Sunday, April 8, 2012

নেতার মননে যখন "ইগোর" জন্ম নেয়; জাতি তখন ধ্বংসের পথে !!!

মানুষের কথা এবং শর্ত স্বাপেক্ষে আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয় । আমি এক মানুষ হিসেবে মানবিক চিন্তাশীলতা খুবই প্রকর । শর্ত স্বাপেক্ষ রাজনীতিতে নৈতিকতা লোপ পাবে তা স্বাভাবিক । কারণ প্রতিমুহূর্তে আমরা পরিবর্তনের দিকে নিয়ত ধাবিত হচ্ছি । চলমানভাবে ভেসে চলেছি । নতুন-নতুন তত্ত্ব প্রতিনিয়ত সংযোজিত হচ্ছে জীবন চলার পথে । পুরাতন তত্ত্বকে শর্ত বানিয়ে নব জোয়ানের কাছে চাপিয়ে দেয়াকে উন্নয়ন অথবা অগ্রসরতা বলে না । অগ্রসরতা নির্ভর করে চলমান পরিবর্তনশীলতার সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া । পিছে ফিরে তাকিয়ে সময়ক্ষেপন করা মানে এই প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া । অগ্রসরতার আরেকটা দিক বিবেচ্য, মানুষ আজ অবধি কখনো প্রকাশ্য এমন প্রতিযোগিতায় নামেনি যেখানে ভালো নয় বরং খারাপই বেশি হয় । তবে এরকম প্রতিযোগিতা ঘটে গোপনে । এই গোপনীয়তায় মূল কারণ হলো এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে ভন্ডামি এবং পশুত্ববোধই ফুঁটে উঠে ।

মানুষই ভুল করে, আবার ভুলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ও করে শুধু মানুষই । রাজনীতির অঙ্গনে প্রায়শ্চিত্ত ভাবনা কম, এর কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের একটা চিত্ত উৎপত্তি হয় । এই চিত্তকে বলা যেতে পারে এক ধরনের "ইগো (আত্ম)" । যখনই এই ইগোর জন্ম হয়েছে তখনই সমাজ এবং দেশ রসাতলে গেছে । এই রসাতলের একমাত্র কারণ নেতামাপিক লোকদের কাছে ইগোর উৎপত্তি। এর সমাধান এক নেতাকে দীর্ঘদিন নেতা বানিয়ে না রাখা । তিনি যদি দেশ জাতির জন্য অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেই বা থাকেন তবু ও তাকে সম্মানের আসনে বসিয়ে উপদেষ্টা করে আজীবন সম্মান করে যাওয়া । এভাবে নবীনের জোয়ানরা উৎসাহ পায় । সমাজ দেশ মানুষের পরিবর্তন দ্রুত বাড়তে থাকে । জাতিগত সহিংষতা থেকে রেহাই পাওয়া যাই ।

নবীনদের অনেকেই স্বাধীনভাবে ভাবতে জানে না, শিখে না । পরাধীনতার গ্লানি কাঁধে নিয়ে তারা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরাধীন হয়ে থাকতে চাই । তাই আজ জাতিগত দ্বন্ড । চাকুরীর লোভে, স্কোলারশীপ পাওয়ার লোভে অথবা অর্থে লোভে মোহচন্ন হয়ে সত্যিকার রাজনীতি করা যায় না । রাজনীতির মূলমন্ত্রে ত্যাগই শ্রেষ্ঠ । রাজনীতিক জীবনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হলে শিখতে এবং জানতে হবে কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করা যায় । নেতা হওয়া মানে সমাজের সর্বস্তর খাদকে উঠে যাওয়া নয় । নেতার মূল্য পেতে হলে নিজেকে সাধারনের কাঠারে নিয়ে যেতে হয় । অসাধারণরা নেতা হতে পারেন না । সাধারণরা নেতা বনে যান কালের পরিক্রমায় । যারা নেতা বনতে গিয়ে নিজেদেরকে অসাধারণ মনে করছেন তাদের ভবিষ্যত নেই । ইতিহাস পাতাতে দুভাবে মানুষের স্থান হয়, পলপত এবং হিটলার-রা ও কিন্ত ইতিহাসে স্থান পান শুধু মহাত্মাগান্ধীরা না । ইতিহাস পাতার স্থানটা মৃত্যুর আগে যাচাই করে নিন, আর সাধারণ হতে চেষ্টা করা শ্রেয় হবে । 

নেতাদের "ইগো" জন্ম হয়েছে মানে জাতি ধ্বংসের পথ সুগম হয়েছে ভাবতে হবে । কারণ, নেতাদের এই ইগোই একদিন পৃথিবীকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়েছিল । আমরা বর্তমানে ও দেখছি । তাই নবীনদের নতুন পথ ত্যাগের মাধ্যমে খুঁজে নিতে হবে । সম্মান জানাই ত্যাগিদের; মোহচন্ন ভোগবাদীদের নয় । যেদিন ইগোহীন নেতার ধারাবাহিকতা থাকবে ততদিন জাতিগত দ্বন্ধ থেকে জাতি মুক্তি পাবে । সমাজ -জাতির উন্নতি ঘটবে । এই প্রত্যাশায় ।

No comments:

Post a Comment