মানুষের
কথা এবং শর্ত স্বাপেক্ষে আমার পক্ষে রাজনীতি করা সম্ভব নয় । আমি এক মানুষ
হিসেবে মানবিক চিন্তাশীলতা খুবই প্রকর । শর্ত স্বাপেক্ষ রাজনীতিতে নৈতিকতা
লোপ পাবে তা স্বাভাবিক । কারণ প্রতিমুহূর্তে আমরা পরিবর্তনের দিকে নিয়ত
ধাবিত হচ্ছি । চলমানভাবে ভেসে চলেছি । নতুন-নতুন তত্ত্ব প্রতিনিয়ত সংযোজিত
হচ্ছে জীবন চলার পথে । পুরাতন তত্ত্বকে শর্ত বানিয়ে নব জোয়ানের কাছে চাপিয়ে
দেয়াকে উন্নয়ন অথবা অগ্রসরতা বলে না । অগ্রসরতা নির্ভর করে চলমান
পরিবর্তনশীলতার সাথে প্রতিযোগিতায় নেমে পড়া । পিছে ফিরে তাকিয়ে সময়ক্ষেপন
করা মানে এই প্রতিযোগিতায় হেরে যাওয়া । অগ্রসরতার আরেকটা দিক বিবেচ্য,
মানুষ আজ অবধি কখনো প্রকাশ্য এমন প্রতিযোগিতায় নামেনি যেখানে ভালো নয় বরং
খারাপই বেশি হয় । তবে এরকম প্রতিযোগিতা ঘটে গোপনে । এই গোপনীয়তায় মূল কারণ
হলো এমন প্রতিযোগিতার মধ্যে দিয়ে মানুষের কাছে ভন্ডামি এবং পশুত্ববোধই
ফুঁটে উঠে ।
মানুষই
ভুল করে, আবার ভুলের জন্য প্রায়শ্চিত্ত ও করে শুধু মানুষই । রাজনীতির
অঙ্গনে প্রায়শ্চিত্ত ভাবনা কম, এর কারণ দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে মানুষের একটা
চিত্ত উৎপত্তি হয় । এই চিত্তকে বলা যেতে পারে এক ধরনের "ইগো (আত্ম)" । যখনই
এই ইগোর জন্ম হয়েছে তখনই সমাজ এবং দেশ রসাতলে গেছে । এই রসাতলের একমাত্র কারণ
নেতামাপিক লোকদের কাছে ইগোর উৎপত্তি। এর সমাধান এক নেতাকে দীর্ঘদিন নেতা
বানিয়ে না রাখা । তিনি যদি দেশ জাতির জন্য অনেক কল্যাণমূলক কাজ করেই বা
থাকেন তবু ও তাকে সম্মানের আসনে বসিয়ে উপদেষ্টা করে আজীবন সম্মান করে যাওয়া
। এভাবে নবীনের জোয়ানরা উৎসাহ পায় । সমাজ দেশ মানুষের পরিবর্তন দ্রুত
বাড়তে থাকে । জাতিগত সহিংষতা থেকে রেহাই পাওয়া যাই ।
নবীনদের
অনেকেই স্বাধীনভাবে ভাবতে জানে না, শিখে না । পরাধীনতার গ্লানি কাঁধে নিয়ে
তারা ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে পরাধীন হয়ে থাকতে চাই । তাই আজ জাতিগত দ্বন্ড ।
চাকুরীর লোভে, স্কোলারশীপ পাওয়ার লোভে অথবা অর্থে লোভে মোহচন্ন হয়ে
সত্যিকার রাজনীতি করা যায় না । রাজনীতির মূলমন্ত্রে ত্যাগই শ্রেষ্ঠ ।
রাজনীতিক জীবনে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে হলে শিখতে এবং জানতে হবে কতটুকু
ত্যাগ স্বীকার করা যায় । নেতা হওয়া মানে সমাজের সর্বস্তর খাদকে উঠে যাওয়া
নয় । নেতার মূল্য পেতে হলে নিজেকে সাধারনের কাঠারে নিয়ে যেতে হয় ।
অসাধারণরা নেতা হতে পারেন না । সাধারণরা নেতা বনে যান কালের পরিক্রমায় ।
যারা নেতা বনতে গিয়ে নিজেদেরকে অসাধারণ মনে করছেন তাদের ভবিষ্যত নেই ।
ইতিহাস পাতাতে দুভাবে মানুষের স্থান হয়, পলপত এবং হিটলার-রা ও কিন্ত
ইতিহাসে স্থান পান শুধু মহাত্মাগান্ধীরা না । ইতিহাস পাতার স্থানটা মৃত্যুর
আগে যাচাই করে নিন, আর সাধারণ হতে চেষ্টা করা শ্রেয় হবে ।
নেতাদের
"ইগো" জন্ম হয়েছে মানে জাতি ধ্বংসের পথ সুগম হয়েছে ভাবতে হবে । কারণ,
নেতাদের এই ইগোই একদিন পৃথিবীকে ধ্বংসের শেষপ্রান্তে নিয়েছিল । আমরা
বর্তমানে ও দেখছি । তাই নবীনদের নতুন পথ ত্যাগের মাধ্যমে খুঁজে নিতে হবে । সম্মান
জানাই ত্যাগিদের; মোহচন্ন ভোগবাদীদের নয় । যেদিন ইগোহীন নেতার ধারাবাহিকতা
থাকবে ততদিন জাতিগত দ্বন্ধ থেকে জাতি মুক্তি পাবে । সমাজ -জাতির উন্নতি
ঘটবে । এই প্রত্যাশায় ।
No comments:
Post a Comment