Sunday, April 8, 2012

উত্তরহীন "অধিবিদ্যা" টাইপো প্রশ্ন; অরহত [অথ-বা] অরহত নন

 অধিবিদ্যা চর্চা করা হয় জ্ঞানবৃদ্ধি করার জন্য, কখনো সত্য হতে হবে তার প্রমাণ মিলে না। অধিবিদ্যা মূলতঃ সেসব বিষয়কে বুঝান হয়ে থাকে যেগুলোর উত্তর যুক্তি-বুদ্ধি-প্রমাণ-পর্যবেক্ষণ দ্বারা ও মিলে না। যেমন ধরুণ, এই বিশ্বব্রমান্ধ কী শ্বাশত নাকী অশ্বাশত ? ঈশ্বর আছেন কী –নেই (?) মৃত্যুর পর অস্তিত্ব আছে কী –নেই (?) এসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে পারে কিন্তু ভিত্তিহীন স্তম্ভের উপর দাঁড় করে। যদ্রুপ কুকুরকে শিয়ালের আবরণ দিয়ে শিয়াল বানালেও কুকুর যেমন কুকুরই থেকে যায়, ঠিক তদ্রুপ সত্যকে হাজার মিথ্যা যুক্তির উপর দাঁড় করালে ও সত্য সত্যই থেকে যায়। এর জন্য মানুষ আশ্রয় নেবে নানা যুক্তি –অবান্তর কাহিনী উপর ভিত্তি করে, যা জ্ঞানচক্ষু দিয়ে দেখলে আবোল-তাবুল মনমাতানো পাগলামি ছাড়া কিছুই হতে পারে না। আমি প্রমাণ করতে চাই না ঈশ্বর আছেন কিংবা চাই না ঈশ্বর নেই।

বাস্তব জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি কেউ আমাকে নাস্তিকের লিস্টে বন্দোবস্ত করিয়ে নিজের রিপুকে তৃপ্ত করাতে পারেন, আমার কোনোকিছু যাবে ও না আবার আসবে ও না, আমি ষষ্টইন্দ্রীয়ের দেহ এবং মনকে ধারণ করে পঞ্চ স্কন্ধনামক মানবপৃন্ড হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো, কেউ আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ক্ষমতা রাখতে পারবে না, যদি উক্ত ব্যক্তিমহোদয় সত্যর উপর বেঁচে থাকতে নিজেকে প্রস্তুত রাখেন। সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা হয় কারণ এর অস্তিত্বের কোনো ভিত্তি আদৌ সত্যর মধ্যে দিয়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। তাঁহার অস্তিত্বকে বিশ্বাসের উপরই ভর করে রাখা হয়েছে –যা প্রমান সাপেক্ষ্য সত্য নয়। তাই ধর্মগ্রন্থসমুহকে পড়ার আগে বিশ্বাসকে মনের মধ্যে ধারণ করতে বলা হ্য়। কারণ একজন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ বিশ্বাস ব্যতীত কখনো মেনে নেবেনা যে অদেখা কোনো ব্যক্তির প্রেরিত বাণী মানুষকে কীভাবে হুকুম করে, তাই ব্যক্তির অন্তরে বিশ্বাস নামক অন্ধবিশ্বাসের কাতার অতীব জরুরী, নতুবা হতে হবে অসুস্থমস্তিস্কের এক মানুষ। তাই আপনাকে আত্মসম্মনবোধকে আমল দিয়ে সুস্থ মস্তিস্কের একজন জাহির করতে গিয়ে অবশ্যই হতে হবে একজন বিশ্বাসী। কতো কঠিন –তাই না (?)।

আর অন্যদিকে ঈশ্বর নেই তাও বলার দরকার পড়ে না, কেননা এতে জটিলতার বেড়াজাল খুবই বিদ্যমান। যেমন, একজন শুনে ও যখন না শুনার ভান করে, কেউ না ঘুমিয়ে ও ঘুমানোর ছলনা করে, তাহাকে বাধ্য করতে গিয়ে আপনাকে লাঠিসোতা কিংবা গরম পানি দেলে দিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। এসব করতে গিয়ে কিন্তু আপনি একজনের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চলেছেন। সে যখন শুনেনা বলে তখন আপনাকে কন্সিডার করতে হবে, কারণ আপনি নিশ্চিত না উনি শুনেছেন কিনা (?)-সন্দেহ আপনার ও বিদ্যমান, শুধু উনার দোষ ও নয় বটে। অনেককে দেখেছি মরার মতো করে ঘুমায় –তাই ধর্য্য ধরতে হবে উনি জেগে উঠার আগ পর্যন্ত। সে স্বাভাবিকভাবে উঠবে যদিও একটু দেরি হতে পারে। বুঝতে দিন প্রাকৃতির নিয়মকে –বুঝতে দিন জীবনের মর্ম, আমি নিশ্চিত সে একদিন বুঝবে –তবে তখনিই সেই বুঝা হবে পরিপক্কভাবে বুঝা। সে আবিষ্কার করবে নতুন এক সত্য যা সংসার জগতেই বিরাজমান। সে পরিপক্ক ব্যক্তি বিপ্লবের ডাক দেবে সত্যর জন্য।

