Tuesday, September 18, 2012

বন্যা এবং এক সাধারণ মানুষ !!



বন্যা হওয়া প্রকৃতিগত এক চরিত্র । কিন্তু বর্তমান বিশ্বে বন্যা হওয়ার পিছনে মনুষ্যকর্তৃক সৃষ্ট রাসায়নিক বর্জ্যগুলোর অপব্যবহারকে ও অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বসহকারে দোষারোপ করা হয় । অগোছালো এই হৃদয়মন্দিরে কতো যে প্রবল স্রোতময়ী বন্যা হয়ে যাচ্ছে আমরা কেউ তা জানার জন্য আগ্রহী নই । যখন নদীর পানি উপসে গিয়ে খাল-বিল পরিপূর্ণ করে, তখন আমরা উতাল মনে বাউল গানের সুর তুলি। সময় নেই হা হুতাশের । চারদিকে শুধু আনন্দের ঘনঘটা । উদাসীন মনে ছুঁটে চলি এলোপাতাড়িভাবে যেদিকে দুচোখ এবং কল্পনার জাল বুনে যায় । প্রকৃতিকে কে না ভালবাসে বলো (?) রাখালিয়ার সুর উত্তপ্তরৌদ্রে ও যেভাবে অশান্ত মনকে শান্ত করে স্বপ্ন দেখাতে জানে, ঠিক সেভাবে বর্ষার ঝড়ো হাওয়া শীতল হওয়াতে ও হৃদয়স্বত্ত্বাকে ভাবিয়ে তুলে রোমান্তিকতার ছোঁয়া জাগিয়ে দিয়ে যায় । টেলিভিশনে কতো যে বন্যা দেখেছি, যদিও বাস্তবে উপলব্দি করিনি কখনো । 

খুশি হলে ও দূঃখ রয়ে গেলো বন্যার কবলে পড়তে গিয়ে । এ যেনো এক দূঃখময়ী সুখমিশ্রিত বাস্তব অভিজ্ঞতা । ঘুম হারাম করে রাতভর লাইব্রেরি এবং অফিসিয়াল নতিপত্রগুলো সরাতে হয়েছিল । খাওয়া-দাওয়া-গোসল কাজকারবার রীতিমতো হয়ে উঠেনি । তারপর ও রীতিমতো ক্যম্পাসের বাইরে বসবাসরত ছাত্র/ছাত্রীদের খোঁজখবর নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে পাঠাতে হয়েছিল । আমাদের খবর কে আর রাখে । মা-বাবারা এতো কষ্ট করে সন্তানের দেখাভাল করেন, কিন্তু সন্তানেরাতো উদাস মনে গানের সুরে নাচতে নাচতে দূরে বহুদূরে গিয়ে লাফালাফি করে । এই যেনো হয়ে গেলো জগৎ সংসারের নীতি । কঠিন বাস্তবতার সাথে লড়াই করেছি, লাইব্রেরীর একটি বইকে ও ভিজটে দিইনি । তাই লাইব্রেরীর কোন বইয়ের স্বর্দি ধরেনি, যদিও আমরা ধরা খেয়েছি । ধরা খেলে ও মরে যাইনি, বরং অভিজ্ঞতা পেয়েছি । হা হা হা হা ! ধোর্য্য হারা হতে নেই -দৃঢ় মনোবল থাকা চাই । তুমি একদিন জীবন সংগ্রামে জয়ী হবে বাবা । মনের বন্যাকে চিনতে ভুল করিস না বাবা । হিংসা - লোভ - লালসার মতো ভয়ংকর বন্যা আর থাকতে পারে না । তাই সাবধান !

No comments:

Post a Comment