবাদ করা খারাপের কিছু না কিন্তু আমরা প্রতিবাদ করছি যেখানে সেখানে -লাগামহীন এবং যুক্তিবিহীনভাবে । কারণ ছাড়া একে অন্যর উপর ঝাঁপিয়ে পড়ছি আর ছোটদের সাথে কিভাবে ব্যবহার করতে হয় তা ও ভুলে গিয়েছি -এর প্রতিফল হিসেবে আমাদের ও ছোটদের কর্তৃক লাঞ্জনার স্বীকার হতে হচ্ছে । আমরা ভুল করার পর ও ভুলকে মানতে নারাজ -চিনতে চেষ্টা করি না । এক-দুবার করার পর কিছু একটা যেখানে শিখবো কিন্তু অভ্যসগতভাবে শিখে ফেলি ভুল কিভাবে বারবার করা যায় ।

আমাদের অভ্যসটা হচ্ছে নিজের ভাত খেয়ে পরের হয়ে বাঁচা যা পরিবর্তন করা অতীব জরুরী


অবশেষে - পরনিন্দা করলাম নাকি আত্ম-সমালোচনা ?

অস্তিত্বহীন প্রকৃতিঃ যেখানে তুমি, আমি এবং সে বলতে কেউ নেই



নাগার্জুনের শূন্যতা দর্শন আমাকে ভাবাচ্ছে । বুদ্ধের অনাত্মা, তদুপরি উপনিসদের আত্মা, চার্বাকের নাস্তিবাদ (ধ্বংসবাদ), পশ্চিমাদের পুণঃজম্মহীন আত্মাবাদ । প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আত্মজ্ঞানে যা ধরে নির্বাক হয়ে ভাবছি । পাশাপাশি ডারউইনের বিবর্তনবাদ নিয়ে ও গভীর ভাবনায় পড়ছি । এখানে 'আত্মজ্ঞানের' কথা বলছি বলে আত্মাকে স্বীকার করছি তা নয়; বরঞ্চ নিজস্ব ব্যক্তির পরিধিকে বুঝাতে চেষ্টা করা ।

ইতিহাস হচ্ছে পরিবর্তনের ইতিহাস; স্থীতিশীলতা বলতে কিছু নেই সেটাইতো বিবর্তন । অনেককিছু অগোচালো । মানুষরা প্রকৃতিগতভাবে একটু জেদী এবং স্বার্থপর । মহাবিশ্ব একটা বিস্তরক্ষেত্র; শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত । সীমাহীন, অনন্ত তবে পরিবর্তনশীল এবং বিবর্তনের দিকে অনবরত ধাবিত যাকে বুদ্ধের ভাষায় 'অনিত্য' বলা চলে আর উপনিসদের ভাষায় 'মহাব্রাক্ষ্ম' বলা হয়ে থাকে ।

বিজ্ঞান আগের চেয়ে অনেকগুন বেশি অগ্রসর; তাই নতুন দর্শনতত্ত্বের বিকাশ আগের তুলনায় অনেক কমেছে । বুদ্ধ নাস্তিকতার বিরোধী ছিলেন বলে জানি, তবে তখনকার নাস্তিকগুলো বর্তমান সময়ের নাস্তিকদের চেয়ে ভিন্ন ছিল । তাদের কাছে 'ভালো-খারাপ' সবই ছিল অর্থহীন' সোজা কথায় 'কর্ম' বলতে কিছু নেই । তবে বর্তমান সময়ের নাস্তিকতার মাঝে 'ভালো-খারাপ'কে অনেকবেশি মূল্যায়ন করা হয় 'কর্মকে' ও ।

সাধারণভাবে দেখলে...পৃথিবীতে সকল মানুষই নাস্তিক এবং সকলেই আবার আস্তিক । ধর্মবিদরা যে নাস্তিক নন তার প্রমাণ না থাকলে ও তারা যে বিশেষ বিশেষক্ষেত্রে নাস্তিক তার প্রমাণ মিলে যখন তারা অন্যর দর্শন এবং ধর্মকে অবিশ্বাস করেন; বিপরীতে নিজের ধর্ম, দর্শনকে অস্তিত্বশীল বলে মনে করেন । বিজ্ঞানের পরিভাষায় আল্টিমেট বলতে কোন টার্ম এখনো নেই তাদের কাছে এটা বিশ্বাস; বদলে যদি যায় প্রোটন ভেঙ্গে যদি 'অদৃশ্য শক্তি' হয় তখন চিন্তাধারা বদলাবে ।

পরিশেষে, আমি না থাকলে, তুমি নেই, তুমি না থাকলে সে নেই । তুমি, আমি এবং সে মিলে সমাজ গড়েছি, সভ্যতা বানিয়েছি, জাতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছি । বৈচিত্রতার জন্য বিচিত্র এই পৃথিবী, তাই সুন্দর । মানবতাই তো হল ভালো-খারাপের উৎস । প্রকৃতি হচ্ছে আমাদের শিক্ষক । প্রতিটি ধূলিকণা, গাছপালা, লতাপাতাতে ও রহস্য লুকিয়ে আছে । রহস্য উদ্ভাবনের জন্য বর্তমানের বিজ্ঞান । পুরাতনকালে বিজ্ঞান ছিল না বলে মানুষ লতাপাতা খেয়ে জীবনধারণ করেনি তা নয় । সবল দেহ নিয়ে পাহাড় ডিঙিয়েছে তখনকার সভ্যতার মানুষ । আয়ুর্বেদ জাতীয় চাইনিজ ট্রাডিশনার চিকিৎসার উপকরণ হলো লতাপাতা, বনজ ফলমূল । আমরা সবাই একে অপরের পরিপূরক ।

অস্তিত্বের জন্য লড়াই চলছে, চলবে অনন্তকাল যতদিন পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে । তাই অস্তিত্বহীনতাকে উপলব্দি করা প্রয়োজন । যেখানে তুমি, আমি এবং সে বলতে কেউ থাকবে না সেখানে পৃথিবীর বস্তু-আদর্শকে সংজ্ঞায়ন করবে কে ?