মানুষের স্বভাবজাত হচ্ছে পরনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে ভালবাসা। আমরা নিজেকে বিশ্বাস করতে পারিনা বিদায়, পরের ভালোলাগার মন্দলাগার উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। পরীক্ষা কক্ষে ডুকে ও আমাদের মনে সন্দেহ জাগে প্রশ্নপত্রের উত্তগুলো ভালভাবে করা যাবে কিনা, তখনিই এক অলৌকিক শক্তির কামনা করি। একজনের হাতে সারাবছরের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশ্নব্যতীত ঢেলে দিই, তাই আত্মশক্তি বাড়ে এবং বিনা সন্দেহে উত্তরগুলো লেখা যায়। মনের ভরসা; তিনি (সৃষ্টকর্তা) আসেন আমার আশে-পাশে। কোনো রোগে ভুক্তে থাকা রোগীকে ডাক্তাররা কোনোরকম মানসিক চাপ দিতে অপরাগ করিয়ে, বরং আত্মশক্তিকে মজবুত করাতে যাযা কিছু দরকার তা উপদেশ দিয়ে থাকেন। কারণ দেহ এবং মন খুবই ওতোপ্রোতভাবে জড়িত, একটির সঠিক সঞ্চালন ব্যতীত অন্যটি চলতে অক্ষম। তাই ক্যান্সার রোগের জন্য খাদ্য কন্ট্রোলের পাশাপাশি একধরনের ট্রান্সেন্ডাল মেডিটেশনের ব্যবহারবিধি প্রয়োগ করা হয়, যাতে করে রোগী রোগকে ভুলে থাকতে পারেন, আর দ্রুত রোগমুক্তি ঘটে। আসলে মানুষের মনোবিজ্ঞানের ভালো ধারণা না থাকাতে সব কষ্টের উপার্জিত ফল সৃষ্টিকর্তার হাতে তুলে দেন, কারণ তিনি উনাকে বিশ্বাস করেই নিজের আত্মশক্তিকে মজবুত করতে পেরেছেন –কারণ তাঁহার এক জনেরপক্ষে করার সাহজ ছিলো না। তিনি নিজেকে বিশ্বাস গড়াতে পারেননি। সেজন্য অধিকাংশ নাস্তিকরা বিভিন্ন জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন। কারণ নাস্তিকরা যুক্তিকে প্রাধান্য দেন বেশি। তাঁহারা যুক্তির মধ্যে দিয়ে সত্যকে খোঁজেন –যা ও অধিবিদ্যার কাতারে পড়ে।

বনভান্তে অরহত ছিলেন কি ছিলেন না ? মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি পরিনিবার্ণ লাভ করেছেন ? প্রশ্নগুলো ঈশ্বরের অস্তিত্ব অথবা অস্তিত্বহীন প্রশ্নের মতো অধিবিদ্যাতে পড়ে, যা বুদ্ধ এড়িয়ে যেতেন । যেগুলো উত্তরহীন, ঝাঁঝালো, গন্ধযুক্ত ! অরহত ছিলেন বলে কি আমার লাভ হবে যদি আমি নিজেকে সংযত না করি? নাকি ভন্ড অরহত বললে আমার মান বাড়ে ? সম্মান দিতে কৃপনতা না থাকলে ও অসম্মান করার বিপক্ষে । যে যা প্রাপ্য তাকে সে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে, দেয়ার জন্য অভ্যস গড়ে তুলতে হবে ।

প্রসঙ্গঃ আইডেন্টিটি ক্রাইসিস এবং ব্যক্তি-অধিকার, পাশে মানবিক মূল্যবোধ

 আইডেন্টিটি ক্রাইসিস:

আলোচনা করছিলাম 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিস' বিষয়ে যাতে জড়ানো আছে মনস্তাত্ত্বিক এবং সামাজিকতার ভিতর পূঁজিকৃত জাতীয় সংকটাপূর্ণ অস্তিত্বের প্রশ্ন । এর প্রশ্নের ধরণ কালপাত্র এবং সময়ভেদে বিবিদ হতে পারে । 'অস্তিত্ব সংকট' (পরিচয় সংকট-identity crisis) একটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয় । ক্ষমতা হ্যাকার বিশ্বায়ন যুগে এইসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যমূলক হিসেবে উড়িয়ে দেয়া হয় যার কারণে নিদারূণ মনস্তাত্ত্বিক পীড়নে যুবক ছেলে/মেয়েরা ভোগে । 'আইডেন্টিটি ক্রাইসিস' একটি মানসিক পীড়ন অর্থাৎ সাইকোলজিক্যাল টার্ম । কিন্তু সামাজিকভাবে এর গুরুত্ব ও অস্বীকার করার মতো না । একজন ব্যক্তি মনস্তাত্ত্বিক (psychological), সমাজতাত্ত্বিক (sociological) এবং দর্শনগত (philosophical) এই তিনভাবে 'পরিচয় সংকট' নিয়ে সন্ধিহান থাকেন । সামাজিক মনোবিজ্ঞান অনুসারে পরিচয় সংকটকে মূলতঃ জাতীয় পরিচয় (national identity) এবং সাংস্কৃতিক পরিচয় (cultural identity) এই দুভাগে বিভক্ত করা হয় ।

