Sunday, April 8, 2012

উত্তরহীন "অধিবিদ্যা" টাইপো প্রশ্ন; অরহত [অথ-বা] অরহত নন

 অধিবিদ্যা চর্চা করা হয় জ্ঞানবৃদ্ধি করার জন্য, কখনো সত্য হতে হবে তার প্রমাণ মিলে না। অধিবিদ্যা মূলতঃ সেসব বিষয়কে বুঝান হয়ে থাকে যেগুলোর উত্তর যুক্তি-বুদ্ধি-প্রমাণ-পর্যবেক্ষণ দ্বারা ও মিলে না। যেমন ধরুণ, এই বিশ্বব্রমান্ধ কী শ্বাশত নাকী অশ্বাশত ? ঈশ্বর আছেন কী –নেই (?) মৃত্যুর পর অস্তিত্ব আছে কী –নেই (?) এসব প্রশ্নের উত্তর থাকতে পারে কিন্তু ভিত্তিহীন স্তম্ভের উপর দাঁড় করে। যদ্রুপ কুকুরকে শিয়ালের আবরণ দিয়ে শিয়াল বানালেও কুকুর যেমন কুকুরই থেকে যায়, ঠিক তদ্রুপ সত্যকে হাজার মিথ্যা যুক্তির উপর দাঁড় করালে ও সত্য সত্যই থেকে যায়। এর জন্য মানুষ আশ্রয় নেবে নানা যুক্তি –অবান্তর কাহিনী উপর ভিত্তি করে, যা জ্ঞানচক্ষু দিয়ে দেখলে আবোল-তাবুল মনমাতানো পাগলামি ছাড়া কিছুই হতে পারে না। আমি প্রমাণ করতে চাই না ঈশ্বর আছেন কিংবা চাই না ঈশ্বর নেই।

বাস্তব জীবনকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে যদি কেউ আমাকে নাস্তিকের লিস্টে বন্দোবস্ত করিয়ে নিজের রিপুকে তৃপ্ত করাতে পারেন, আমার কোনোকিছু যাবে ও না আবার আসবে ও না, আমি ষষ্টইন্দ্রীয়ের দেহ এবং মনকে ধারণ করে পঞ্চ স্কন্ধনামক মানবপৃন্ড হয়ে দাঁড়িয়ে থাকবো, কেউ আমার অস্তিত্বকে অস্বীকার করার ক্ষমতা রাখতে পারবে না, যদি উক্ত ব্যক্তিমহোদয় সত্যর উপর বেঁচে থাকতে নিজেকে প্রস্তুত রাখেন। সৃষ্টিকর্তাকে অস্বীকার করা হয় কারণ এর অস্তিত্বের কোনো ভিত্তি আদৌ সত্যর মধ্যে দিয়ে সঠিকভাবে উপস্থাপন করা যায়নি। তাঁহার অস্তিত্বকে বিশ্বাসের উপরই ভর করে রাখা হয়েছে –যা প্রমান সাপেক্ষ্য সত্য নয়। তাই ধর্মগ্রন্থসমুহকে পড়ার আগে বিশ্বাসকে মনের মধ্যে ধারণ করতে বলা হ্য়। কারণ একজন সুস্থ মস্তিস্কের মানুষ বিশ্বাস ব্যতীত কখনো মেনে নেবেনা যে অদেখা কোনো ব্যক্তির প্রেরিত বাণী মানুষকে কীভাবে হুকুম করে, তাই ব্যক্তির অন্তরে বিশ্বাস নামক অন্ধবিশ্বাসের কাতার অতীব জরুরী, নতুবা হতে হবে অসুস্থমস্তিস্কের এক মানুষ। তাই আপনাকে আত্মসম্মনবোধকে আমল দিয়ে সুস্থ মস্তিস্কের একজন জাহির করতে গিয়ে অবশ্যই হতে হবে একজন বিশ্বাসী। কতো কঠিন –তাই না (?)।