তারপর ও কেন বলছি অস্তিত্বহীন প্রকৃতিঃ যেখানে তুমি, আমি এবং সে বলতে কেউ নেই ।

Sunday, April 8, 2012

উত্তরহীন "অধিবিদ্যা" টাইপো প্রশ্ন; অরহত [অথ-বা] অরহত নন

 অধিবিদ্যা চর্চা করা হয় জ্ঞানবৃদ্ধি করার জন্য, কখনো সত্য হতে হবে তার প্রমাণ মিলে না। অধিবিদ্যা মূলতঃ সেসব বিষয়কে বুঝান হয়ে থাকে যেগুলোর উত্তর যুক্তি-বুদ্ধি-প্রমাণ-পর্যবেক্ষণ দ্বারা ও মিলে না। যেমন ধরুণ, এই বিশ্বব্রমান্ধ কী শ্বাশত নাকী অশ্বাশত ? ঈশ্বর আছেন কী –নেই (?) মৃত্যুর পর অস্তিত্ব আছে কী –নেই (?) এসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে পারে কিন্তু ভিত্তিহীন স্তম্ভের উপর দাঁড় করে। যদ্রুপ কুকুরকে শিয়ালের আবরণ দিয়ে শিয়াল বানালেও কুকুর যেমন কুকুরই থেকে যায়, ঠিক তদ্রুপ সত্যকে হাজার মিথ্যা যুক্তির উপর দাঁড় করালে ও সত্য সত্যই থেকে যায়। এর জন্য মানুষ আশ্রয় নেবে নানা যুক্তি –অবান্তর কাহিনী উপর ভিত্তি করে, যা জ্ঞানচক্ষু দিয়ে দেখলে আবোল-তাবুল মনমাতানো পাগলামি ছাড়া কিছুই হতে পারে না। আমি প্রমাণ করতে চাই না ঈশ্বর আছেন কিংবা চাই না ঈশ্বর নেই।

বাস্তব জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি কেউ আমাকে নাস্তিকের লিস্টে বন্দোবস্ত করিয়ে নিজের রিপুকে তৃপ্ত করাতে পারেন, আমার কোনোকিছু যাবে ও না আবার আসবে ও না, আমি ষষ্টইন্দ্রীয়ের দেহ এবং মনকে ধারণ করে পঞ্চ স্কন্ধনামক মানবপৃন্ড হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো, কেউ আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ক্ষমতা রাখতে পারবে না, যদি উক্ত ব্যক্তিমহোদয় সত্যর উপর বেঁচে থাকতে নিজেকে প্রস্তুত রাখেন। সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা হয় কারণ এর অস্তিত্বের কোনো ভিত্তি আদৌ সত্যর মধ্যে দিয়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। তাঁহার অস্তিত্বকে বিশ্বাসের উপরই ভর করে রাখা হয়েছে –যা প্রমান সাপেক্ষ্য সত্য নয়। তাই ধর্মগ্রন্থসমুহকে পড়ার আগে বিশ্বাসকে মনের মধ্যে ধারণ করতে বলা হ্য়। কারণ একজন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ বিশ্বাস ব্যতীত কখনো মেনে নেবেনা যে অদেখা কোনো ব্যক্তির প্রেরিত বাণী মানুষকে কীভাবে হুকুম করে, তাই ব্যক্তির অন্তরে বিশ্বাস নামক অন্ধবিশ্বাসের কাতার অতীব জরুরী, নতুবা হতে হবে অসুস্থমস্তিস্কের এক মানুষ। তাই আপনাকে আত্মসম্মনবোধকে আমল দিয়ে সুস্থ মস্তিস্কের একজন জাহির করতে গিয়ে অবশ্যই হতে হবে একজন বিশ্বাসী। কতো কঠিন –তাই না (?)।

আর অন্যদিকে ঈশ্বর নেই তাও বলার দরকার পড়ে না, কেননা এতে জটিলতার বেড়াজাল খুবই বিদ্যমান। যেমন, একজন শুনে ও যখন না শুনার ভান করে, কেউ না ঘুমিয়ে ও ঘুমানোর ছলনা করে, তাহাকে বাধ্য করতে গিয়ে আপনাকে লাঠিসোতা কিংবা গরম পানি দেলে দিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। এসব করতে গিয়ে কিন্তু আপনি একজনের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চলেছেন। সে যখন শুনেনা বলে তখন আপনাকে কন্সিডার করতে হবে, কারণ আপনি নিশ্চিত না উনি শুনেছেন কিনা (?)-সন্দেহ আপনার ও বিদ্যমান, শুধু উনার দোষ ও নয় বটে। অনেককে দেখেছি মরার মতো করে ঘুমায় –তাই ধর্য্য ধরতে হবে উনি জেগে উঠার আগ পর্যন্ত। সে স্বাভাবিকভাবে উঠবে যদিও একটু দেরি হতে পারে। বুঝতে দিন প্রাকৃতির নিয়মকে –বুঝতে দিন জীবনের মর্ম, আমি নিশ্চিত সে একদিন বুঝবে –তবে তখনিই সেই বুঝা হবে পরিপক্কভাবে বুঝা। সে আবিষ্কার করবে নতুন এক সত্য যা সংসার জগতেই বিরাজমান। সে পরিপক্ক ব্যক্তি বিপ্লবের ডাক দেবে সত্যর জন্য।