আলোচনা চলছিল 'বাঙালী বিয়ে' বিষয়ক । দুপক্ষ থেকে যুক্তিখন্ডনের পাশাপাশি দোষাদোষি ও উপস্থিত । এর আলোচনার মূল সূত্রপাত নতুনভাবে ঘটান 'জুম্ম কলঙ্ক' নামে এক অজ্ঞাত ফেইসবুক ব্যবকারী । অনেক ছেলে/মেয়ের কাছে 'জুম্ম কলঙ্কের' এমন অপরিপক্কতাকে মৌলবাদের উত্তান বলে মনে হচ্ছে । 'মৌলবাদ' (fundamentalism) আসলে কি ? 'মৌলে' মানে শিকরে আটকাটিয়ে থাকা । 'মৌলবাদ' কেন সৃষ্টি হয় ? আমরা যদি এর সৃষ্টির পিছনে লুকিয়ে থাকা সত্যকে অস্বীকার করে মৌলবাদের উত্তাণকে রুখার চেষ্টাকরি তা আদতে কি সম্ভব ? আদিবাসী জুম্ম জনগণের 'মৌলবাদ' কিংবা 'রক্ষণশীল' (conservative) যাই বলেন না কেন, উত্তানের পিছনে যে সুষ্পষ্ট এক কারণ বিদ্যমান তা নিয়ে আলোচনার করা দরকার । সামাজিক মনোবিজ্ঞানে বিদ্যমান 'জাতীয় পরিচয়' এবং 'সাংস্কৃতিক পরিচয়' এ দুটি বিষয় নিয়ে বয়োঃসন্ধিবস্থায় ছেলে/মেয়েরা প্রবলভাবে সন্ধিহান থাকে । এ সময়ই 'মৌলবাদ' কিবা 'রক্ষণশীলতার' বীজ বপিত হয় । পার্বত্য সমস্যাটা আদিবাসী জুম্ম জনগণ এখনো ধর্মগত সমস্যা হিসেবে দেখেন না, তাই ধর্মের মৌলবাদের সম্ভাবনা হীন হলেও সাংষ্কৃতিক এবং জাতীয় মৌলবাদের সম্ভাবনা প্রচুর । মৌলবাদের আগমুহূর্তে সাধারণতঃ রক্ষণশীলতাকে উপলব্ধি করা যায় অতঃপর মৌলবাদের সূচনা ঠিক যেসময় 'রক্ষনশীলতা' অসহায় (ভুক্তভোগীদের দৃষ্টিতে) । তখনই সুইসাইড বোমা, হত্যা, বলাৎকরণ এবং ইত্যাদি জোড়পাকড় শুরু হয় । জাতীয় পরিচয়াপূর্ণ সংকটের জন্য রাষ্ট্রের ব্যর্থতা, বৈষম্য, বর্ণবাদী মানসিকতাই দ্বায়ী । এই 'জাতীয় পরিচয়াপূর্ণ' সংকটে যেসব জাতিসম্প্রদায় শিকার তারা দলবদ্ধ হতে থাকে এবং প্রবল আন্দোলনের মুখে তারা সহিংসতায় জড়িয়ে পড়ে । তাই, পার্বত্য চট্রগ্রামে জুম্ম ছেলেদের ভিতর যদি রক্ষণশীলতা কিংবা মৌলবাদের উত্তানই ঘটে থাকে সেজন্য পরিষ্কারভাবে রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতিই দ্বায়ী । যতদিন জাতীয় পরিচয়ের সংকটাপূর্ণ পরিস্থিতি মিটবে না ততদিন দিনেদিনে জাতীগোষ্ঠীর ছেলে/মেয়েরা কট্টর রক্ষণশীলতা এবং মৌলবাদের দিকে ধাবিত হবে ।

উদাহরণ হিসেবে, 'বাঙালী জাতীয়তাবাদ' - '৫২-এর ভাষা আন্দোলন' - '৭১-এর স্বাধীনতা যুদ্ধ' -'রাজাকার সনাক্তকরণ' -'পাকিস্তানিদের উপর তীব্রক্ষোভ' -'যুদ্ধাপরাধী' ইত্যাদির জন্য তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকসম্প্রদায়ের দ্বৈতনীতিই দ্বায়ী ছিলো। যেসব তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তানের জনগণ পশ্চিম-পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করেন তাদেরকে বলা হয় 'রাজাকার' + 'যুদ্ধাপরাধী' । আজ পর্যন্ত স্বদেশপ্রেমিক বাঙালী জাতিগোষ্ঠীর কেউ পাকিস্তানি কোন নারী/পুরুষকে বিয়ে করা স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেন না । আমার প্রশ্ন -মানতে না পারার কারণটা কেন ? কারণটা ঠিক বর্তমানে আদিবাসী জুম্ম জনগণের ছেলে/মেয়েরা যেভাবে "আইডেন্টিটি ক্রাইসিসে' সম্মুখীন হয়ে 'বাঙালী জাতির' প্রতি তীব্র ক্ষোভের ডানা জন্ম দিয়ে যাচ্ছেন, ঠিক অনুরুপ । এরজন্য একচেঠিয়াভাবে এক জাতিসম্প্রদায়কে দোষারোপ করা যায় না, যেহেতু এর পিছনে রাষ্ট্রের বৈষম্যমূলক নীতি বিদ্যমান সমস্যার কারণ ।

তারপর ও জুম্মজনগণের সচেতন মহলে সতর্ক থাকতে হবে যে, 'জুম্ম কলঙ্কের' মতো কার্যকলাপ কখনো প্রশংসাযোগ্য হতে পারে না । নারীদের সম্ভ্রম নষ্ট করে সমস্যার দীর্ঘমেয়াদী সমাধান পাওয়া যাবে না যদিও নারীদের অংশগ্রহণ খুবই জরুরী । এসব গুরুতর সমস্যা থেকে রক্ষা পেতে হলে যুবক ছেলে/মেয়েদের মানবিক মূল্যবোধ জাগিয়ে তুলতে সামাজিক সংঘটনগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে ।