আর অন্যদিকে ঈশ্বর নেই তাও বলার দরকার পড়ে না, কেননা এতে জটিলতার বেড়াজাল খুবই বিদ্যমান। যেমন, একজন শুনে ও যখন না শুনার ভান করে, কেউ না ঘুমিয়ে ও ঘুমানোর ছলনা করে, তাহাকে বাধ্য করতে গিয়ে আপনাকে লাঠিসোতা কিংবা গরম পানি দেলে দিয়ে জাগিয়ে তুলতে হবে। এসব করতে গিয়ে কিন্তু আপনি একজনের ব্যক্তিস্বাধীনতাকে ধ্বংস করতে চলেছেন। সে যখন শুনেনা বলে তখন আপনাকে কন্সিডার করতে হবে, কারণ আপনি নিশ্চিত না উনি শুনেছেন কিনা (?)-সন্দেহ আপনার ও বিদ্যমান, শুধু উনার দোষ ও নয় বটে। অনেককে দেখেছি মরার মতো করে ঘুমায় –তাই ধর্য্য ধরতে হবে উনি জেগে উঠার আগ পর্যন্ত। সে স্বাভাবিকভাবে উঠবে যদিও একটু দেরি হতে পারে। বুঝতে দিন প্রাকৃতির নিয়মকে –বুঝতে দিন জীবনের মর্ম, আমি নিশ্চিত সে একদিন বুঝবে –তবে তখনিই সেই বুঝা হবে পরিপক্কভাবে বুঝা। সে আবিষ্কার করবে নতুন এক সত্য যা সংসার জগতেই বিরাজমান। সে পরিপক্ক ব্যক্তি বিপ্লবের ডাক দেবে সত্যর জন্য।

মানুষের স্বভাবজাত হচ্ছে পরনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকতে ভালবাসা। আমরা নিজেকে বিশ্বাস করতে পারিনা বিদায়, পরের ভালোলাগার মন্দলাগার উপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ি। পরীক্ষা কক্ষে ডুকে ও আমাদের মনে সন্দেহ জাগে প্রশ্নপত্রের উত্তগুলো ভালভাবে করা যাবে কিনা, তখনিই এক অলৌকিক শক্তির কামনা করি। একজনের হাতে সারাবছরের অক্লান্ত পরিশ্রম প্রশ্নব্যতীত ঢেলে দিই, তাই আত্মশক্তি বাড়ে এবং বিনা সন্দেহে উত্তরগুলো লেখা যায়। মনের ভরসা; তিনি (সৃষ্টকর্তা) আসেন আমার আশে-পাশে। কোনো রোগে ভুক্তে থাকা রোগীকে ডাক্তাররা কোনোরকম মানসিক চাপ দিতে অপরাগ করিয়ে, বরং আত্মশক্তিকে মজবুত করাতে যাযা কিছু দরকার তা উপদেশ দিয়ে থাকেন। কারণ দেহ এবং মন খুবই ওতোপ্রোতভাবে জড়িত, একটির সঠিক সঞ্চালন ব্যতীত অন্যটি চলতে অক্ষম। তাই ক্যান্সার রোগের জন্য খাদ্য কন্ট্রোলের পাশাপাশি একধরনের ট্রান্সেন্ডাল মেডিটেশনের ব্যবহারবিধি প্রয়োগ করা হয়, যাতে করে রোগী রোগকে ভুলে থাকতে পারেন, আর দ্রুত রোগমুক্তি ঘটে। আসলে মানুষের মনোবিজ্ঞানের ভালো ধারণা না থাকাতে সব কষ্টের উপার্জিত ফল সৃষ্টিকর্তার হাতে তুলে দেন, কারণ তিনি উনাকে বিশ্বাস করেই নিজের আত্মশক্তিকে মজবুত করতে পেরেছেন –কারণ তাঁহার এক জনেরপক্ষে করার সাহজ ছিলো না। তিনি নিজেকে বিশ্বাস গড়াতে পারেননি। সেজন্য অধিকাংশ নাস্তিকরা বিভিন্ন জ্ঞানের অধিকারী হয়ে থাকেন। কারণ নাস্তিকরা যুক্তিকে প্রাধান্য দেন বেশি। তাঁহারা যুক্তির মধ্যে দিয়ে সত্যকে খোঁজেন –যা ও অধিবিদ্যার কাতারে পড়ে।

বনভান্তে অরহত ছিলেন কি ছিলেন না ? মৃত্যুবরণ করেছেন নাকি পরিনিবার্ণ লাভ করেছেন ? প্রশ্নগুলো ঈশ্বরের অস্তিত্ব অথবা অস্তিত্বহীন প্রশ্নের মতো অধিবিদ্যাতে পড়ে, যা বুদ্ধ এড়িয়ে যেতেন । যেগুলো উত্তরহীন, ঝাঁঝালো, গন্ধযুক্ত ! অরহত ছিলেন বলে কি আমার লাভ হবে যদি আমি নিজেকে সংযত না করি? নাকি ভন্ড অরহত বললে আমার মান বাড়ে ? সম্মান দিতে কৃপনতা না থাকলে ও অসম্মান করার বিপক্ষে । যে যা প্রাপ্য তাকে সে প্রাপ্য সম্মান দিতে হবে, দেয়ার জন্য অভ্যস গড়ে তুলতে হবে ।

No comments:

Post a Comment