মানুষের স্বভাবজাত হচ্ছে পরনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে ভালবাসা। আমরা নিজেকে বিশ্বাস করতে পারিনা বিদায়, পরের ভালোলাগার মন্দলাগার উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। পরীক্ষা কক্ষে ডুকে ও আমাদের মনে সন্দেহ জাগে প্রশ্নপত্রের উত্তগুলো ভালভাবে করা যাবে কিনা, তখনিই এক অলৌকিক শক্তির কামনা করি। একজনের হাতে সারাবছরের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশ্নব্যতীত ঢেলে দিই, তাই আত্মশক্তি বাড়ে এবং বিনা সন্দেহে উত্তরগুলো লেখা যায়। মনের ভরসা; তিনি (সৃষ্টকর্তা) আসেন আমার আশে-পাশে। কোনো রোগে ভুক্তে থাকা রোগীকে ডাক্তাররা কোনোরকম মানসিক চাপ দিতে অপরাগ করিয়ে, বরং আত্মশক্তিকে মজবুত করাতে যাযা কিছু দরকার তা উপদেশ দিয়ে থাকেন। কারণ দেহ এবং মন খুবই ওতোপ্রোতভাবে জড়িত, একটির সঠিক সঞ্চালন ব্যতীত অন্যটি চলতে অক্ষম। তাই ক্যান্সার রোগের জন্য খাদ্য কন্ট্রোলের পাশাপাশি একধরনের ট্রান্সেন্ডাল মেডিটেশনের ব্যবহারবিধি প্রয়োগ করা হয়, যাতে করে রোগী রোগকে ভুলে থাকতে পারেন, আর দ্রুত রোগমুক্তি ঘটে। আসলে মানুষের মনোবিজ্ঞানের ভালো ধারণা না থাকাতে সব কষ্টের উপার্জিত ফল সৃষ্টিকর্তার হাতে তুলে দেন, কারণ তিনি উনাকে বিশ্বাস করেই নিজের আত্মশক্তিকে মজবুত করতে পেরেছেন –কারণ তাঁহার এক জনেরপক্ষে করার সাহজ ছিলো না। তিনি নিজেকে বিশ্বাস গড়াতে পারেননি। সেজন্য অধিকাংশ নাস্তিকরা বিভিন্ন জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন। কারণ নাস্তিকরা যুক্তিকে প্রাধান্য দেন বেশি। তাঁহারা যুক্তির মধ্যে দিয়ে সত্যকে খোঁজেন –যা ও অধিবিদ্যার কাতারে পড়ে।

বনভান্তে অরহত ছিলেন কি ছিলেন না ? মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি পরিনিবার্ণ লাভ করেছেন ? প্রশ্নগুলো ঈশ্বরের অস্তিত্ব অথবা অস্তিত্বহীন প্রশ্নের মতো অধিবিদ্যাতে পড়ে, যা বুদ্ধ এড়িয়ে যেতেন । যেগুলো উত্তরহীন, ঝাঁঝালো, গন্ধযুক্ত ! অরহত ছিলেন বলে কি আমার লাভ হবে যদি আমি নিজেকে সংযত না করি? নাকি ভন্ড অরহত বললে আমার মান বাড়ে ? সম্মান দিতে কৃপনতা না থাকলে ও অসম্মান করার বিপক্ষে । যে যা প্রাপ্য তাকে সে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে, দেয়ার জন্য অভ্যস গড়ে তুলতে হবে ।

প্রসঙ্গঃ আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এবং ব্যক্তি-অধিকার, পাশে মানবিক মূল্যবোধ

 আইডেন্টিটি ক্রাইসিস:

আলোচনা করছিলাম 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিস' বিষয়ে যাতে জড়ানো আছে মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিকতার ভিতর পূঁজিকৃত জাতীয় সংকটাপূর্ণ অস্তিত্বের প্রশ্ন । এর প্রশ্নের ধরণ কালপাত্র এবং সময়ভেদে বিবিদ হতে পারে । 'অস্তিত্ব সংকট' (পরিচয় সংকট-identity crisis) একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । ক্ষমতা হ্যাকার বিশ্বায়ন যুগে এইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে উড়িয়ে দেয়া হয় যার কারণে নিদারূণ মনস্তাত্ত্বিক পীড়নে যুবক ছেলে/মেয়েরা ভোগে । 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিস' একটি মানসিক পীড়ন অর্থাৎ সাইকোলজিক্যাল টার্ম । কিন্তু সামাজিকভাবে এর গুরুত্ব ও অস্বীকার করার মতো না । একজন ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক (psychological), সমাজতাত্ত্বিক (sociological) এবং দর্শনগত (philosophical) এই তিনভাবে 'পরিচয় সংকট' নিয়ে সন্ধিহান থাকেন । সামাজিক মনোবিজ্ঞান অনুসারে পরিচয় সংকটকে মূলতঃ জাতীয় পরিচয় (national identity) এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় (cultural identity) এই দুভাগে বিভক্ত করা হয় ।