ব্যক্তি-অধিকার:

ব্যক্তি-অধিকার ! ব্যক্তিই সমাজের এক ইউনিক সদস্য । তাকেই ভিক্তি করে পরিবার, সমাজ, জাতি তথা দেশ । তাই ব্যক্তির স্বাধীনতা খুবই দরকারী বৈকি । অস্বীকার করার প্রশ্নই উঠে না । তবে ব্যক্তির অধিকার যদি 'সামগ্রিক অধিকারের' সাথে পারষ্পরিকভাবে জড়িয়ে থাকে, তখন ? উদ্বাহরনস্বরুপ; এক পরিবারে ৩ ভাই -২ বোন । ১ ভাই এবং ২ বোন ভার্সিটির ডিগ্রীদারী, উচ্চশিক্ষিত । শিক্ষিত ১ ভাই এবং ২ বোন অন্য অশিক্ষিত ২ ভাইয়ের তুলনায় কলমে-কাগজে অধিকার সচেতন । অশিক্ষিত ২ ভাই জীবনে যা কামিয়েছে সব খরচ করেছে অন্য ৩ জনের পড়াশুনার পিছনে । পারিবারিকভাবে অনেক টানাহেঁচরার পরও এখন পরিবারটি নির্ভর করছে ৩ জন শিক্ষিতের উপর । অধিকার সচেতন ২ বোন দাবী করছে তারা 'বেজাতি' বিয়ে করবে, এটা তাদের ব্যক্তি অধিকার । মা-বাবাসহ অন্য ২ অধিকার অসচেতন ভাই, সন্তান/বোনদের এমন সিদ্ধান্তে নারাজ । এক্ষেত্রে শুধু পারিবারিকভাবে নয় সামাজিকভাবে ও মা'বাবাকে প্রতিনিয়ত হেনস্তা হতে হবে । কারণ সামাজিকভাবে এর গ্রহণযোগ্যতা আদৌ গৃহীত হয়নি । অশিক্ষিত ২ ভাইয়ের সোজা উত্তর এমন হলে আমরা তেষ্য করতে বাধ্য । অন্য ১ শিক্ষিত ভাই এখন জায়গা ভাগের সমান দাবী তুলছে । ভাইটির একটা চাকুরী ও হয়েছে । এসবক্ষেত্রে, ব্যক্তির সমান অধিকারের চেয়ে মানবিক দাবীটি বেশি প্রাধান্য হয়ে দাঁড়ায় । এখানেই 'মনুষ্যত্ববোধ' এবং 'অমনুষ্যত্ববোধ' গভীরভাবে কাজ করে । এখানেই 'স্বার্থপর' এবং 'পরার্থপরতার' ব্যবধান প্রতীয়মান হয় । তাই শুধু কলমে-কাগজে লিখিত অধিকার সচেতন হলে চলবে না, 'মনুষ্যত্ববোধকে" ও জাগিয়ে তুলে পারষ্পরিক অবদান রাখার চেষ্টা প্রয়োজন । যে শুধু নিজের অধিকারকে পরিপূর্ণভাবে ভোগ করতে অধিকার সচেতন হতে চাই, তাকে অধিকার সচেতন বলা যাবে না হয়ত বা স্বার্থবাদী ।

ব্যক্তির আলাদা বৈচিত্র্যতা রক্ষার জন্য আজকের 'ইন্ডিজিন্যাস পিপলস্ রাইটস্' (আদিবাসী অধিকার) । ধরা যাক, ৮০% বাংলাদেশের আদিবাসী জনগোষ্ঠী চাচ্ছেন মূল জাতিস্রোত বাঙালীদের সাথে মিশে যেতে, বাকী ২০% চাচ্ছেন যেকোনপ্রকারে নিজেদের আলাদা বৈচিত্র্যতা রক্ষা করবেন, এখানে সমান অধিকারের যে মানবিক দাবী ৮০% জনগোষ্ঠীর জন্য উপেক্ষিত হলে ও ২০% জনগোষ্ঠীর পক্ষে অধিকার রক্ষার যৌক্তিকতা চলে যায় ।

"দি ইন্ডিভিজ্যুয়াল চয়েচ ইস নট দি ইন্ডিভিজ্যুয়াল রাইটস্" (ব্যক্তির নিজস্ব পছন্দ ব্যক্তির অধিকার নয় ) । যদি বলা হয় ব্যক্তির অধিকার আছে তার নিজস্ব ভালমন্দ যাচাই করে পছন্দের কিছু বেছে নিতে পারবে; প্রসঙ্গক্রমে, সেহিসেবে যে কারোর অধিকার থাকবে পছন্দের এক পেশা বেছে নেয়ার -যেমন, পতিতাবৃত্তি (যেহেতু অনেক দেশে এর বৈধতা আছে), পর্ণস্টার (পশ্চিমাতে এর মূল্যায়ন আছে) এবং ইত্যাদি । যারা অধিকার নিয়ে যথেষ্ট সচেতন তাদেরকে আরো বেশি সচেতন হতে হবে মানবিক দাবীর দিকে নজর রেখে । রাহুল গান্ধীর বান্ধবী পশ্চিমা একজন, রাহুম গান্ধী যদি চান সমাজ/রাজনৈতিক বাদ দিয়ে সে ব্যক্তিগতভাবে সুখী হতে । এতে সমস্যা দেখি না, সেটা তার পছন্দ । যখন রাজনৈতিক এবং জাতীয় পছন্দের উপর চলে আসেন তখন বিয়ে করাটা গৌণ হয়ে দাঁড়ায় ।

