নাগার্জুনের শূন্যতা দর্শন আমাকে ভাবাচ্ছে । বুদ্ধের অনাত্মা, তদুপরি
উপনিসদের আত্মা, চার্বাকের নাস্তিবাদ (ধ্বংসবাদ), পশ্চিমাদের পুণঃজম্মহীন
আত্মাবাদ । প্রকৃতির দিকে তাকিয়ে আত্মজ্ঞানে যা ধরে নির্বাক হয়ে ভাবছি ।
পাশাপাশি ডারউইনের বিবর্তনবাদ নিয়ে ও গভীর ভাবনায় পড়ছি । এখানে
'আত্মজ্ঞানের' কথা বলছি বলে আত্মাকে স্বীকার করছি তা নয়; বরঞ্চ নিজস্ব
ব্যক্তির পরিধিকে বুঝাতে চেষ্টা করা ।
ইতিহাস হচ্ছে
পরিবর্তনের ইতিহাস; স্থীতিশীলতা বলতে কিছু নেই সেটাইতো বিবর্তন । অনেককিছু
অগোচালো । মানুষরা প্রকৃতিগতভাবে একটু জেদী এবং স্বার্থপর । মহাবিশ্ব একটা
বিস্তরক্ষেত্র; শাখা-প্রশাখা বিস্তৃত । সীমাহীন, অনন্ত তবে পরিবর্তনশীল এবং
বিবর্তনের দিকে অনবরত ধাবিত যাকে বুদ্ধের ভাষায় 'অনিত্য' বলা চলে আর
উপনিসদের ভাষায় 'মহাব্রাক্ষ্ম' বলা হয়ে থাকে ।
বিজ্ঞান আগের
চেয়ে অনেকগুন বেশি অগ্রসর; তাই নতুন দর্শনতত্ত্বের বিকাশ আগের তুলনায় অনেক
কমেছে । বুদ্ধ নাস্তিকতার বিরোধী ছিলেন বলে জানি, তবে তখনকার নাস্তিকগুলো
বর্তমান সময়ের নাস্তিকদের চেয়ে ভিন্ন ছিল । তাদের কাছে 'ভালো-খারাপ' সবই
ছিল অর্থহীন' সোজা কথায় 'কর্ম' বলতে কিছু নেই । তবে বর্তমান সময়ের
নাস্তিকতার মাঝে 'ভালো-খারাপ'কে অনেকবেশি মূল্যায়ন করা হয় 'কর্মকে' ও ।
সাধারণভাবে
দেখলে...পৃথিবীতে সকল মানুষই নাস্তিক এবং সকলেই আবার আস্তিক । ধর্মবিদরা
যে নাস্তিক নন তার প্রমাণ না থাকলে ও তারা যে বিশেষ বিশেষক্ষেত্রে নাস্তিক
তার প্রমাণ মিলে যখন তারা অন্যর দর্শন এবং ধর্মকে অবিশ্বাস করেন; বিপরীতে
নিজের ধর্ম, দর্শনকে অস্তিত্বশীল বলে মনে করেন । বিজ্ঞানের পরিভাষায়
আল্টিমেট বলতে কোন টার্ম এখনো নেই তাদের কাছে এটা বিশ্বাস; বদলে যদি যায়
প্রোটন ভেঙ্গে যদি 'অদৃশ্য শক্তি' হয় তখন চিন্তাধারা বদলাবে ।
পরিশেষে,
আমি না থাকলে, তুমি নেই, তুমি না থাকলে সে নেই । তুমি, আমি এবং সে মিলে
সমাজ গড়েছি, সভ্যতা বানিয়েছি, জাতি রক্ষার জন্য রাষ্ট্রের জন্ম দিয়েছি ।
বৈচিত্রতার জন্য বিচিত্র এই পৃথিবী, তাই সুন্দর । মানবতাই তো হল
ভালো-খারাপের উৎস । প্রকৃতি হচ্ছে আমাদের শিক্ষক । প্রতিটি ধূলিকণা,
গাছপালা, লতাপাতাতে ও রহস্য লুকিয়ে আছে । রহস্য উদ্ভাবনের জন্য বর্তমানের
বিজ্ঞান । পুরাতনকালে বিজ্ঞান ছিল না বলে মানুষ লতাপাতা খেয়ে জীবনধারণ
করেনি তা নয় । সবল দেহ নিয়ে পাহাড় ডিঙিয়েছে তখনকার সভ্যতার মানুষ ।
আয়ুর্বেদ জাতীয় চাইনিজ ট্রাডিশনার চিকিৎসার উপকরণ হলো লতাপাতা, বনজ ফলমূল ।
আমরা সবাই একে অপরের পরিপূরক ।
অস্তিত্বের জন্য লড়াই চলছে,
চলবে অনন্তকাল যতদিন পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে । তাই
অস্তিত্বহীনতাকে উপলব্দি করা প্রয়োজন । যেখানে তুমি, আমি এবং সে বলতে কেউ
থাকবে না সেখানে পৃথিবীর বস্তু-আদর্শকে সংজ্ঞায়ন করবে কে ?
তারপর ও কেন বলছি অস্তিত্বহীন প্রকৃতিঃ যেখানে তুমি, আমি এবং সে বলতে কেউ নেই ।

No comments:
Post a Comment