আলোচনা চলছিল 'বাঙালী বিয়ে' বিষয়ক । দুপক্ষ থেকে যুক্তিখন্ডনের পাশাপাশি দোষাদোষি ও উপস্থিত । এর আলোচনার মূল সূত্রপাত নতুনভাবে ঘটান 'জুম্ম কলঙ্ক' নামে এক অজ্ঞাত ফেইসবুক ব্যবকারী । অনেক ছেলে/মেয়ের কাছে 'জুম্ম কলঙ্কের' এমন অপরিপক্কতাকে মৌলবাদের উত্তান বলে মনে হচ্ছে । 'মৌলবাদ' (fundamentalism) আসলে কি ? 'মৌলে' মানে শিকরে আটকাটিয়ে থাকা । 'মৌলবাদ' কেন সৃষ্টি হয় ? আমরা যদি এর সৃষ্টির পিছনে লুকিয়ে থাকা সত্যকে অস্বীকার করে মৌলবাদের উত্তাণকে রুখার চেষ্টাকরি তা আদতে কি সম্ভব ? আদিবাসী জুম্ম জনগণের 'মৌলবাদ' কিংবা 'রক্ষণশীল' (conservative) যাই বলেন না কেন, উত্তানের পিছনে যে সুষ্পষ্ট এক কারণ বিদ্যমান তা নিয়ে আলোচনার করা দরকার । সামাজিক মনোবিজ্ঞানে বিদ্যমান 'জাতীয় পরিচয়' এবং 'সাংস্কৃতিক পরিচয়' এ দুটি বিষয় নিয়ে বয়োঃসন্ধিবস্থায় ছেলে/মেয়েরা প্রবলভাবে সন্ধিহান থাকে । এ সময়ই 'মৌলবাদ' কিবা 'রক্ষণশীলতার' বীজ বপিত হয় । পার্বত্য সমস্যাটা আদিবাসী জুম্ম জনগণ এখনো ধর্মগত সমস্যা হিসেবে দেখেন না, তাই ধর্মের মৌলবাদের সম্ভাবনা হীন হলেও সাংষ্কৃতিক এবং জাতীয় মৌলবাদের সম্ভাবনা প্রচুর । মৌলবাদের আগমুহূর্তে সাধারণতঃ রক্ষণশীলতাকে উপলব্ধি করা যায় অতঃপর মৌলবাদের সূচনা ঠিক যেসময় 'রক্ষনশীলতা' অসহায় (ভুক্তভোগীদের দৃষ্টিতে) । তখনই সুইসাইড বোমা, হত্যা, বলাৎকরণ এবং ইত্যাদি জোড়পাকড় শুরু হয় । জাতীয় পরিচয়াপূর্ণ সংকটের জন্য রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, বৈষম্য, বর্ণবাদী মানসিকতাই দ্বায়ী । এই 'জাতীয় পরিচয়াপূর্ণ' সংকটে যেসব জাতিসম্প্রদায় শিকার তারা দলবদ্ধ হতে থাকে এবং প্রবল আন্দোলনের মুখে তারা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে । তাই, পার্বত্য চট্রগ্রামে জুম্ম ছেলেদের ভিতর যদি রক্ষণশীলতা কিংবা মৌলবাদের উত্তানই ঘটে থাকে সেজন্য পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতিই দ্বায়ী । যতদিন জাতীয় পরিচয়ের সংকটাপূর্ণ পরিস্থিতি মিটবে না ততদিন দিনেদিনে জাতীগোষ্ঠীর ছেলে/মেয়েরা কট্টর রক্ষণশীলতা এবং মৌলবাদের দিকে ধাবিত হবে ।

উদাহরণ হিসেবে, 'বাঙালী জাতীয়তাবাদ' - '৫২-এর ভাষা আন্দোলন' - '৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ' -'রাজাকার সনাক্তকরণ' -'পাকিস্তানিদের উপর তীব্রক্ষোভ' -'যুদ্ধাপরাধী' ইত্যাদির জন্য তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকসম্প্রদায়ের দ্বৈতনীতিই দ্বায়ী ছিলো। যেসব তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম-পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেন তাদেরকে বলা হয় 'রাজাকার' + 'যুদ্ধাপরাধী' । আজ পর্যন্ত স্বদেশপ্রেমিক বাঙালী জাতিগোষ্ঠীর কেউ পাকিস্তানি কোন নারী/পুরুষকে বিয়ে করা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না । আমার প্রশ্ন -মানতে না পারার কারণটা কেন ? কারণটা ঠিক বর্তমানে আদিবাসী জুম্ম জনগণের ছেলে/মেয়েরা যেভাবে "আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে' সম্মুখীন হয়ে 'বাঙালী জাতির' প্রতি তীব্র ক্ষোভের ডানা জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক অনুরুপ । এরজন্য একচেঠিয়াভাবে এক জাতিসম্প্রদায়কে দোষারোপ করা যায় না, যেহেতু এর পিছনে রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতি বিদ্যমান সমস্যার কারণ ।

তারপর ও জুম্মজনগণের সচেতন মহলে সতর্ক থাকতে হবে যে, 'জুম্ম কলঙ্কের' মতো কার্যকলাপ কখনো প্রশংসাযোগ্য হতে পারে না । নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান পাওয়া যাবে না যদিও নারীদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরী । এসব গুরুতর সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে যুবক ছেলে/মেয়েদের মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে সামাজিক সংঘটনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে ।

ব্যক্তি-অধিকার:

ব্যক্তি-অধিকার ! ব্যক্তিই সমাজের এক ইউনিক সদস্য । তাকেই ভিক্তি করে পরিবার, সমাজ, জাতি তথা দেশ । তাই ব্যক্তির স্বাধীনতা খুবই দরকারী বৈকি । অস্বীকার করার প্রশ্নই উঠে না । তবে ব্যক্তির অধিকার যদি 'সামগ্রিক অধিকারের' সাথে পারষ্পরিকভাবে জড়িয়ে থাকে, তখন ? উদ্বাহরনস্বরুপ; এক পরিবারে ৩ ভাই -২ বোন । ১ ভাই এবং ২ বোন ভার্সিটির ডিগ্রীদারী, উচ্চশিক্ষিত । শিক্ষিত ১ ভাই এবং ২ বোন অন্য অশিক্ষিত ২ ভাইয়ের তুলনায় কলমে-কাগজে অধিকার সচেতন । অশিক্ষিত ২ ভাই জীবনে যা কামিয়েছে সব খরচ করেছে অন্য ৩ জনের পড়াশুনার পিছনে । পারিবারিকভাবে অনেক টানাহেঁচরার পরও এখন পরিবারটি নির্ভর করছে ৩ জন শিক্ষিতের উপর । অধিকার সচেতন ২ বোন দাবী করছে তারা 'বেজাতি' বিয়ে করবে, এটা তাদের ব্যক্তি অধিকার । মা-বাবাসহ অন্য ২ অধিকার অসচেতন ভাই, সন্তান/বোনদের এমন সিদ্ধান্তে নারাজ । এক্ষেত্রে শুধু পারিবারিকভাবে নয় সামাজিকভাবে ও মা'বাবাকে প্রতিনিয়ত হেনস্তা হতে হবে । কারণ সামাজিকভাবে এর গ্রহণযোগ্যতা আদৌ গৃহীত হয়নি । অশিক্ষিত ২ ভাইয়ের সোজা উত্তর এমন হলে আমরা তেষ্য করতে বাধ্য । অন্য ১ শিক্ষিত ভাই এখন জায়গা ভাগের সমান দাবী তুলছে । ভাইটির একটা চাকুরী ও হয়েছে । এসবক্ষেত্রে, ব্যক্তির সমান অধিকারের চেয়ে মানবিক দাবীটি বেশি প্রাধান্য হয়ে দাঁড়ায় । এখানেই 'মনুষ্যত্ববোধ' এবং 'অমনুষ্যত্ববোধ' গভীরভাবে কাজ করে । এখানেই 'স্বার্থপর' এবং 'পরার্থপরতার' ব্যবধান প্রতীয়মান হয় । তাই শুধু কলমে-কাগজে লিখিত অধিকার সচেতন হলে চলবে না, 'মনুষ্যত্ববোধকে" ও জাগিয়ে তুলে পারষ্পরিক অবদান রাখার চেষ্টা প্রয়োজন । যে শুধু নিজের অধিকারকে পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে অধিকার সচেতন হতে চাই, তাকে অধিকার সচেতন বলা যাবে না হয়ত বা স্বার্থবাদী ।