মানুষের মানবিক মূল্যবোধ ব্যতীত সমস্যাগুলোর মূল উত্তানকে মূল্যায়ন করা যাবে না, তদুপরি এর থেকে মুক্তির সম্ভাবনা ও ভীষণ হীন । আবেগবঃশত অনেককিছু বলা যায়, দাবী করা যায়, দোষ দেয়া যায়, তাতে কি সমাধান ? গালাগালি, রেষারেষিই কি সমস্যার ইতি নাকি মানবিক মূল্যবোধ ? সচেতনতা কি প্রতিশোধ, নাকি মানবিক মূল্যবোধের জাগরণ ? উপসংহারের আগে সূচনা, তাই সূচনা ব্যতীত উপসংহারে পৌঁছানো মানে নিয়মভঙ্গ, বিশৃংখলা । শিক্ষিতদের সচেতন হতে হবে, মূল্যবোধ গড়ে তুলতে হবে অতঃপর অপ্রাপ্তবয়ষ্ক ছেলে/মেয়েদের মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন শিক্ষা দেয়ার দ্বায়িত্ব হাতে নিতে হবে । প্রতিটি সমস্যার যখন কারণ আছে তাই ঢালাওভাবে কু-মন্তব্য করা নিষ্প্রয়োজন ।

প্রসঙ্গঃ "বাঙালী বিয়ে" এবং "আমার উত্তরহীন কিছু প্রশ্ন"

"যুক্তি আনে চেতনা, আর চেতনা আনে সমাজ পরিবর্তন।" (মুক্তমনা থেকে উদ্ধৃত)

প্রসঙ্গঃ "বাঙালী বিয়ে"

স্কুল এবং কলেজে সবচেয়ে জনপ্রিয় আলোচনার টপিক ছিল "বাঙালী বিয়ে" । আলোচনাতে টপিকটা এতোই হিট হতো যে অনেকে কথা বলতে বলতে "মগদা, মগদা করে দাঁড়িয়ে উঠে হাতে হাত ঘর্ষণ করতে করতে বিলাপের সুরে এবং ক্ষোভে বলে উঠে "মগদা বিরে এক্কানা পিদুং দ' হি যে গুরল্লুয়ুং" । আমি হতভম্ব হয়ে শুনি আর দেখি, এবং খে খে করে হাসি । হাসতে না পারলে আমি মজা পেতাম না । কখনো বা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিতাম, "দে সালে হ দে সামনে পেলে হি গত্যা ?" । পাল্টা জবাব আসে " আনি দি সানা এক্কানা" । বুঝতেই পারছেন কি হতো সামনা সামনি হলে ।







ঘটনা-১
একদিন সামনা সামনি অভিজ্ঞতা পাই । সেদিন শুত্রুবার, রসায়ন বিজ্ঞানের প্যাক্টিক্যাল খাতাতে আলমগীর স্যার থেকে দস্তখত নিতে হবে । আমরা দু'বন্ধু কলেজে স্যারের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে অন্য আরেক ক্লাশমেট বন্ধু এসে খবর দেয় যে আমাদের কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে । কেনো ? একটা ঘটনা ঘটতে পারে, মারামারির জন্য ও প্রস্তুত থাকতে হবে । মারামারিতে আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা নেই, এখন ? তবুও তাদের সাথে থাকতে হবে । পুকুরের পাড়ে জলপাই তলায় চলছে আড্ডা । মেয়েটি খবং পড়িয়া থেকে 'এক চাকমা মেয়ে', আমার বন্ধুর পরিচিত । মেয়েটিকে আড্ডাখানা থেকে ডেকে আনা হল । শুরু হল প্রশ্ন-উত্তর পর্ব ।

  • ক্লাশমেট বন্ধুঃ আচ্ছা ! এচ্ছে দ কলেজ বন্ধ আ তুই হেদ্দেই এচ্চোচ ?
  • মেয়েঃ রেজিস্ট্রশন গড়া এচ্চোং, গত তিন মাজ কলেজত এই ন' পারং ।
  • ক্লাশমেট বন্ধুঃ আ এচ্চে যে বন্ধ তুই খবর ন' পাচ ? বাঙাল্লেলোই হয়দিন দুরি চেনা ?
  • মেয়েঃ এচ্চে বন্ধ মুই খবর ন' পিদুং । ১ মাজ আগে হয়তে চেনা ।
  • ক্লাশমেট বন্ধুঃ তুই হত্তে ৩ মাজ দুরি কলেজত এই ন'পারজ আ হুদু চেনাচেনি অলা ?


মেয়েটি হতভম্ব হয়ে যায় আর পেঁচু পেঁচু করে চোখে পানি ঝড়াতে থাকে । মেয়েদের এমনিতে সস্তা দামের চোখের পানি ঝড়ে । আমার কোমল মনে আঘাত হানে । আর ক্লাশমেট বন্ধুকে ডেকে বলি "বেজ দমক ন দো' দোলে বোঝেবার চ" ।


মেয়েঃ খাগড়াছড়ি বাজা-র এক দোকানত ।
ঠিক সে সময় হঠাৎ অন্য এক ক্লাশমেট চেঁচিয়ে বলে উঠে, "হি আমা চাকমাগুনর ইগুন ইল ন' অয় দে নাহী ? বাঙালো ইগুন গম লাগে দে ?" আমি ত হতভম্ব, কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে আছি । মেয়েটি আরেকটু জোড়ে কান্না করতে থাকে ।
ক্লাশমেট বন্ধুঃ আমি ত ঘরত জানেবং তুই হি হচ ?
মেয়েঃ ও দা, মুই তোমা টেংয়ত পরং এক্কানা ঘরত ন' জানেয়ো । ঘরত হবর পেলে পড়াশুনা বন্ধ অব । মুই আ এদ্দোক্কে ন' গরিম আই । মুই মাপ চাং ।
ক্লাশমেট বন্ধুঃ ঠিক আগে সালেন, আরেকবার যদি হোনো বাঙাল লোই দেগিই সালে আ এদোল্লে রসত রসত হদা ন' হবং সরাসরি একশন চলিবো ।
মেয়েটি নিশ্চুপ থাকে । ঠিক আছে বলে । মেয়েটি সেদিন ভয়ে -লজ্জায় অনেক মিথ্যা কথা বলেছে আমি প্রতিটি কথাতে বুঝতে পেরেছি । তবুও মেয়েটির সেদিন ভাগ্য ভালো ছিলো বকাটে ছেলেদের কাছে ধরা পড়েনি ।


ঘটনা -২


আমাদের এক ক্লাশের সিনিয়র এক ছাত্রী, দীঘিনালায় তার বাড়ি । এক সাথে স্কুলের জামাল স্যারের কাছে উচ্চতর গণিত প্রাইভেত শিখি । ছাত্রীটিকে আমরা বন্ধুরা নাম দিলাম 'বুচুত্তো" । কোন এক কথায় ছাত্রীটি 'বুচুত" বলেছিলো, তাই এক বন্ধু নামকরন করে দেয় । সেদিন ও কলেজ বন্ধ দিন । সকালে কিছু খেয়ে কলেজে আলমগীর স্যারের কাছে প্রাইভেতে যাই । কলেজের ভিতরে ঢুকার দরজার সামনে 'বুচুত্তোসহ' কয়েক সিনিয়র ছাত্রী কয়েক মেধাবী বাঙালী ছেলের সাথে কথা বলতেছিল । এমন সময় এক বাঙালী ছেলে 'বুচুত্তোর" গালে দুই আঙুল দিয়ে কষতে থাকে আর কি যেন বলছিল । আমি কিছু বলার আগে আমার বন্ধু বলে উঠে "এ মিলেবোর অবস্থা দ হারাপ" । এসবধরণের কথা আমরা সাধারনত ৩-৪ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখি । বন্ধুটি কিন্তু মনের গভীর থেকে এই বাক্যটি বলছে তা বুঝতে পারছি । পরে মেয়েটিকে ডেকে কিছু বলার জন্য ভেবেছিলাম, দূঃখজনক হলেও সত্য যে আমরা কিছুই বলতে পারিনি । সেসব প্রশ্ন মুখ থেকে আসেনি যখনই তার সামনাসামনি হয়েছি । পরে মেয়েটি এক বছর ফেল মেরে আমাদের ক্লাশমেট হয়, আর আগের চেয়ে অনেক বেশি ঘনিষ্ট হয় । অনেক মেয়েই আমাদের সামনাসামনি হলে লজ্জাবোধ করে, যা ছিল স্বাভাবিক । এটা ছিল রিপ্লেকশন ।