ব্যক্তির আলাদা বৈচিত্র্যতা রক্ষার জন্য আজকের 'ইন্ডিজিন্যাস পিপলস্ রাইটস্' (আদিবাসী অধিকার) । ধরা যাক, ৮০% বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী চাচ্ছেন মূল জাতিস্রোত বাঙালীদের সাথে মিশে যেতে, বাকী ২০% চাচ্ছেন যেকোনপ্রকারে নিজেদের আলাদা বৈচিত্র্যতা রক্ষা করবেন, এখানে সমান অধিকারের যে মানবিক দাবী ৮০% জনগোষ্ঠীর জন্য উপেক্ষিত হলে ও ২০% জনগোষ্ঠীর পক্ষে অধিকার রক্ষার যৌক্তিকতা চলে যায় ।

"দি ইন্ডিভিজ্যুয়াল চয়েচ ইস নট দি ইন্ডিভিজ্যুয়াল রাইটস্" (ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দ ব্যক্তির অধিকার নয় ) । যদি বলা হয় ব্যক্তির অধিকার আছে তার নিজস্ব ভালমন্দ যাচাই করে পছন্দের কিছু বেছে নিতে পারবে; প্রসঙ্গক্রমে, সেহিসেবে যে কারোর অধিকার থাকবে পছন্দের এক পেশা বেছে নেয়ার -যেমন, পতিতাবৃত্তি (যেহেতু অনেক দেশে এর বৈধতা আছে), পর্ণস্টার (পশ্চিমাতে এর মূল্যায়ন আছে) এবং ইত্যাদি । যারা অধিকার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন তাদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে মানবিক দাবীর দিকে নজর রেখে । রাহুল গান্ধীর বান্ধবী পশ্চিমা একজন, রাহুম গান্ধী যদি চান সমাজ/রাজনৈতিক বাদ দিয়ে সে ব্যক্তিগতভাবে সুখী হতে । এতে সমস্যা দেখি না, সেটা তার পছন্দ । যখন রাজনৈতিক এবং জাতীয় পছন্দের উপর চলে আসেন তখন বিয়ে করাটা গৌণ হয়ে দাঁড়ায় ।

মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ব্যতীত সমস্যাগুলোর মূল উত্তানকে মূল্যায়ন করা যাবে না, তদুপরি এর থেকে মুক্তির সম্ভাবনা ও ভীষণ হীন । আবেগবঃশত অনেককিছু বলা যায়, দাবী করা যায়, দোষ দেয়া যায়, তাতে কি সমাধান ? গালাগালি, রেষারেষিই কি সমস্যার ইতি নাকি মানবিক মূল্যবোধ ? সচেতনতা কি প্রতিশোধ, নাকি মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ ? উপসংহারের আগে সূচনা, তাই সূচনা ব্যতীত উপসংহারে পৌঁছানো মানে নিয়মভঙ্গ, বিশৃংখলা । শিক্ষিতদের সচেতন হতে হবে, মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে অতঃপর অপ্রাপ্তবয়ষ্ক ছেলে/মেয়েদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা দেয়ার দ্বায়িত্ব হাতে নিতে হবে । প্রতিটি সমস্যার যখন কারণ আছে তাই ঢালাওভাবে কু-মন্তব্য করা নিষ্প্রয়োজন ।

প্রসঙ্গঃ "বাঙালী বিয়ে" এবং "আমার উত্তরহীন কিছু প্রশ্ন"

"যুক্তি আনে চেতনা, আর চেতনা আনে সমাজ পরিবর্তন।" (মুক্তমনা থেকে উদ্ধৃত)

প্রসঙ্গঃ "বাঙালী বিয়ে"

স্কুল এবং কলেজে সবচেয়ে জনপ্রিয় আলোচনার টপিক ছিল "বাঙালী বিয়ে" । আলোচনাতে টপিকটা এতোই হিট হতো যে অনেকে কথা বলতে বলতে "মগদা, মগদা করে দাঁড়িয়ে উঠে হাতে হাত ঘর্ষণ করতে করতে বিলাপের সুরে এবং ক্ষোভে বলে উঠে "মগদা বিরে এক্কানা পিদুং দ' হি যে গুরল্লুয়ুং" । আমি হতভম্ব হয়ে শুনি আর দেখি, এবং খে খে করে হাসি । হাসতে না পারলে আমি মজা পেতাম না । কখনো বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতাম, "দে সালে হ দে সামনে পেলে হি গত্যা ?" । পাল্টা জবাব আসে " আনি দি সানা এক্কানা" । বুঝতেই পারছেন কি হতো সামনা সামনি হলে ।