আমার উত্তরহীন কিছু প্রশ্ন


মহাজন পাড়ার সুপ্রসিদ্ধ এক সুন্দরী নারীর সাথে এক সন্ধ্যায় দেখা হয় পানখাইয়া পাড়ার নিউজিল্যান্ডের পথে । আমরা ৩ বন্ধু হাঁটছি, সেদিন সাইকেল অফ রেখেছি । মেয়েটি অন্য এক মেয়ে (ঘটনা -১ এ যে মেয়েটিকে কলেজে ধরেছি) আমার বন্ধুকে থামিয়ে তার সুন্দরী বান্ধবীর সাথে কথা বলতে বলে । এনিওয়ে, আমার বন্ধু ও খুব হ্যান্ডসাম তাতে কোন সন্দেহ নেই । বন্ধুর সাথে কোন এক জায়গায় সুন্দরী মেয়েটি দেখা করতে চাই । পরিস্থিতি শুভ ছিল না, মন্তব্য করার সাহজ নেই । বন্ধু ঠিক আছে বলে স্থান নির্ধারিত হয় খাগড়াছড়ি বাজারের বৌদ্ধমন্দিরে । তখন রটযাত্রা উৎসব । আমরা ৩ জন পড়ন্ত বিকেলে বেরিয়ে পড়ি । সেদিন স্যাঁতস্যাঁতে বৃষ্টি ছিল । মেয়েটি অন্য আরেক বান্ধবীকে নিয়ে অপেক্ষা করছে । শরীর এবং বয়সের দিক দিয়ে তুলনা করলে মেয়েটি আমার বন্ধুর থেকে বড় এবং বয়ষ্ক । মেয়েটি সেদিন আমার বন্ধুকে ভালোবাসার প্রস্তাব দেই । প্রতিউত্তর জানতে চাই । সেদিন বন্ধুর মুখে কোন উত্তর বেরিয়ে আসেনি । আমরা শুনে অশুভ লক্ষনের ঈঙ্গিত পাই । বন্ধুকে অ্যাভোয়েড করতে পরামর্শ দিই । এভাবে মেয়েটি প্রায়ই সময় বন্ধু কাছে এসে কিছু সময়ের জন্য কথা বলতে চাই । চকলেট পাঠিয়ে দেই পার্বত্য লাইব্রেরীর ঠিকানায় আমি নিয়ে আসি, বক্সে থাকতো এক চিঠি, চিঠিতে কয়েক লাইনের মন্ত্র । মন্ত্রযুক্ত চিঠি সন্দেহের অবতারণা দেই । এভাবে মাস গড়িয়েছে, মেয়েটি তার জন্মদিনের জন্য দাওয়াত দেই । আমরা যাইনি । পরে রাত ৮ টার দিকে মেয়েটি আসে বন্ধুকে ডাকতে । ঘটনাক্রমে বন্ধুর খালাতো বড় বোন সেদিন উপস্থিত ছিল । তড়িগড়ি বন্ধু আমার নামটি মুখে তুলে চাপিয়ে দেই অমুকের সাথে বন্ধুত্ব আছে, আমি ত শুনে তত' ভ ! পরবর্তীতে আস্তে ধীরে বড় বোনটিকে ভুল বুঝাবুঝি দূর করে দিই । এভাবে একদিন এক আমেরিকা প্রবাসীর বিয়ে আমরা নিমন্ত্রিত হই সেচ্চাসেবক হিসেবে । মেয়েটি ও উক্ত বিবাহ অনুস্থানে যথারীতি উপস্থিত । বন্ধু লুকিয়ে থাকতে চাইলে ও ধরা খেয়েছে । সেদিন সন্ধ্যাবেলা বিবাহ অনুস্থান শেষে বেড়িয়ে পড়ি । রাস্তার পাশে গল্প করছি । বন্ধুর হাতে এক চিঠি । চিঠিটি আমাকে পৌঁছাতে হবে সুন্দরী মেয়েটির কাছে । তারা আসছে দেখে আমি সাইকেল নিয়ে প্রস্তুত হই । তারপর চিঠি মেয়েটির হাতে তুলে দিই । বন্ধু চিঠিতে লিখেছিল, "দয়া করা আমাকে ভুলে যাও, আর ডিস্টার্ব করো না । সামনে আমার পরীক্ষা ।.."


পরে সেই সুন্দরী মেয়েটিকে এক দোকানে বাঙালী ছেলের সাথে হাতেনাতে ধরা হয় । খবর আসে । আমরা বিকেলে ৩ বন্ধু আবার নিউজিল্যান্ডের পথে হাঁটতে বেড়িয়ে পড়ি । আমি বন্ধুকে হাস্যচ্ছলে বলি, "তুমি যদি সেই স্পটে থাকতে, মেয়েটি যদি তোমাকে বলতো তুমি তাহলে কিজন্য আমাকে ভালোবাসলে না, ঠিক তখন কি বলতে ?” বন্ধু মুচকি হাসে । বন্ধুকে যে প্রশ্নটি করেছি তার উত্তর আসলে আমার ও জানা ছিল না, এখনো নেই ।


ঠিক আছে, বন্ধু তাকে ভালোবাসেনি, তাই বলে কি সেই উক্ত ইস্যু নিয়ে বাঙালী বিয়ে করবে ? "ভালোবাসা" বলতে কি যাকে সুন্দর লাগে, ভালো লাগে তাকেই বিয়ে করতে হবে ? সেক্ষেত্রে তাহলে, ছেলেরা ও ইচ্ছে করলে যাকেতাকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়ে জোড় করে বিয়ে করতে পারবে ?


ধরুন, এক মেয়ে যে কাউকে প্রস্তাব দিলো যে, "আমি তোমাকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবো না । না হয় 'বাঙালী' বিয়ে করবো ?" এখন যদি সেই ছেলেটি বাঙালী বিয়ে করাকে সমর্থ না করে কিন্তু আবার মেয়েটির প্রতি তার উৎসাহ এবং আত্মবিশ্বাস নেই । হয়ত মেয়েটির আগে কারোর সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক ছিল । এখন এর উত্তর ও জানা নেই ।


এসব উত্তরহীনতার সমাধান হতে পারে মনুষ্যত্ববোধের উদয়ের মাধ্যমে । যতদিন আমাদের মনুষ্যত্ববোধের পরিপূর্ণতা পাবে না; নিজেরা নিজের ভালোমন্দকে জানতে পারবো; সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারবো না; ততদিন মুক্তি নেই । তুমি -আমি ব্যাপার চেপারগুলো নিচক ছেলেমানুষী খেলা । "যাকে চাই, তাকে পাই না" এটা শুধু একজন দুজনের জন্য সত্য না । এটা জগতের নিয়ম; কঠিন বাস্তবতা ।


আমি নারী বিদ্বেষী নই । এক সাধারণ চিন্তক । মেয়েরা স্বয়ং আমাকে পরামর্শ দেই যে কোন মেয়েকে সহজে বিশ্বাস না করতে । এতে ছেলেদের কৃতিত্ব নেই । তাই বলে ছেলেদের দোষগুলো অস্বীকার করছি না । যেহেতু লেখাটি 'বিবাহ বিষয়ক" তাই এসব বলা ।

নেতার মননে যখন "ইগোর" জন্ম নেয়; জাতি তখন ধ্বংসের পথে !!!