ঘটনা-১
একদিন সামনা সামনি অভিজ্ঞতা পাই । সেদিন শুত্রুবার, রসায়ন বিজ্ঞানের প্যাক্টিক্যাল খাতাতে আলমগীর স্যার থেকে দস্তখত নিতে হবে । আমরা দু'বন্ধু কলেজে স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে অন্য আরেক ক্লাশমেট বন্ধু এসে খবর দেয় যে আমাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে । কেনো ? একটা ঘটনা ঘটতে পারে, মারামারির জন্য ও প্রস্তুত থাকতে হবে । মারামারিতে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা নেই, এখন ? তবুও তাদের সাথে থাকতে হবে । পুকুরের পাড়ে জলপাই তলায় চলছে আড্ডা । মেয়েটি খবং পড়িয়া থেকে 'এক চাকমা মেয়ে', আমার বন্ধুর পরিচিত । মেয়েটিকে আড্ডাখানা থেকে ডেকে আনা হল । শুরু হল প্রশ্ন-উত্তর পর্ব ।

  • ক্লাশমেট বন্ধুঃ আচ্ছা ! এচ্ছে দ কলেজ বন্ধ আ তুই হেদ্দেই এচ্চোচ ?
  • মেয়েঃ রেজিস্ট্রশন গড়া এচ্চোং, গত তিন মাজ কলেজত এই ন' পারং ।
  • ক্লাশমেট বন্ধুঃ আ এচ্চে যে বন্ধ তুই খবর ন' পাচ ? বাঙাল্লেলোই হয়দিন দুরি চেনা ?
  • মেয়েঃ এচ্চে বন্ধ মুই খবর ন' পিদুং । ১ মাজ আগে হয়তে চেনা ।
  • ক্লাশমেট বন্ধুঃ তুই হত্তে ৩ মাজ দুরি কলেজত এই ন'পারজ আ হুদু চেনাচেনি অলা ?


মেয়েটি হতভম্ব হয়ে যায় আর পেঁচু পেঁচু করে চোখে পানি ঝড়াতে থাকে । মেয়েদের এমনিতে সস্তা দামের চোখের পানি ঝড়ে । আমার কোমল মনে আঘাত হানে । আর ক্লাশমেট বন্ধুকে ডেকে বলি "বেজ দমক ন দো' দোলে বোঝেবার চ" ।


মেয়েঃ খাগড়াছড়ি বাজা-র এক দোকানত ।
ঠিক সে সময় হঠাৎ অন্য এক ক্লাশমেট চেঁচিয়ে বলে উঠে, "হি আমা চাকমাগুনর ইগুন ইল ন' অয় দে নাহী ? বাঙালো ইগুন গম লাগে দে ?" আমি ত হতভম্ব, কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছি । মেয়েটি আরেকটু জোড়ে কান্না করতে থাকে ।
ক্লাশমেট বন্ধুঃ আমি ত ঘরত জানেবং তুই হি হচ ?
মেয়েঃ ও দা, মুই তোমা টেংয়ত পরং এক্কানা ঘরত ন' জানেয়ো । ঘরত হবর পেলে পড়াশুনা বন্ধ অব । মুই আ এদ্দোক্কে ন' গরিম আই । মুই মাপ চাং ।
ক্লাশমেট বন্ধুঃ ঠিক আগে সালেন, আরেকবার যদি হোনো বাঙাল লোই দেগিই সালে আ এদোল্লে রসত রসত হদা ন' হবং সরাসরি একশন চলিবো ।
মেয়েটি নিশ্চুপ থাকে । ঠিক আছে বলে । মেয়েটি সেদিন ভয়ে -লজ্জায় অনেক মিথ্যা কথা বলেছে আমি প্রতিটি কথাতে বুঝতে পেরেছি । তবুও মেয়েটির সেদিন ভাগ্য ভালো ছিলো বকাটে ছেলেদের কাছে ধরা পড়েনি ।


ঘটনা -২


আমাদের এক ক্লাশের সিনিয়র এক ছাত্রী, দীঘিনালায় তার বাড়ি । এক সাথে স্কুলের জামাল স্যারের কাছে উচ্চতর গণিত প্রাইভেত শিখি । ছাত্রীটিকে আমরা বন্ধুরা নাম দিলাম 'বুচুত্তো" । কোন এক কথায় ছাত্রীটি 'বুচুত" বলেছিলো, তাই এক বন্ধু নামকরন করে দেয় । সেদিন ও কলেজ বন্ধ দিন । সকালে কিছু খেয়ে কলেজে আলমগীর স্যারের কাছে প্রাইভেতে যাই । কলেজের ভিতরে ঢুকার দরজার সামনে 'বুচুত্তোসহ' কয়েক সিনিয়র ছাত্রী কয়েক মেধাবী বাঙালী ছেলের সাথে কথা বলতেছিল । এমন সময় এক বাঙালী ছেলে 'বুচুত্তোর" গালে দুই আঙুল দিয়ে কষতে থাকে আর কি যেন বলছিল । আমি কিছু বলার আগে আমার বন্ধু বলে উঠে "এ মিলেবোর অবস্থা দ হারাপ" । এসবধরণের কথা আমরা সাধারনত ৩-৪ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি । বন্ধুটি কিন্তু মনের গভীর থেকে এই বাক্যটি বলছে তা বুঝতে পারছি । পরে মেয়েটিকে ডেকে কিছু বলার জন্য ভেবেছিলাম, দূঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা কিছুই বলতে পারিনি । সেসব প্রশ্ন মুখ থেকে আসেনি যখনই তার সামনাসামনি হয়েছি । পরে মেয়েটি এক বছর ফেল মেরে আমাদের ক্লাশমেট হয়, আর আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ট হয় । অনেক মেয়েই আমাদের সামনাসামনি হলে লজ্জাবোধ করে, যা ছিল স্বাভাবিক । এটা ছিল রিপ্লেকশন ।