মানুষের কথা এবং শর্ত স্বাপেক্ষে আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয় । আমি এক মানুষ হিসেবে মানবিক চিন্তাশীলতা খুবই প্রকর । শর্ত স্বাপেক্ষ রাজনীতিতে নৈতিকতা লোপ পাবে তা স্বাভাবিক । কারণ প্রতিমুহূর্তে আমরা পরিবর্তনের দিকে নিয়ত ধাবিত হচ্ছি । চলমানভাবে ভেসে চলেছি । নতুন-নতুন তত্ত্ব প্রতিনিয়ত সংযোজিত হচ্ছে জীবন চলার পথে । পুরাতন তত্ত্বকে শর্ত বানিয়ে নব জোয়ানের কাছে চাপিয়ে দেয়াকে উন্নয়ন অথবা অগ্রসরতা বলে না । অগ্রসরতা নির্ভর করে চলমান পরিবর্তনশীলতার সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া । পিছে ফিরে তাকিয়ে সময়ক্ষেপন করা মানে এই প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া । অগ্রসরতার আরেকটা দিক বিবেচ্য, মানুষ আজ অবধি কখনো প্রকাশ্য এমন প্রতিযোগিতায় নামেনি যেখানে ভালো নয় বরং খারাপই বেশি হয় । তবে এরকম প্রতিযোগিতা ঘটে গোপনে । এই গোপনীয়তায় মূল কারণ হলো এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে ভন্ডামি এবং পশুত্ববোধই ফুঁটে উঠে ।

মানুষই ভুল করে, আবার ভুলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ও করে শুধু মানুষই । রাজনীতির অঙ্গনে প্রায়শ্চিত্ত ভাবনা কম, এর কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের একটা চিত্ত উৎপত্তি হয় । এই চিত্তকে বলা যেতে পারে এক ধরনের "ইগো (আত্ম)" । যখনই এই ইগোর জন্ম হয়েছে তখনই সমাজ এবং দেশ রসাতলে গেছে । এই রসাতলের একমাত্র কারণ নেতামাপিক লোকদের কাছে ইগোর উৎপত্তি। এর সমাধান এক নেতাকে দীর্ঘদিন নেতা বানিয়ে না রাখা । তিনি যদি দেশ জাতির জন্য অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেই বা থাকেন তবু ও তাকে সম্মানের আসনে বসিয়ে উপদেষ্টা করে আজীবন সম্মান করে যাওয়া । এভাবে নবীনের জোয়ানরা উৎসাহ পায় । সমাজ দেশ মানুষের পরিবর্তন দ্রুত বাড়তে থাকে । জাতিগত সহিংষতা থেকে রেহাই পাওয়া যাই ।

নবীনদের অনেকেই স্বাধীনভাবে ভাবতে জানে না, শিখে না । পরাধীনতার গ্লানি কাঁধে নিয়ে তারা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরাধীন হয়ে থাকতে চাই । তাই আজ জাতিগত দ্বন্ড । চাকুরীর লোভে, স্কোলারশীপ পাওয়ার লোভে অথবা অর্থে লোভে মোহচন্ন হয়ে সত্যিকার রাজনীতি করা যায় না । রাজনীতির মূলমন্ত্রে ত্যাগই শ্রেষ্ঠ । রাজনীতিক জীবনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হলে শিখতে এবং জানতে হবে কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করা যায় । নেতা হওয়া মানে সমাজের সর্বস্তর খাদকে উঠে যাওয়া নয় । নেতার মূল্য পেতে হলে নিজেকে সাধারনের কাঠারে নিয়ে যেতে হয় । অসাধারণরা নেতা হতে পারেন না । সাধারণরা নেতা বনে যান কালের পরিক্রমায় । যারা নেতা বনতে গিয়ে নিজেদেরকে অসাধারণ মনে করছেন তাদের ভবিষ্যত নেই । ইতিহাস পাতাতে দুভাবে মানুষের স্থান হয়, পলপত এবং হিটলার-রা ও কিন্ত ইতিহাসে স্থান পান শুধু মহাত্মাগান্ধীরা না । ইতিহাস পাতার স্থানটা মৃত্যুর আগে যাচাই করে নিন, আর সাধারণ হতে চেষ্টা করা শ্রেয় হবে । 

নেতাদের "ইগো" জন্ম হয়েছে মানে জাতি ধ্বংসের পথ সুগম হয়েছে ভাবতে হবে । কারণ, নেতাদের এই ইগোই একদিন পৃথিবীকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়েছিল । আমরা বর্তমানে ও দেখছি । তাই নবীনদের নতুন পথ ত্যাগের মাধ্যমে খুঁজে নিতে হবে । সম্মান জানাই ত্যাগিদের; মোহচন্ন ভোগবাদীদের নয় । যেদিন ইগোহীন নেতার ধারাবাহিকতা থাকবে ততদিন জাতিগত দ্বন্ধ থেকে জাতি মুক্তি পাবে । সমাজ -জাতির উন্নতি ঘটবে । এই প্রত্যাশায় ।