আমার উত্তরহীন কিছু প্রশ্ন


মহাজন পাড়ার সুপ্রসিদ্ধ এক সুন্দরী নারীর সাথে এক সন্ধ্যায় দেখা হয় পানখাইয়া পাড়ার নিউজিল্যান্ডের পথে । আমরা ৩ বন্ধু হাঁটছি, সেদিন সাইকেল অফ রেখেছি । মেয়েটি অন্য এক মেয়ে (ঘটনা -১ এ যে মেয়েটিকে কলেজে ধরেছি) আমার বন্ধুকে থামিয়ে তার সুন্দরী বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলে । এনিওয়ে, আমার বন্ধু ও খুব হ্যান্ডসাম তাতে কোন সন্দেহ নেই । বন্ধুর সাথে কোন এক জায়গায় সুন্দরী মেয়েটি দেখা করতে চাই । পরিস্থিতি শুভ ছিল না, মন্তব্য করার সাহজ নেই । বন্ধু ঠিক আছে বলে স্থান নির্ধারিত হয় খাগড়াছড়ি বাজারের বৌদ্ধমন্দিরে । তখন রটযাত্রা উৎসব । আমরা ৩ জন পড়ন্ত বিকেলে বেরিয়ে পড়ি । সেদিন স্যাঁতস্যাঁতে বৃষ্টি ছিল । মেয়েটি অন্য আরেক বান্ধবীকে নিয়ে অপেক্ষা করছে । শরীর এবং বয়সের দিক দিয়ে তুলনা করলে মেয়েটি আমার বন্ধুর থেকে বড় এবং বয়ষ্ক । মেয়েটি সেদিন আমার বন্ধুকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেই । প্রতিউত্তর জানতে চাই । সেদিন বন্ধুর মুখে কোন উত্তর বেরিয়ে আসেনি । আমরা শুনে অশুভ লক্ষনের ঈঙ্গিত পাই । বন্ধুকে অ্যাভোয়েড করতে পরামর্শ দিই । এভাবে মেয়েটি প্রায়ই সময় বন্ধু কাছে এসে কিছু সময়ের জন্য কথা বলতে চাই । চকলেট পাঠিয়ে দেই পার্বত্য লাইব্রেরীর ঠিকানায় আমি নিয়ে আসি, বক্সে থাকতো এক চিঠি, চিঠিতে কয়েক লাইনের মন্ত্র । মন্ত্রযুক্ত চিঠি সন্দেহের অবতারণা দেই । এভাবে মাস গড়িয়েছে, মেয়েটি তার জন্মদিনের জন্য দাওয়াত দেই । আমরা যাইনি । পরে রাত ৮ টার দিকে মেয়েটি আসে বন্ধুকে ডাকতে । ঘটনাক্রমে বন্ধুর খালাতো বড় বোন সেদিন উপস্থিত ছিল । তড়িগড়ি বন্ধু আমার নামটি মুখে তুলে চাপিয়ে দেই অমুকের সাথে বন্ধুত্ব আছে, আমি ত শুনে তত' ভ ! পরবর্তীতে আস্তে ধীরে বড় বোনটিকে ভুল বুঝাবুঝি দূর করে দিই । এভাবে একদিন এক আমেরিকা প্রবাসীর বিয়ে আমরা নিমন্ত্রিত হই সেচ্চাসেবক হিসেবে । মেয়েটি ও উক্ত বিবাহ অনুস্থানে যথারীতি উপস্থিত । বন্ধু লুকিয়ে থাকতে চাইলে ও ধরা খেয়েছে । সেদিন সন্ধ্যাবেলা বিবাহ অনুস্থান শেষে বেড়িয়ে পড়ি । রাস্তার পাশে গল্প করছি । বন্ধুর হাতে এক চিঠি । চিঠিটি আমাকে পৌঁছাতে হবে সুন্দরী মেয়েটির কাছে । তারা আসছে দেখে আমি সাইকেল নিয়ে প্রস্তুত হই । তারপর চিঠি মেয়েটির হাতে তুলে দিই । বন্ধু চিঠিতে লিখেছিল, "দয়া করা আমাকে ভুলে যাও, আর ডিস্টার্ব করো না । সামনে আমার পরীক্ষা ।.."


পরে সেই সুন্দরী মেয়েটিকে এক দোকানে বাঙালী ছেলের সাথে হাতেনাতে ধরা হয় । খবর আসে । আমরা বিকেলে ৩ বন্ধু আবার নিউজিল্যান্ডের পথে হাঁটতে বেড়িয়ে পড়ি । আমি বন্ধুকে হাস্যচ্ছলে বলি, "তুমি যদি সেই স্পটে থাকতে, মেয়েটি যদি তোমাকে বলতো তুমি তাহলে কিজন্য আমাকে ভালোবাসলে না, ঠিক তখন কি বলতে ?” বন্ধু মুচকি হাসে । বন্ধুকে যে প্রশ্নটি করেছি তার উত্তর আসলে আমার ও জানা ছিল না, এখনো নেই ।


ঠিক আছে, বন্ধু তাকে ভালোবাসেনি, তাই বলে কি সেই উক্ত ইস্যু নিয়ে বাঙালী বিয়ে করবে ? "ভালোবাসা" বলতে কি যাকে সুন্দর লাগে, ভালো লাগে তাকেই বিয়ে করতে হবে ? সেক্ষেত্রে তাহলে, ছেলেরা ও ইচ্ছে করলে যাকেতাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়ে জোড় করে বিয়ে করতে পারবে ?


ধরুন, এক মেয়ে যে কাউকে প্রস্তাব দিলো যে, "আমি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না । না হয় 'বাঙালী' বিয়ে করবো ?" এখন যদি সেই ছেলেটি বাঙালী বিয়ে করাকে সমর্থ না করে কিন্তু আবার মেয়েটির প্রতি তার উৎসাহ এবং আত্মবিশ্বাস নেই । হয়ত মেয়েটির আগে কারোর সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল । এখন এর উত্তর ও জানা নেই ।


এসব উত্তরহীনতার সমাধান হতে পারে মনুষ্যত্ববোধের উদয়ের মাধ্যমে । যতদিন আমাদের মনুষ্যত্ববোধের পরিপূর্ণতা পাবে না; নিজেরা নিজের ভালোমন্দকে জানতে পারবো; সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না; ততদিন মুক্তি নেই । তুমি -আমি ব্যাপার চেপারগুলো নিচক ছেলেমানুষী খেলা । "যাকে চাই, তাকে পাই না" এটা শুধু একজন দুজনের জন্য সত্য না । এটা জগতের নিয়ম; কঠিন বাস্তবতা ।


আমি নারী বিদ্বেষী নই । এক সাধারণ চিন্তক । মেয়েরা স্বয়ং আমাকে পরামর্শ দেই যে কোন মেয়েকে সহজে বিশ্বাস না করতে । এতে ছেলেদের কৃতিত্ব নেই । তাই বলে ছেলেদের দোষগুলো অস্বীকার করছি না । যেহেতু লেখাটি 'বিবাহ বিষয়ক" তাই এসব বলা ।

নেতার মননে যখন "ইগোর" জন্ম নেয়; জাতি তখন ধ্বংসের পথে !!!

মানুষের কথা এবং শর্ত স্বাপেক্ষে আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয় । আমি এক মানুষ হিসেবে মানবিক চিন্তাশীলতা খুবই প্রকর । শর্ত স্বাপেক্ষ রাজনীতিতে নৈতিকতা লোপ পাবে তা স্বাভাবিক । কারণ প্রতিমুহূর্তে আমরা পরিবর্তনের দিকে নিয়ত ধাবিত হচ্ছি । চলমানভাবে ভেসে চলেছি । নতুন-নতুন তত্ত্ব প্রতিনিয়ত সংযোজিত হচ্ছে জীবন চলার পথে । পুরাতন তত্ত্বকে শর্ত বানিয়ে নব জোয়ানের কাছে চাপিয়ে দেয়াকে উন্নয়ন অথবা অগ্রসরতা বলে না । অগ্রসরতা নির্ভর করে চলমান পরিবর্তনশীলতার সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া । পিছে ফিরে তাকিয়ে সময়ক্ষেপন করা মানে এই প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া । অগ্রসরতার আরেকটা দিক বিবেচ্য, মানুষ আজ অবধি কখনো প্রকাশ্য এমন প্রতিযোগিতায় নামেনি যেখানে ভালো নয় বরং খারাপই বেশি হয় । তবে এরকম প্রতিযোগিতা ঘটে গোপনে । এই গোপনীয়তায় মূল কারণ হলো এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে ভন্ডামি এবং পশুত্ববোধই ফুঁটে উঠে ।

মানুষই ভুল করে, আবার ভুলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ও করে শুধু মানুষই । রাজনীতির অঙ্গনে প্রায়শ্চিত্ত ভাবনা কম, এর কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের একটা চিত্ত উৎপত্তি হয় । এই চিত্তকে বলা যেতে পারে এক ধরনের "ইগো (আত্ম)" । যখনই এই ইগোর জন্ম হয়েছে তখনই সমাজ এবং দেশ রসাতলে গেছে । এই রসাতলের একমাত্র কারণ নেতামাপিক লোকদের কাছে ইগোর উৎপত্তি। এর সমাধান এক নেতাকে দীর্ঘদিন নেতা বানিয়ে না রাখা । তিনি যদি দেশ জাতির জন্য অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেই বা থাকেন তবু ও তাকে সম্মানের আসনে বসিয়ে উপদেষ্টা করে আজীবন সম্মান করে যাওয়া । এভাবে নবীনের জোয়ানরা উৎসাহ পায় । সমাজ দেশ মানুষের পরিবর্তন দ্রুত বাড়তে থাকে । জাতিগত সহিংষতা থেকে রেহাই পাওয়া যাই ।

নবীনদের অনেকেই স্বাধীনভাবে ভাবতে জানে না, শিখে না । পরাধীনতার গ্লানি কাঁধে নিয়ে তারা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরাধীন হয়ে থাকতে চাই । তাই আজ জাতিগত দ্বন্ড । চাকুরীর লোভে, স্কোলারশীপ পাওয়ার লোভে অথবা অর্থে লোভে মোহচন্ন হয়ে সত্যিকার রাজনীতি করা যায় না । রাজনীতির মূলমন্ত্রে ত্যাগই শ্রেষ্ঠ । রাজনীতিক জীবনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হলে শিখতে এবং জানতে হবে কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করা যায় । নেতা হওয়া মানে সমাজের সর্বস্তর খাদকে উঠে যাওয়া নয় । নেতার মূল্য পেতে হলে নিজেকে সাধারনের কাঠারে নিয়ে যেতে হয় । অসাধারণরা নেতা হতে পারেন না । সাধারণরা নেতা বনে যান কালের পরিক্রমায় । যারা নেতা বনতে গিয়ে নিজেদেরকে অসাধারণ মনে করছেন তাদের ভবিষ্যত নেই । ইতিহাস পাতাতে দুভাবে মানুষের স্থান হয়, পলপত এবং হিটলার-রা ও কিন্ত ইতিহাসে স্থান পান শুধু মহাত্মাগান্ধীরা না । ইতিহাস পাতার স্থানটা মৃত্যুর আগে যাচাই করে নিন, আর সাধারণ হতে চেষ্টা করা শ্রেয় হবে । 

নেতাদের "ইগো" জন্ম হয়েছে মানে জাতি ধ্বংসের পথ সুগম হয়েছে ভাবতে হবে । কারণ, নেতাদের এই ইগোই একদিন পৃথিবীকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়েছিল । আমরা বর্তমানে ও দেখছি । তাই নবীনদের নতুন পথ ত্যাগের মাধ্যমে খুঁজে নিতে হবে । সম্মান জানাই ত্যাগিদের; মোহচন্ন ভোগবাদীদের নয় । যেদিন ইগোহীন নেতার ধারাবাহিকতা থাকবে ততদিন জাতিগত দ্বন্ধ থেকে জাতি মুক্তি পাবে । সমাজ -জাতির উন্নতি ঘটবে । এই প্রত্যাশায় ।